images

স্পোর্টস / ফুটবল

বিশ্বকাপে গোল করেও নেই উদযাপন, নেপথ্যে পিতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধা

স্পোর্টস ডেস্ক

১৫ জুন ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম

মেক্সিকোর মনট্রে স্টেডিয়ামে গতকাল ফিফা বিশ্বকাপে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সুইডেন। ম্যাচের ৭ম মিনিটে ২২ বছর বয়সী মিডফিল্ডার ইয়াসিন আয়ারির এক জাদুকরী দূরপাল্লার শটে ডেডলক ভেঙেছিল সুইডিশরা, যা চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দ্রুততম গোল। তবে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা এই চোখধাঁধানো গোলটি করার পরও মায়াবী এক নীরবতা পালন করলেন আয়ারি। কোনো বন্য উদযাপন না করে কেবল দুই হাত ওপরে তুলে শান্ত দাঁড়িয়ে রইলেন তিনি। সতীর্থরা যখন তাঁকে জড়িয়ে ধরে উৎসবে মাতলেন, আয়ারির মুখে তখনও ছিল আবেগের সংযম।

বিশ্বমঞ্চের এই মহাবড় অর্জনের পরও আয়ারির এমন নির্লিপ্ত প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। তবে এর পেছনে রয়েছে এক আবেগঘন পারিবারিক গল্প ও নিজের শিকড়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।

সুইডেনের সোলনা শহরে জন্ম নেওয়া ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়নের এই মিডফিল্ডারের ধমনিতে বইছে মরক্কো ও তিউনিসিয়ার রক্ত। আয়ারির বাবা একজন তিউনিসিয়ান। সেই সূত্রে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সুইডেনের পাশাপাশি উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়ার হয়ে খেলারও পূর্ণ যোগ্যতা ছিল তাঁর।

যদিও আয়ারি সুইডেনের অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২১ দল পেরিয়ে ২০২৩ সালে দেশটির মূল জাতীয় দলে অভিষিক্ত হন এবং সুইডেনকেই নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেন; কিন্তু বাবার দেশ তথা নিজের পিতৃভূমি তিউনিসিয়ার প্রতি টানটা তাঁর কমেনি বিন্দুমাত্র।

ফুটবল বিশ্বে সাধারণত কোনো খেলোয়াড় তাঁর প্রাক্তন ক্লাবের বিপক্ষে গোল করলে শ্রদ্ধাবোধ থেকে উদযাপন করেন না। আয়ারিও গতকাল বিশ্বমঞ্চে ঠিক সেই চেনা সৌজন্যই দেখালেন। বাবার দেশের বিপক্ষে গোল করে তাদের ফুটবলার ও সমর্থকদের মনে আঘাত দিতে চাননি বলেই এই সংযম।

ম্যাচের ৭ম মিনিটে সুইডিশ ডিফেন্ডার ভিক্টর লিন্ডেলফের একটি লম্বা পাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে তিউনিসিয়ার গোলরক্ষক চামাখ বক্সের বাইরে চলে আসেন। তাঁর ক্লিয়ার করা বলটি ভিক্টর গিওকেরেসের পায়ে লাগলে তিউনিসিয়ার ডিফেন্ডার মনতাসার তালবি তা ব্লক করার চেষ্টা করেন। তবে আলগা বলটি বক্সের ঠিক বাইরে পেয়ে যান আয়ারি। আলতো ছোঁয়ায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের এক বুলেট গতির শটে তিউনিসিয়ার পোস্টের ওপরের কোণ দিয়ে জাল কাঁপান তিনি।

সুইডেন এরপরও আক্রমণাত্মক খেলা ধরে রাখে এবং বেনিয়ামিন নিগ্রেনের পাস ও গিওকেরেসের চমৎকার চেস্ট-নিয়ন্ত্রণ থেকে বল পেয়ে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে দারুণ এক নিচু শটে চামাখকে পরাস্ত করে ব্যবধান ২-০ করেন তারকা স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার ইসাক।

তবে ২-০ তে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি তিউনিসিয়া। প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে হ্যানিবাল মেজব্রির এক দারুণ ক্রস থেকে চমৎকার এক গ্লান্সিং হেডারে সুইডেনের বিকল্প গোলরক্ষক ক্রিস্টোফার নর্ডফেল্ডকে পরাস্ত করে ব্যবধান ২-১ করেন ডিফেন্ডার রিকিক।

যদিও দ্বিতীয়ার্ধে সুইডেনের বিধ্বংসী আক্রমণের সামনে তিউনিসিয়া ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়ে, তবে মনট্রে স্টেডিয়ামের প্রথমার্ধটা ফুটবলপ্রেমীদের মনে থাকবে ইয়াসিন আয়ারির সেই চোখধাঁধানো গোল এবং নিজের শিকড়ের প্রতি দেখানো অসাধারণ এক শ্রদ্ধাবোধের কারণে।