images

স্পোর্টস / ফুটবল

কাঁটাতারের জীবন থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ তারকা, মাবিলের লড়াইয়ের গল্প

স্পোর্টস ডেস্ক

১৪ জুন ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম

যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে, খালি পায়ে ধুলোমাখা মাঠে স্বপ্ন ছুঁয়ে, আজ অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে লড়ছেন আউয়ার মাবিলে। দক্ষিণ সুদানের যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা এক পরিবারের সন্তান মাবিলের জীবন গল্প শুধু এক ফুটবলারের সাফল্য নয়, বরং অদম্য সাহস ও স্বপ্নের জয়গান।

কেনিয়ার কাকুমা শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেওয়া মাবিলের শৈশব কেটেছে চরম কষ্টের মাঝে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দক্ষিণ সুদান থেকে তার পরিবার পালিয়ে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল। সেখানে খাবার-পানির অভাব, ঘরবাড়ির সংকট ছিল নিত্যসঙ্গী। কিন্তু সেই কঠিন পরিবেশেও ফুটবল ছিল তার একমাত্র আনন্দ ও মুক্তি। প্লাস্টিকের ব্যাগ বা মোজা দিয়ে তৈরি বল নিয়ে খালি পায়ে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতেন তিনি। ফুটবল তাকে সাময়িকভাবে হলেও চারপাশের কষ্ট ভুলিয়ে দিত।

১০ বছর বয়সে মানবিক সহায়তা প্রকল্পের আওতায় পরিবারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান মাবিল। অ্যাডিলেডে নতুন জীবন শুরু হয়। নতুন দেশ, নতুন ভাষা, নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না। তবে ফুটবল আবারও তার সবচেয়ে বড় সঙ্গী হয়ে ওঠে। স্থানীয় যুব পর্যায়ে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে দ্রুত নজর কাড়েন তিনি।

অ্যাডিলেড ইউনাইটেডের হয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেকের পর ইউরোপের ডাক আসে। ডেনমার্কের মিডটজিল্যান্ডে শিরোপা জয় এবং উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার অভিজ্ঞতা হয় তার। এছাড়া পর্তুগাল, স্পেন, তুরস্ক ও সুইজারল্যান্ডের ক্লাবেও খেলেছেন এই উইঙ্গার।

২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলে অভিষেকের পর ধীরে ধীরে দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেন মাবিল। ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে পেরুর বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়সূচক পেনাল্টি করে সকারুজদের বিশ্বকাপে তুলে দেন তিনি। সেই মুহূর্তে তিনি বলেছিলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ জানানোর এর চেয়ে সুন্দর উপায় আর হয় না।

মাঠের বাইরেও মাবিল সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ। ভাইয়ের সঙ্গে মিলে গড়ে তুলেছেন ‘বেয়ারফুট টু বুটস’ ফাউন্ডেশন। এই সংস্থা শরণার্থী ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য খেলাধুলার সরঞ্জাম, চিকিৎসা সহায়তা ও মানবিক সাহায্য প্রদান করে। কাকুমা শিবিরে ফিরে গিয়ে নিজের শৈশবের কথা মনে করে এই উদ্যোগ নেন তিনি। বর্তমানে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে এটি কাজ করে যাচ্ছে।