images

স্পোর্টস / ফুটবল

ফ্রান্সের প্রতিশোধ, নাকি সেনেগালের নতুন অঘটন?

স্পোর্টস ডেস্ক

১৬ জুন ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম

বিশ্বকাপের মঞ্চে কিছু ম্যাচ শুধু ৯০ মিনিটের লড়াই নয়, সঙ্গে বয়ে আনে ইতিহাসের ভার। টুর্নামেন্টের এবারের আসরে গ্রুপ ‘আই’-এর প্রথম ম্যাচে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে দুই ভিন্ন স্মৃতির দল ফ্রান্স ও সেনেগাল। একদিকে ২৪ বছর আগের দুঃস্বপ্ন ভুলতে চাওয়া ফরাসিরা, অন্যদিকে সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির স্বপ্ন দেখছে আফ্রিকার লড়াকু দল সেনেগাল।

২০০২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের কথা এখনও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে মনে রাখা হয়। সেবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া সেনেগাল। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছিলেন পাপা বুবা দিয়প। সেই হারই ছিল ফ্রান্সের ব্যর্থ বিশ্বকাপ অভিযানের শুরু। জিনেদিন জিদানবিহীন ফরাসিরা তিন ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়।

দুই দশকেরও বেশি সময় পর আবার মুখোমুখি দুই দল। তবে বদলে গেছে অনেক কিছু। বর্তমান ফ্রান্স দল বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল। ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জেতা ফরাসিরা এবার নামছে তৃতীয় শিরোপার খোঁজে। ২০২২ বিশ্বকাপেও রানার্স-আপ হয়েছিল তারা। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে, দেজিরে দুয়ের মতো তারকাদের নিয়ে আক্রমণভাগে রয়েছে অসাধারণ গভীরতা। বিশেষ করে এমবাপ্পে গত ক্লাব মৌসুমে ৪২ গোল করে বিশ্বকাপে নিজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার অপেক্ষায় আছেন।

অন্যদিকে সেনেগাল আর সেই ২০০২ সালের নতুন দল নয়। এটি তাদের টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ এবং ইতিহাসের চতুর্থ অংশগ্রহণ। ২০০২ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল ও ২০২২ সালে শেষ ষোলোতে ওঠার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। সাদিও মানে, ইদ্রিসা গানা গেইয়ে, ইসমাইল সার ও গোলরক্ষক এদুয়ার মেন্দির মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারদের নিয়ে গড়া দলটি যে কোনো বড় প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি হতে পারে।

এই ম্যাচের আরেকটি আবেগের গল্প সেনেগাল কোচ পাপে থিয়াওকে ঘিরে। ২০০২ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ী সেনেগাল দলের বেঞ্চে একজন খেলোয়াড় হিসেবে ছিলেন তিনি। ২৪ বছর পর আবার সেই ফ্রান্সের বিপক্ষে এবার তিনি দাঁড়াবেন কোচের ভূমিকায়।

তবে ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম মনে করেন, এটি প্রতিশোধের ম্যাচ নয়। কারণ বর্তমান ফরাসি দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই ২০০২ সালের সেই ম্যাচের সময় জন্মও নেননি। তার কাছে এটি নতুন বিশ্বকাপের নতুন একটি চ্যালেঞ্জ।

কাগজে-কলমে, খেলোয়াড়দের মান ও সাম্প্রতিক সাফল্যের বিচারে স্পষ্ট ফেবারিট ফ্রান্স। কিন্তু বিশ্বকাপের ইতিহাস বারবার শিখিয়েছে, ফেবারিটের নাম সবসময় ফল নির্ধারণ করে না। ২০০২ সালে যেমন কেউ সেনেগালের জয় কল্পনা করেনি, তেমনি ২০২৬-এর মঞ্চেও লুকিয়ে থাকতে পারে আরেকটি রূপকথা।

তাই প্রশ্ন একটাই এবার কি ২৪ বছরের পুরোনো ক্ষত ভুলে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করবে ফ্রান্স, নাকি আবারও বিশ্বকে চমকে দেবে সেনেগালের সিংহেরা?