স্পোর্টস ডেস্ক
১০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে ভয়ংকর গোলমেশিনদের একজন আর্লিং হলান্ড। মাঠে তাঁর বিস্ফোরক গতি, অসাধারণ শারীরিক সক্ষমতা এবং ধারাবাহিক গোল করার দক্ষতা দেখে অনেকেরই ধারণা, হয়তো বিশেষ ধরনের ব্যয়বহুল সাপ্লিমেন্ট বা আধুনিক পুষ্টি প্রযুক্তির ওপরই নির্ভর করেন তিনি। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান এই স্ট্রাইকার জানিয়েছেন, তাঁর শক্তির মূল ভিত্তি গড়ে উঠেছে প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবারের ওপর।
নিজের ইউটিউব ভিডিও ‘ডে ইন দ্য লাইফ অব এ প্রো ফুটবলার’-এ হলান্ড দৈনন্দিন জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস তুলে ধরেছেন। সেখানে দেখা যায়, দিনের শুরুতে তিনি কাঁচা দুধ, ম্যাপল সিরাপ মেশানো কফি, তাজা ডিম এবং টক দইয়ের রুটি খেতে পছন্দ করেন। পাশাপাশি নিয়মিত সকালের রোদে কিছুটা সময় হাঁটাহাঁটিও করেন।
হলান্ডের এই খাদ্যতালিকা নিয়ে মন্তব্য করেছেন মার্কিন স্বাস্থ্যবিষয়ক ইনফ্লুয়েন্সার পল সালাদিনো। ঐতিহ্যবাহী খাবার বেছে নেওয়ার কারণে তিনি হলান্ডকে মজার ছলে ‘ভাইকিং’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, কাঁচা দুধ শরীরের হাড়, ত্বক ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। কিছু গবেষণায় শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ, হাঁপানি ও অ্যালার্জির ঝুঁকি কমার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সালাদিনো আরও বলেন, ডিম উচ্চমানের প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টির অন্যতম উৎস। অন্যদিকে গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি টক দইয়ের রুটি সহজে হজম হয় এবং অন্ত্রের জন্যও উপকারী হতে পারে। তবে রান্নার সময় হলান্ডের নন-স্টিক প্যান ব্যবহারের সমালোচনা করে তিনি স্টেইনলেস স্টিল বা কাস্ট আয়রনের প্যান ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর দাবি, কিছু নন-স্টিক প্যানে ব্যবহৃত পিএফএএস-জাতীয় রাসায়নিক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।

দিনের প্রধান খাবারে হলান্ডের পছন্দ চর্বিযুক্ত গরুর মাংস। স্থানীয় খামার থেকে সংগ্রহ করা রিবআই, টমাহক ও শর্ট রিবসের মতো মাংস তিনি সাধারণত লবণ ও গোলমরিচ দিয়ে উচ্চ তাপে গ্রিল করে খান। সালাদিনোর মতে, ঘাস খাওয়া গরুর চর্বিতে ভিটামিন এ, ই এবং কে২-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম হোলা’র তথ্য অনুযায়ী, কঠোর অনুশীলন ও ম্যাচের শারীরিক চাহিদা পূরণে হলান্ড প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার ক্যালরি গ্রহণ করেন। তাঁর খাদ্যতালিকায় শুধু সাধারণ মাংস নয়, গরুর হৃৎপিণ্ড ও কলিজার মতো পুষ্টিকর অঙ্গও রয়েছে। এছাড়া তাঁর খাদ্যতালিকায় থাকে চিকেন, পাস্তা, স্টেক, মাছ, ডিম, সবজি, কাঁচা দুধ ও মধু। চিনিযুক্ত খাবার সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলেন তিনি।
তার খাদ্যের এ তালিকা দেখে সাবেক ফুটবলার জশ কিং বলেছিলেন হলান্ড ভাল্লুকের মতো খাবার খায়। খুব একটা মন্দ বলেননি! কেননা একটি কালো ভাল্লুক গ্রীস্ম ঋতুতে ৫০০০ ক্যালোরি খাবার খায়। যদিও শীতে এই পরিমাণটা বেড়ে যায়।
প্রামাণ্যচিত্র ‘হালান্দ: দ্য বিগ ডিসিশন’-এ হলান্ড নিজেই জানিয়েছেন, শরীরকে সুস্থ ও শক্তিশালী রাখতে নিয়মিত এসব খাবার খান তিনি। তবে শুধু খাদ্যাভ্যাসই নয়, ফিটনেস ধরে রাখতে প্রতিদিন নিয়মিত স্ট্রেচিং, ফিজিওথেরাপি, রেড-লাইট থেরাপি, আইস বাথ এবং সাউনা সেশনও তাঁর রুটিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক খাবার, কঠোর অনুশীলন এবং নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনই হলান্ডের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের অন্যতম ভিত্তি।