Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ফুটবল

আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দেওয়া সেই ‘ভুল’ লাল কার্ডের পক্ষে ফিফার সাফাই

স্পোর্টস ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৪ এএম

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যবর্তী কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশ্বে যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল, তার সপক্ষে সাফাই গেয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ভিএআর এর এই বিতর্কিত হস্তক্ষেপকে ফুটবলের 'আইনের চেতনার' সাথে সংগতিপূর্ণ বলেই দাবি করেছে তারা।

কোয়ার্টার ফাইনালের ৭২তম মিনিটে ১-১ সমতায় থাকা অবস্থায় এই বিতর্কিত ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারাদেসের বিরুদ্ধে ফাউলের অভিযোগে পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনহেইরো প্রাথমিকভাবে পারাদেসকে হলুদ কার্ড দেখান। কিন্তু ভিএআর হস্তক্ষেপের পর রিপ্লে দেখে রেফারি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে জানান যে, পারাদেস কোনো ফাউলই করেননি; বরং সুইস ফরোয়ার্ড এমবোলো অভিনয় বা ‘ডাইভিং’ করে রেফারিকে প্রতারিত করার চেষ্টা করেছিলেন।

এর পর রেফারি পারাদেসের হলুদ কার্ড বাতিল করে 'মিস্টেকেন আইডেন্টিটি' বা ভুল খেলোয়াড় চিহ্নিতকরণের ধারাটি প্রয়োগ করে এমবোলোকে হলুদ কার্ড দেখান। আগে থেকেই একটি হলুদ কার্ড থাকায় সেটি দ্বিতীয় হলুদ কার্ডে (লাল কার্ড) পরিণত হয় এবং কান্নায় ভেঙে পড়ে মাঠ ছাড়েন এমবোলো। ম্যাচে পরবর্তীতে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনা ৩-১ গোলে জয়লাভ করে।

ফুটবলের নিয়ম প্রণয়নকারী সংস্থা আইফাব প্রাথমিক পর্যালোচনায় এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে জানিয়েছিল, ‘ভুল খেলোয়াড় চিহ্নিতকরণের’ নিয়মটি মূলত কোনো অপরাধের ভুল অপরাধীকে সংশোধন করার জন্য তৈরি করা হয়েছে, অপরাধের ধরণ বা চরিত্র বদলে দেওয়ার জন্য নয়। অর্থাৎ, ভিএআর কেবল সঠিক অপরাধীকে কার্ড দিতে পারে, তবে কোনো ঘটনার ফাউল বাতিল করে বিপরীত খেলোয়াড়কে ‘ডাইভিং’ এর অপরাধে কার্ড দেওয়ার এখতিয়ার এর নেই।

তবে স্প্যানিশ দৈনিক এএস এবং আর্জেন্টাইন চ্যানেল টিওয়াইসি স্পোর্টস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফা আইএফএবি এর এই যুক্তি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ফিফার দাবি, প্রতিপক্ষের অভিনয় বা প্রতারণার কারণে কোনো নির্দোষ খেলোয়াড় শাস্তির মুখোমুখি হওয়াটা একেবারেই অনুচিত।

ফিফা তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, "কোনো খেলোয়াড়ের সিমুলেশন বা অভিনয়ের কারণে অপর খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে এমন কোনো শৃঙ্খলামূলক শাস্তি হওয়া উচিত নয়, যা পরবর্তীতে আরও বড় পরিণতি (যেমন দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের মাধ্যমে লাল কার্ড পাওয়া বা পরবর্তী ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা) বয়ে আনে। আমরা এটিকে রেফারি বা ভিএআর দলের কোনো ভুল বলে মনে করি না; বরং এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মাঠে প্রকৃত বিচার ও ন্যায়বিচার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।"

ফিফা আরও জানায় যে, টুর্নামেন্ট জুড়ে এই নিয়মটি তারা একইভাবে প্রয়োগ করে এসেছে- যেমনটি যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ে ম্যাচে মিগেল আলমি দে লা ক্রুজকে কেন্দ্র করে ঘটেছিল। পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে দুটি ঘটনায় খেলোয়াড়দের ভুল কার্ডের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য এই নিয়মের সাহায্য নেওয়া হয়েছে।

ফিফা নিশ্চিত করেছে যে তারা আইএফএবি এর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং উভয় সংস্থা নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে যে ব্যাখ্যার এই প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আগামীতে ভিএআর প্রোটোকল পর্যালোচনার সময় ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ বা ভুল খেলোয়াড় চিহ্নিতকরণের ধারাটির ভাষা আরও স্পষ্ট ও সহজবোধ্য করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে রেফারিং নিয়ে এই ধরণের অস্পষ্টতা বা বিতর্কের অবকাশ না থাকে।