Dhaka Mail Logo

স্পোর্টস / ফুটবল

আর্জেন্টিনার ম্যাচে সেই লাল কার্ডটি ছিল ভুল, স্বীকার আইএফএবির

স্পোর্টস ডেস্ক

২৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:২২ পিএম

২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সুইজারল্যান্ডের তারকা ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলোর লাল কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল বলে স্বীকার করেছে ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা আইএফএবি। 

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সার্কুলারে সংস্থাটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ভিএআরের হস্তক্ষেপে এম্বোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী ঠিক হয়নি। এই ঘটনা ম্যাচের ভাগ্যই বদলে দিয়েছিল বলে মনে করছেন অনেকে।

কানসাস সিটির মাঠে দুই দলের লড়াইয়ে নির্ধারিত সময় শেষে স্কোর ছিল ১-১। দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের চ্যালেঞ্জে বক্সের কাছে পড়ে যান এম্বোলো। রেফারি জোয়াও পিনেইরো প্রথমে পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান। কিন্তু ভিএআর রিভিউয়ের পর জানানো হয় পারেদেস ফাউল করেননি। 

তখন রেফারি নিজের সিদ্ধান্ত বদলে এম্বোলোকে অভিনয়ের অভিযোগে হলুদ কার্ড দেন। এটি তার দ্বিতীয় হলুদ কার্ড হওয়ায় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় সুইস ফরোয়ার্ডকে। দশজনের দলে পরিণত হওয়া সুইজারল্যান্ড আর চাপ সামলাতে পারেনি। অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনা ৩-১ গোলে জয় পেয়ে সেমিফাইনালে ওঠে।

তবে আইএফএবি এখন জানিয়েছে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ভিএআরের এভাবে হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ ছিল না। সংস্থাটির ব্যাখ্যা অনুসারে, যে হলুদ কার্ড দ্বিতীয় হলুদ নয়, সেখানে ভিএআর শুধু ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেওয়া হয়েছে কি না তা যাচাই করতে পারে। কিন্তু অপরাধটি আদৌ হয়েছে কি না বা সিদ্ধান্ত বদলানোর এখতিয়ার ভিএআরের নেই।

আইএফএবি আরও বলেছে, ‘যে হলুদ কার্ড দ্বিতীয় হলুদ নয়, সেটি কেবল অপরাধী খেলোয়াড় শনাক্ত করার জন্যই পর্যালোচনা করা যায়, অপরাধ হয়েছে কি না তা যাচাই বা সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য নয়।’

এদিকে, অভিনয় শনাক্ত করতে ভুল পরিচয়ের নিয়ম ব্যবহারের পদ্ধতিটি বিশ্বকাপে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে বলে জানিয়েছে আইএফএবি। তবে ভিএআর প্রটোকলের পুরো পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই পদ্ধতি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহার করা যাবে না।

ম্যাচের পর সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘এই সিদ্ধান্তই আমাদের ম্যাচটা নষ্ট করে দিয়েছে। সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই, কিন্তু এভাবে হারা খুব কষ্টের।’

যদিও আর্জেন্টিনা সেই বিতর্কিত ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে উঠেছিল, তবে টুর্নামেন্টের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি লিওনেল স্কালোনির দল।