১৫ জুন ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
রবার্তো লোপেসের গল্পটা আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত এবং অনুপ্রেরণাদায়ক কাহিনিগুলোর একটি। ডাবলিনের একটি ব্যাংকে মর্গেজ অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করা এই আইরিশ এবার বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে কেপ ভার্দের হয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে খেলতে নেমে। যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে ইউরোপিয়ান পরাশক্তি এবং টুর্নামেন্ট ফেভারিট স্পেন।
লোপেস যিনি মাঠে 'পিকো' নামে পরিচিত, তার ফুটবল যাত্রা শুরু হয়েছিল একেবারেই সাধারণভাবে। আইরল্যান্ডের ঘরোয়া লিগে তিনি পার্ট-টাইম ফুটবল খেলতেন, পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহ করতেন ব্যাংকে চাকরি করে। তখন তার স্বপ্ন ছিল পেশাদার ফুটবলার হওয়া, কিন্তু পথটা ছিল অনিশ্চিত এবং কঠিন।
২০১১ সালে তিনি রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে একটি মাত্র ম্যাচ খেলেছিলেন। যেখানে তার সঙ্গে ছিলেন ভবিষ্যতের তারকা জন ইগান। কিন্তু এরপর জাতীয় দলে জায়গা পাওয়া বা বড় মঞ্চে উঠে আসা সবই ছিল অনিশ্চিত। দীর্ঘদিন তিনি খেলেছেন বোহেমিয়ান্সের হয়ে, কিন্তু ফুটবলকে পুরো সময়ের পেশা হিসেবে নেওয়ার সুযোগ তখনও আসেনি।

তবে তার জীবন বদলে যায় ২০১৭ সালে। যখন স্টিফেন ব্র্যাডলি শ্যামরক রোভার্সের দায়িত্ব নেন। তিনি লোপেসকে পেশাদার চুক্তির প্রস্তাব দেন এবং ব্যাংকের নিরাপদ চাকরি ছেড়ে পূর্ণকালীন ফুটবলে আসার সুযোগ তৈরি করেন। ঝুঁকিটা ছিল বড়, কারণ তখন আইরিশ লিগে ভবিষ্যৎ একেবারেই অনিশ্চিত। কিন্তু লোপেস সিদ্ধান্ত নেন, স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাবেন।
এই সিদ্ধান্তই তার জীবন বদলে দেয়। ধীরে ধীরে তিনি শ্যামরক রোভার্সের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে ওঠেন এবং পরে দলের অধিনায়কও হন। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় চেলসির মতো ক্লাবের বিপক্ষে খেলেছেন, যদিও ফলাফল সবসময় অনুকূলে ছিল না। তবুও অভিজ্ঞতা তাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার যাত্রা আরও নাটকীয়। কেপ ভার্দের কোচ রুই আগুয়াশ তার বাবার সূত্র ধরে তাকে দলে খুঁজে পান। অবাক করার মতো বিষয় হলো, প্রথম যোগাযোগটি আসে লিঙ্কডইনের মাধ্যমে, যা লোপেস প্রথমে গুরুত্ব দেননি। পরে দ্বিতীয়বার যোগাযোগের পর তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন এবং শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলে যোগ দেন।
রবার্তো এ নিয়ে সাক্ষাৎকারে বলেন, শুরুতে বিষয়টি তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল, কারণ আন্তর্জাতিক দলে ডাক সাধারণত এত অপ্রচলিতভাবে আসে না। কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি কেপ ভার্দের স্কোয়াডে জায়গা করে নেন এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক ঘটে মার্সেইতে একটি ম্যাচে।
এরপর তিনি দুইটি আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে খেলেছেন এবং এখন বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার অপেক্ষায়।