মো. আবদুল হামিদ
১৩ জুন ২০২৬, ০১:৫০ পিএম
বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের চোখ এখন বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ ঘিরে। আর সেখানে যদি থাকে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ তাহলে তো কথায় নেই। অনেকে হয়তো অবাক হচ্ছেন কথাটি শুনে। হ্যাঁ আপনি ঠিকই শুনেছেন। মাঠের লড়াইয়ে না হলেও এবার বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশেরও একজন মঞ্চ মাতিয়েছেন বিশ্ব তারকাদের সাথে। সেখানে নিজের জন্মভূমিকে দারুণভাবে উপস্থাপন করেছেন বাংলাদেশেরই সন্তান সঞ্জয় দেব।
শনিবার কানাডার টরেন্টো স্টেডিয়ামে হওয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কানাডা ও বসনিয়ার ম্যাচের আগে পারফর্ম করেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে ও সঙ্গীতশিল্পী সঞ্জয় দেব।
বিশ্বের কোটি কোটি ক্রীড়া ভক্তরা যখন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিকে তাকিয়ে আছে, বাংলাদেশের সঞ্জয় দেব তখন বলিউডের হিরোইন নোরা ফাতেহী, মাইকেল বুবলে, অ্যালানিস মরিসেট, আলিসিয়া কারার মতো বিশ্বখ্যাত জনপ্রিয় কানাডিয়ান সংগীতশিল্পীদের সাথে মঞ্চ মাতাচ্ছেন আর বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
_20260613_134859259.jpg)
ম্যাচ শুরুর ঠিক ৯০ মিনিট আগে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানের শুরুতে কানাডার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পরিবেশনা করেন আদিবাসী বংশোদ্ভূত গায়ক উইলিয়াম প্রিন্স। পরে সঞ্জয়, নোরা ফাতেহি ও ভেভেড্রিমের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম।
এ সময় সঞ্জয়কে দেখা যায় বিশেষভাবে তৈরি একটি জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায়। জ্যাকেটের ডান হাতের স্লিভে এম্ব্রয়ডারির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল বাংলাদেশের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় ফুল শাপলা ও সবুজের মাঝে লাল বৃত্তে অঙ্কিত জাতীয় পতাকার নকশা।

শুধু তাই নয়, পারফরম্যান্সের সময় বারবার নিজের স্লিভের দিকে আঙুল নির্দেশ করে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্বকারী নকশাগুলো প্রদর্শন করতে দেখা যায় সঞ্জয়কে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে ভাইরাল সঞ্জয়ের পারফরম্যান্সের সেই মুহূর্ত গুলো। সেখানে বাংলাদেশের এমন অভিনব উপস্থাপনাকে সবাই তাকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন।
খায়ের খাজা নামে এক সোস্যাল এক্টিভিষ্ট সঞ্জয়ের ছবি পোষ্ট দিয়ে ক্যাপশনে লিখেছে, নোরা ফাতেহির পাশের ছেলেটার নাম সঞ্জয় দেব। সে বাংলাদেশী এবং মৌলভীবাজারে জন্ম তার। বেড়ে উঠেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এবং একজন মিউজিক কম্পোজার তিনি। তার পোশাক ছিল সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, যা দেখিয়ে বিশ্ব মঞ্চে জন্মভূমি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন তিনি।
সাহেল আহমেদ নামের এক প্রবাসী সাংবাদিক লিখেছেন, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে হাজারো আলো, কোটি কোটি দর্শক, অসংখ্য ক্যামেরার ভিড়ে বারবার ফিরে গেছেন তার শিকড়ের কাছে। তিনি শুধু গান শোনাতে আসেননি, তিনি যেন সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন এক টুকরো বাংলাদেশ। স্যালুট সঞ্জয় ভাই।

সাইফ হাদি নামে এক দর্শক ফেসবুকে লিখেন, বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করতে ভুলেননি সংগীত শিল্পী সঞ্চয়। সঞ্জয় প্রাউড অফ ইউ।
সোনিয়া আমীন নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী কমেন্টে লিখেছেন, চিন্তা করা যায়! হাজার মাইল দূরে বেড়ে ওঠা ছেলেটার কি অদ্ভুত টান দেশের জন্য। কি নাই, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, শাপলা, জাতীয় পতাকা।
মুজাহিদুল ইসলাম নামে এক দর্শক লিখেছেন, মনে ইচ্ছা থাকলে এভাবেও বাংলাদেশকে তুলে ধরা যায় বিশ্বমঞ্চে। স্যালুট।

সঞ্জয় দেবের জন্ম বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী হিসেবে পরিচিত সিলেট জেলার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। চট্টগ্রামে কাটিয়েছেন শৈশবের বড় একটি অংশ। এরপর পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক এই শিল্পী বাংলা সংগীতের উপাদানকে ইলেকট্রনিক সাউন্ডের সঙ্গে মিশিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি করেছেন।
সংগীতের লড়াইয়ে তিনি বৈশ্বিক। গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে বিচরণ থাকলেও নিজের শেকড়ের প্রতি তাঁর টান প্রবল। এমনকি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ২০২৫ এর থিম সং-এও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। বলিউডের শ্রেয়া ঘোষালের মতো শিল্পীর সঙ্গেও কাজ করেছেন সঞ্জয়।
আরও পড়ুন: নোরা ফাতেহির সঙ্গে কানাডার মঞ্চ মাতালেন বাংলাদেশের সঞ্জয়
সঞ্জয়ের সংগীত প্রযোজনায় কাজ করা শিল্পীদের তালিকায় আছেন হাবিব ওয়াহিদ, তাহসান খান ও জেফার রহমানরা। ২০২৪ সালে মুক্তি পায় হাবিব, সঞ্জয় ও মুজা ত্রয়ীর গান ‘একলা দুনিয়া’। গানটি ইউটিউবে দেখা হয়েছে ৩৭ লাখ বারের বেশি। আর তাহসান, সঞ্জয় ও মুজার গান ‘ভুলে যাব’র ভিউ ছাড়িয়েছে ২৪ লাখ। জেফারের সঙ্গে সঞ্জয়ের গানের শিরোনাম ‘আড়ালে হারালে’, ইউটিউবে গানটি দেখা হয়েছে ৬৫ লাখ বারের বেশি।