স্পোর্টস ডেস্ক
১৪ জুন ২০২৬, ০৬:০৫ এএম
২০২৬ বিশ্বমঞ্চে হোঁচট দিয়ে যাত্রা শুরু করল কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল। হেক্সা মিশনের শুরুটা মোটেও সুখকর হলো না পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই আফ্রিকার পরাশক্তি মরক্কোর কাছে পয়েন্ট খোয়ালো সেলেসাওরা। নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে (মেটলাইফ স্টেডিয়াম) শুরুতেই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়া ব্রাজিলকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জাদুকরী গোল ম্যাচে ফেরালেও, শেষ পর্যন্ত ১-১ ব্যবধানের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে সেলেসাওদের। মরক্কোর জমাট রক্ষণ আর গতিময় ফুটবলের সামনে প্রথম ম্যাচেই ব্রাজিলের এমন পয়েন্ট হারানোর ফলে গ্রুপ ‘সি’-এর সমীকরণ শুরুতেই বেশ জমে উঠল।
ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ সৃজনশীলতায় ব্রাজিলের বিপক্ষে লড়েছে মরক্কো। প্রথম ১০ মিনিটে তো সেলেসাওদের উপর রীতিমত ছড়ি ঘুরিয়েছেন আশরাফ হাকিমিরা। এটলাস লায়ন্সরা যেখানে দারুণ সব ড্রিবলিং আর নিখুঁত সব শটে ভক্তদের মনে আশা জোগাচ্ছিলেন তখন কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা ভুগছিলেন বল দখলে রাখতেই। এমনকি ভুল পাসও ছিল অনেক। প্রথম ১০ মিনিটের বেশিরভাগ সময় বল ছিল মরক্কোর নিয়ন্ত্রণে।
আরও পড়ুন- গ্রুপ পর্ব পেরোলেই আর্জেন্টিনার অগ্নিপরীক্ষা, প্রতিপক্ষ যে দল
তবে প্রথম ১০ মিনিট শেষে সেলেসাওরা যেন নিজেদের গুছিয়ে নিতে শুরু করে। বল দখলে আক্রমণে যেতে থাকে তারা। চতুর্দশ মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল।
প্রতিপক্ষ ফুটবলারদের কাটিয়ে দারুণ এক পাস ভাসিয়ে দিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তবে মরক্কোর গোলপোস্টের একেবারে সামনে ভেসে আসা সেই বলে নিজের মাথা ছোয়াতে ব্যর্থ হন ইগর থিয়াগো। এদিকে ব্রাজিল যখন কেবলই নিজেদের গুছিয়ে নিতে শুরু করেছে তখন গোলের দেখা পায় মরক্কো।

ব্রাজিলের রক্ষণকে বোকা বানিয়ে প্রথম গোল পায় দলটি। মাঝমাঠে বল পেয়ে চুলচেরা পাস দেন ব্রাহিম দিয়াজ। সেই পাস ধরে ইসমাইল সাইবারি যখন সামনে এগোচ্ছেন তখন তাঁর সামনে ব্রাজিলের গোলরক্ষক এলিসন বেকার ছাড়া আর কেউ নেই। প্রতিপক্ষের চেষ্টা প্রতিহত করতে ডি বক্সের বাইরেও বেরিয়ে এসেছিলেন বেকার। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন সাইবারি।
এদিকে শুরুতে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়লেও ব্রাজিল ভেঙে পড়েনি। হাইড্রেশন ব্রেকের পর গুছিয়ে খেলতে শুরু করে দলটি। আর ৩২ মিনিটে দলকে সমতায় ফেরান ভিনি। ৩২ তম মিনিটে নিজের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বুলেট গতির এক শটে জালের দেখা পান। ভিনির এই গোল ঠেকানোর চেষ্টা করেও সফল হতে পারেননি ইয়াসিন বৌনো।

দুই দল সমতায় ফেরার পর মরক্কো লিডের আশায় মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে ব্রাজিলের খেলায় তেমন ঝাঁজ খুঁজে পাওয়া যায়নি। এটলাস লায়ন্সরা যখন দল হিসেবে দারুণ সমন্বয় করেছেন সেখানে ব্রাজিল বেশ ভুগেছে মাঝমাঠে। এদিকে প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে দলকে এগিয়ে দেওয়ার দুর্দান্ত এক সুযোগ পেয়েছিলেন লুকাস পাকেতা। দারুণ এক ভলিতে জালের দেখা প্রায় পেয়েই গিয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান এই ফুটবলার। তবে ইয়াসিন বৌনোর ক্ষিপ্রতায় বেঁচে যায় মরক্কো। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধ শেষ হয় সমতায়।

এদিকে বিরতির পর ব্রাজিল যেন ধীরে ধীরে নিজেদের আরও গুছিয়ে নিতে শুরু করে। ক্যাসেমিরো ও রজার ইবানেজের বদলে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দানিলো ও ফাবিনিয়োকে মাঠে নামান আনচেলত্তি। এতে যেন ব্রাজিলের মাঝমাঠে কিছুটা প্রাণ ফিরে আসে। ৫২ মিনিটে সুযোগও এসেছিল সেলেসাওদের। তবে ভিনির পাস থেকে ইগর থিয়াগোর গোল প্রচেষ্টা রুখে দেন মরক্কো গোলরক্ষক।
এদিকে ৬১ মিনিটে দলে আরও দুই পরিবর্তন আনেন আনচেলত্তি। থিয়াগো ও লুকাস পাকেতার বদলে মাঠে নামেন ম্যাথিয়াস কুনিয়া ও লুইজ হেনরিকে। মরক্কোও উঠিয়ে নেয় ব্রাহিম দিয়াজ ও আজেদিনে ওনাহিকে। তবে দুই দলই একাধিক পরিবর্তন আনলেও দ্বিতীয়ার্ধের খেলা যেন ম্যারমেড়েই থেকে যায়। দুই দলই গোল করার চেষ্টায় মরিয়া লড়াই করলেও বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়।

৮৩ মিনিটে রাফিনিয়ার একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় মরক্কো গোলরক্ষকের প্রচেষ্টায়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের উষ্ণ আবহাওয়ায় দুই দলের ফুটবলাররাই শেষ দিকে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে সমতায় শেষ হওয়ার পর দুই দল অতিরিক্ত পায় পুরো ১০ মিনিট।
এই দশ মিনিটেও দুই দলের আক্রমণ- পালটা আক্রমণ চলতে থাকে। তবে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। শেষদিকে অবশ্য জালের দেখা প্রায় পেয়েই গিয়েছিল মরক্কো। তবে ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারের দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় শেষ পর্যন্ত বেঁচে যায় সেলেসাওরা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি শেষ হয় ১-১ সমতায়। বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে হোঁচট খেয়ে তাই হেক্সা মিশনে বড় ধাক্কাই খেল ব্রাজিল। এদিকে ম্যাচটি ড্র হওয়ায় দুই দলই এক পয়েন্ট করে পেয়েছে। ফলে গ্রুপ ‘সি’-এর সমীকরণ শুরুতেই বেশ জমে উঠল।