images

স্পোর্টস / ফুটবল

রোনালদো কি পর্তুগালের সবচেয়ে বড় অস্ত্র, নাকি সবচেয়ে বড় প্রশ্ন?

স্পোর্টস ডেস্ক

১৮ জুন ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম

দুই দশক ধরে পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু এক নাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ১৪৩ আন্তর্জাতিক গোল, ২২৯ ম্যাচ, ইউরো শিরোপা এবং অসংখ্য রেকর্ডে নিজেকে দেশের সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে এসে নতুন এক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পর্তুগাল কি এখনও রোনালদোকে কেন্দ্র করেই এগোবে, নাকি সময় এসেছে নতুন প্রজন্মের হাতে আক্রমণের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার?

এই বিতর্কের জন্ম একদিনে নয়। ২০২৪ ইউরো থেকেই প্রশ্নটা জোরালো হতে শুরু করে। জার্মানিতে অনুষ্ঠিত সেই আসরে রোনালদো পাঁচ ম্যাচ খেলেও গোলের দেখা পাননি। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি নেন ২৩টি শট এবং মিস করেন একটি পেনাল্টি। পরিসংখ্যান বলছে, সুযোগ তৈরি হলেও শেষ স্পর্শে কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারেননি পর্তুগালের অধিনায়ক।

২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেও সেই আলোচনা আরও বেড়েছে। কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করা ম্যাচে রোনালদো পূর্ণ সময় খেলেন। তবে ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড তুলনামূলকভাবে কম বল স্পর্শ করেন এবং দ্বিতীয়ার্ধে পাওয়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। ফলে পর্তুগালের আক্রমণভাগে তার প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সমালোচকদের একটি অংশের যুক্তি, বর্তমান পর্তুগাল দলের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের তরুণ ও গতিশীল মিডফিল্ড। ভিটিনিয়া, জোয়াও নেভেস, ব্রুনো ফার্নান্দেস, বার্নার্দো সিলভা কিংবা রাফায়েল লেয়াওয়ের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া এই দলটি হয়তো ইতিহাসের অন্যতম প্রতিভাবান পর্তুগাল। তাই প্রশ্ন উঠছে দলের কৌশল কি এখনও একজন ৪১ বছর বয়সী কিংবদন্তিকে ঘিরে তৈরি হওয়া উচিত?

তবে বিতর্কের অপর পিঠও যথেষ্ট শক্তিশালী। রোনালদো শুধু একজন স্ট্রাইকার নন, তিনি পর্তুগালের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ফুটবলার এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। বয়স বাড়ার সঙ্গে তার ভূমিকা বদলেছে, কিন্তু গোলের সামনে অবস্থান নেওয়া, ডিফেন্ডারদের ব্যস্ত রাখা এবং বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা এখনও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচের পর তিনি রোনালদোকে মাঠ থেকে না তোলার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, বিশ্বের সেরা আন্তর্জাতিক গোলদাতাকে গোল প্রয়োজনের মুহূর্তে তুলে নেওয়ার কোনো অর্থ হয় না।

রোনালদোর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যই ছিল বারবার সমালোচনার জবাব দেওয়া। বয়স যখন তার বিপক্ষে, তখনও তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ছয়টি আসরে খেলা বিরল ফুটবলারদের একজন হয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন।

তাই প্রশ্নটা হয়তো রোনালদো ভালো নাকি খারাপ সেটি নয়। আসল প্রশ্ন হলো, পর্তুগালের বর্তমান ও ভবিষ্যতের ভারসাম্য কোথায়? কিংবদন্তির অভিজ্ঞতা কি দলকে শিরোপার পথে এগিয়ে নেবে, নাকি নতুন প্রজন্মের গতির কাছে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার সময় এসে গেছে? বিশ্বকাপের বাকি পথই হয়তো সেই বিতর্কের সবচেয়ে বড় উত্তর দেবে।