images

স্পোর্টস / ফুটবল

‘ফুটবল উৎসবে’ ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টায় ফিফা সভাপতি

স্পোর্টস ডেস্ক

১৫ জুন ২০২৬, ০৫:২০ পিএম

গত এপ্রিলে ফিফা কংগ্রেসে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের ফুটবল কর্মকর্তাদের এক মঞ্চে এনে হাত মেলানোর একটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল ফিফা সভাপতি জান্নি ইনফান্তিনোর। তবে ফুটবলকে শান্তির হাতিয়ার বানানোর সেই চেষ্টা থেকে দমে যাননি তিনি। এবার সম্পূর্ণ নতুন এক পরিকল্পনার ছক কষেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আগামী সেপ্টেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ফিফার উদ্বোধনী অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল ফেস্টিভ্যালের একদম প্রথম ম্যাচটি ইসরায়েল বনাম ফিলিস্তিন করার প্রস্তাব দিয়েছে ফিফা।

ফিফার অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া গণমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে নিয়ে এসেছে। মূলত মাঠের বাইরের চরম ভূরাজনৈতিক সংঘাতকে ভুলে ফুটবলের সবুজ গালিচায় দুই দেশের নতুন প্রজন্মের মাঝে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য।

গত ৩০ এপ্রিল ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফার বার্ষিক কংগ্রেসে ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিব্রিল রাজউব এবং ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি বাসিম শেখ সুলেমান আলাদাভাবে ডেলিগেটদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন। এরপর ইনফান্তিনো তাঁদের দুজনকে মঞ্চে ডেকে এনে একসাথে ছবি তোলার অনুরোধ করলেও ফিলিস্তিনি সভাপতি রাজউব “আমরা যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি!” বলে সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।

মঞ্চের সেই উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তের পরপরই ইনফান্তিনো এই নতুন অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্টের ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমাদের সামনে একটি সুন্দর অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্ট আসছে, যেখানে আমরা বিশ্বের ২১১টি দেশের সব শিশুকে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানাব। আসুন আমরা শিশুদের জন্য এটি করি। আসুন একসাথে কাজ করি, আপনাদের প্রতি আমার এবং এই পুরো রুমের সমর্থন রয়েছে।’

গত ডিসেম্বরের ফিফা কাউন্সিল মিটিংয়ে অনুমোদিত এই নতুন টুর্নামেন্টটি প্রচলিত ফুটবল ম্যাচের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা হবে। যুব ফুটবলকে আরও আকর্ষণীয় ও সহজ করতে ফিফা এখানে কিছু পরিবর্তন এনেছে:

খেলোয়াড় সংখ্যা: প্রতি দলে প্রথাগত ১১ জনের পরিবর্তে ৭ থেকে ৯ জন খেলোয়াড় অংশ নেবেন।

মাঠ ও সময়: ম্যাচের সময়সীমা হবে সাধারণ ম্যাচের চেয়ে ছোট এবং খেলা হবে তুলনামূলক ছোট পিচে।

ভেন্যু ও লিঙ্গ: ২০২৬ সালের এই প্রথম আসরটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে কেবল ছেলেদের দল অংশ নেবে। আগামী ২০২৭ সালের দ্বিতীয় আসরে অংশ নেবে মেয়েদের দল।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে ফিফার সব ধরণের প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ থাকা রাশিয়াকেও এই অনূর্ধ্ব-১৫ উৎসবে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে, কারণ ফিফা এটিকে প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট না বলে ‘ফুটবল উৎসব’ হিসেবে দেখছে।

হামাসের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণের নীতির কারণে মাঠের বাইরের পরিস্থিতি এখনও থমথমে। তবে ফিফার এই প্রস্তাবের পর ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের একজন মুখপাত্র ইতিবাচক বার্তা দিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের এফএ সভাপতি মোশে জুয়ারেস ফিফা কংগ্রেস সহ সব জায়গায় যা বলেছেন, আমরা এখনও তাতেই অবিচল আছি- ফুটবলকে স্বাভাবিক সম্পর্ক ও শান্তি প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে আমরা আগের চেয়েও বেশি প্রস্তুত। একটি সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য আমাদের হাত সবসময়ই প্রসারিত। আমরা আশা করি ওপারে (ফিলিস্তিন) একজন সাহসী অংশীদার খুঁজে পাব।’

অন্যদিকে, ফিফার এই বহুল আলোচিত প্রস্তাবের বিষয়ে ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। চলমান রাজনৈতিক বৈরিতা এবং গাজার যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে ফিলিস্তিন বা ইসরায়েল- কোনো পক্ষই শেষ পর্যন্ত এই অনূর্ধ্ব-১৫ উৎসবে অংশ নেবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে বিশ্বমঞ্চে দুই দেশের শিশুদের মুখোমুখি করিয়ে ইনফান্তিনোর এই ‘পিস মিশন’ সফল হলে, তা ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক অধ্যায় হয়ে থাকবে।