images

স্পোর্টস / ফুটবল

৬ থেকে ২৬, সময় বদলেছে; মেসি বদলাননি

স্পোর্টস ডেস্ক

১৬ জুন ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম

সময় বদলায়, প্রজন্ম বদলায়, ফুটবলের ভাষাও বদলে যায়। কিন্তু কিছু নাম সময়ের সীমানা পেরিয়ে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়। সেই নামগুলোর অন্যতম লিওনেল মেসি। ছয় বছর বয়সে যে ছেলেটি আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল, ২৬ বছরেরও বেশি সময় পেশাদার ও আন্তর্জাতিক ফুটবলের আলোয় কাটিয়েও তার চোখে আজও সেই একই ক্ষুধা, একই আনন্দ।

আগামীকাল আরেকটি নতুন মঞ্চে নামবেন মেসি। নতুন টুর্নামেন্ট, নতুন চ্যালেঞ্জ, নতুন এক অভিষেকের অপেক্ষা। অথচ দৃশ্যটা যেন পরিচিত। কারণ, মেসির ক্যারিয়ারের প্রতিটি নতুন শুরুর আগে এমনই আলোচনা হয়েছে; এবার কী দেখাবেন তিনি? আর প্রতিবারই তিনি প্রমাণ করেছেন, বয়স কেবল একটি সংখ্যা।

রোজারিওর ছোট্ট মাঠ থেকে যাত্রা শুরু। এরপর স্পেনের বার্সেলোনা একাডেমি লা মাসিয়ায় বেড়ে ওঠা। কিশোর বয়সেই বোঝা গিয়েছিল, এই বাম পায়ের জাদুকর অন্যদের মতো নন। বল পায়ে তার নিয়ন্ত্রণ, খেলার গতি বোঝার ক্ষমতা এবং অসম্ভবকে সম্ভব করার দক্ষতা তাকে দ্রুত নিয়ে যায় বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে। সেখান থেকে শুরু হয় এক অবিশ্বাস্য অধ্যায়। গোল, অ্যাসিস্ট, ট্রফি, ব্যক্তিগত পুরস্কার সবকিছুই যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছিল।

সাধারণত ফুটবলারদের ক্যারিয়ারে একটা সময় আসে, যখন গতি কমে যায়, ধার কমে যায়। কিন্তু মেসির ক্ষেত্রে গল্পটা ভিন্ন। তিনি নিজের খেলাকে নতুনভাবে সাজিয়েছেন। আগের মতো হয়তো প্রতিটি ম্যাচে ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে ছুটে যান না, কিন্তু খেলার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ক্ষমতা, নিখুঁত পাস কিংবা মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচের চিত্র বদলে দেওয়ার সামর্থ্য এখনো অটুট। এ কারণেই আজও প্রতিপক্ষ কোচদের প্রথম পরিকল্পনা থাকে মেসিকে কীভাবে থামানো যায়।

২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্য দিয়ে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন পূরণ করেছেন মেসি। অনেকের ধারণা ছিল, এরপর হয়তো তার মধ্যে আগের মতো আগ্রহ থাকবে না। কিন্তু বাস্তবতা উল্টো কথা বলেছে। জাতীয় দল কিংবা ক্লাব যেখানেই খেলেছেন, মেসি দেখিয়েছেন প্রতিযোগিতার আগুন এখনো নিভে যায়নি। প্রতিটি ম্যাচে তিনি জিততে চান, প্রতিটি টুর্নামেন্টে নিজের ছাপ রাখতে চান। আগামীকালের ম্যাচটি মেসির ক্যারিয়ারের আরেকটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। ফুটবল বিশ্ব আবারও তাকিয়ে থাকবে তার দিকে। কারণ অভিষেকের ম্যাচ মানেই বাড়তি প্রত্যাশা, বাড়তি উত্তেজনা।

কিন্তু মেসির গল্পে নতুন কিছু নেই। ক্যারিয়ারের অসংখ্য অভিষেক, অসংখ্য প্রথম ম্যাচ, অসংখ্য নতুন যাত্রা তিনি পার করেছেন। আর প্রায় প্রতিবারই সেই মঞ্চকে নিজের করে নিয়েছেন। আগামীকালও কি দেখা যাবে সেই পরিচিত দৃশ্য? প্রতিপক্ষের ডিফেন্স চিরে দেওয়া কোনো পাস, দূরপাল্লার কোনো জাদুকরী গোল, কিংবা ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়া কোনো মুহূর্ত?

ছয় বছর বয়সে শুরু হয়েছিল যাত্রা। আজ সেই পথ পেরিয়ে তিনি ছাব্বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের আবেগের অংশ। ফুটবলের ইতিহাসে অসংখ্য তারকা এসেছেন, গেছেন। কিন্তু খুব কম খেলোয়াড়ই এমনভাবে সময়কে হার মানাতে পেরেছেন।

আগামীকাল যখন নতুন মঞ্চে আবারও অভিষেক হবে, তখন সেটি কেবল একটি ম্যাচের শুরু নয়। সেটি হবে একজন কিংবদন্তির দীর্ঘ যাত্রার আরেকটি অধ্যায়। ছয় থেকে ছাব্বিশ পথটা দীর্ঘ। কিন্তু মাঠে নামলে মনে হয়, মেসি এখনো আগের মতোই আছেন। সেই একই স্বপ্ন, একই স্পর্শ, একই জাদু নিয়ে। আর এ কারণেই ফুটবল বিশ্ব আজও তার দিকে তাকিয়ে থাকে বিস্ময়ে।