স্পোর্টস ডেস্ক
১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ এএম
প্রথমার্ধেই তিন গোল দিয়ে ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামের হাজার হাজার কানাডিয়ান সমর্থককে উল্লাসে ভাসিয়েছিল দল। কিন্তু ম্যাচের ৫০তম মিনিটে এক মুহূর্তেই পুরো স্টেডিয়াম যেন এক নিস্তব্ধ শ্মশানে পরিণত হলো।
ম্যাচ শেষে কানাডার কোচ জেসি মার্শ সেই ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “ঘটনাটি ঠিক আমাদের চোখের সামনেই ঘটেছে। মাঠের সবাই হাড় ভেঙে যাওয়ার স্পষ্ট শব্দ শুনতে পেয়েছিল।”
আরও পড়ুন- কাতারকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে কানাডার ইতিহাস
বৃহস্পতিবার কাতারকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে কানাডা। কিন্তু এই ঐতিহাসিক এবং মহাকাব্যিক জয়টি ঢাকা পড়ে গেছে মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনের এক নির্মম ও ক্যারিয়ার-হুমকির ইনজুরির ছায়ায়। কাতারের আসিম মাদিবোর পেছন থেকে আসা ফাউলে কোনের পা পুরোপুরি মচকে স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে যায়, যা দেখে মাঠে উপস্থিত খেলোয়াড়দের চোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠে।
মাঠের ভেতরে দুই দলের খেলোয়াড় এবং স্টাফরা তীব্র আবেগে ভেঙে পড়েন। কেউ কাঁদছিলেন, কেউ একে অপরকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। রেফারি প্রথমে মাদিবোকে হলুদ কার্ড দেখালেও ভিএআর পরীক্ষার পর তা লাল কার্ডে রূপ নেয়। এটি ছিল ম্যাচে কাতারের দ্বিতীয় লাল কার্ড, যার ফলে ১০ জনের দল থেকে তারা ৯ জনের দলে পরিণত হয়। ঘটনার প্রায় ৬ মিনিট পর কোনেকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাঁর বদলে মাঠে নামেন ২২ বছর বয়সী মিডফিল্ডার নাথান সালিবা।

মাঠে নেমেই বেলজিয়ামের ক্লাব অ্যান্ডারলেখটে খেলা সালিবা কানাডিয়ানদের এমন এক মুহূর্ত উপহার দেন, যা কেউ সহজে ভুলবে না। ৬৪ মিনিটে এক নিখুঁত ডান পায়ের বাঁকানো ফ্রি-কিকে গোল করে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে আবার প্রাণের সঞ্চার করেন তিনি। তবে গোল করার পর কোনো ঐতিহ্যবাহী উল্লাস না করে, সালিবা দুই হাত দিয়ে কোনের জার্সি নম্বর ‘৮’ প্রদর্শন করেন এবং সাইডলাইনে দৌড়ে গিয়ে কোনের জার্সি উঁচিয়ে ধরেন।
বিশ্বকাপে দেশের হয়ে প্রথম হ্যাটট্রিক করা জোনাথন ডেভিড ম্যাচ শেষে সতীর্থকে নিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “কোনে আমাদের দলের জন্য সবকিছু। আপনি দলের যেকোনো খেলোয়াড়কে জিজ্ঞেস করলে একই কথা বলবে। আমরা তাকে কতটা ভালোবাসি তা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব।”

ঐতিহাসিক এই জয়ের পরও কোনের ব্যথায় পুরো কানাডা দল এতটাই বিষণ্ণ ছিল যে, পরের গোলগুলোর পর তারা প্রায় কোনো উদযাপনই করেনি। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক স্টিফেন ইউস্তাকিও বলেন, “এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। ইসমায়েল আমাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা জানি। তবে আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। সে নিজে চাইবে যেন আমরা পরের ম্যাচটা জিতি, আমরা তার জন্যই তা করব।”
আগামী বুধবার (২৪ জুন) ভ্যাঙ্কুভারেই সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে কানাডা। সেই ম্যাচে মাত্র ১টি পয়েন্ট বা ড্র পেলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে পা রাখবে তারা।