স্পোর্টস ডেস্ক
১৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, অন্যদিকে নিউইয়র্কের তরুণ মেয়র; রাজনৈতিক মেরুতে বিপরীত দুই ব্যক্তিত্ব। তবু আজ রোববার ফুটবল বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে তাদের দেখা যাবে একই স্টেডিয়ামে। খেলা দেখতে আসা এই উপস্থিতি যতটা উত্তেজনাপূর্ণ, ততটাই রহস্যময়। কারণ দুজনের মধ্যে কোনো রাজনৈতিক আলোচনা বা হাত মেলানোর কোনো পরিকল্পনাই নেই।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির মুখপাত্র স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দুই নেতার উপস্থিতি শুধু খেলা উপভোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে কোনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা নেই।
গত মাসে এনবিএ ফাইনালেও দুজনকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল। ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের বুলেটপ্রুফ লাক্সারি বক্সে বসা ট্রাম্পকে নিক্স সমর্থকরা দুয়ো দিতে ছাড়েননি। অতিরিক্ত নিরাপত্তার কারণে স্টেডিয়ামের বাইরের ওয়াচ পার্টি বাতিল হয় এবং দর্শকদের অনেক আগেই মাঠে ঢুকতে হয়। সেদিন মেয়র মামদানি ছিলেন একদম সাধারণ দর্শকের মতো, গ্যালারির উপরের সারিতে দাঁড়িয়ে খেলা দেখেছিলেন।
এবারের আয়োজন আরও বড়। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সঙ্গে লড়াইয়ে নামছে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আগেই ঘোষণা করেছেন, বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে।
টুর্নামেন্টের শুরুতে ট্রাম্পের সঙ্গে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ফোন করেছিলেন বলে খবর উঠেছিল। ফিফা সেই অনুরোধ মেনে নিলেও সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের অনেকে এটাকে ভালো চোখে দেখেননি।
ফাইনালকে ‘লেভেল ওয়ান স্পেশাল ইভেন্ট’ ঘোষণা করা হয়েছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ, বিশেষ গোয়েন্দা দল এবং বিস্ফোরক শনাক্তকারী কুকুরসহ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো বিশ্বকাপের গ্যালারিতে বসতে দেখা যায়নি, কিন্তু মেয়র মামদানি শুরু থেকেই সক্রিয়। নিজেকে আর্সেনালের কট্টর সমর্থক ও ‘ফুটবল পাগল’ বলে পরিচয় দেন তিনি। নির্বাচনের আগে ব্রুকলিনে নিয়মিত ফুটবল খেলতেন।
এবার তিনি ফুটবলকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। ‘দ্য মর্নিং পিচ’ নামে ফুটবল ও আবহাওয়া বিষয়ক অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছেন। পার্কগুলো রাতে খুলে রেখে ওয়াচ পার্টির ব্যবস্থা করেছেন। সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মাত্র ৫০ ডলারের জার্সি এনেছেন যা দ্রুত শেষ হয়ে গেছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের জন্য সস্তায় টিকিটের ব্যবস্থাও করেছিলেন। মেক্সিকান রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্র এবং রাইকার্স আইল্যান্ড কারাগারেও খেলা দেখতে দেখা গেছে তাকে।
ফাইনালে কে কোন দলকে সমর্থন করছেন তা এখনো স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প সম্প্রতি স্পেনের সমালোচনা করায় অনেকে ধারণা করছেন তিনি আর্জেন্টিনার পক্ষে। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি বলেছেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
অন্যদিকে মামদানির পছন্দের দল মরক্কো আগেই বিদায় নিয়েছে। ফাইনালের ভবিষ্যদ্বাণী করতে গিয়ে তিনি রসিকতা করে বলেছেন, “যার পক্ষ নিচ্ছি সে-ই হেরে যাচ্ছে। এখন যার নাম নেব, মনে হয় সেই দলটাই হারবে।” আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের বিতর্কিত রেফারিং নিয়ে তিনি আগে বলেছিলেন, “ডাকাতি হয়েছে।”