স্পোর্টস ডেস্ক
১২ জুন ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘আই’ এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে আফ্রিকার পরাশক্তি সেনেগালের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে অন্যতম হট-ফেভারিট ফ্রান্স। তবে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই ফরাসি শিবিরে আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ দিতে নারাজ দলটির অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। ফেভারিটের তকমা গায়ে লাগিয়ে মাঠে নামার আগে সতীর্থদের কঠোরভাবে সতর্ক করে দিয়েছেন এই রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড।
এই ম্যাচের পেছনে জড়িয়ে আছে ফুটবল ইতিহাসের এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। ২০০২ সালের বিশ্বকাপের সেই উদ্বোধনী ম্যাচের কথা ফুটবলপ্রেমীদের হয়তো এখনো মনে আছে, যেখানে তৎকালীন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে পুরো বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল সেনেগাল। ২৬ বছর পর বিশ্বমঞ্চে সেই একই প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার আগে এমবাপে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মাঠে নিজেদের সেরাটা প্রমাণ না করে অহংকার দেখালে তার ফল হবে মারাত্মক।
সংবাদ সম্মেলনে সেনেগাল ম্যাচ নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানাতে গিয়ে এমবাপে বলেন, “সেনেগালের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ থেকেই আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। আমরা যদি আগেই ভেবে বসি যে আমরাই বিশ্বকাপ জিততে যাচ্ছি, তবে সেনেগালিজরা আমাদের ওপর চড়াও হবে এবং খুব দ্রুতই আমাদের আকাশ থেকে মাটিতে নামিয়ে আনবে।”
পণ্ডিত ও ফুটবল বোদ্ধাদের দেওয়া ‘ফেভারিট’ তকমাটিকে একটি সম্ভাব্য ফাঁদ হিসেবে দেখছেন ফরাসি অধিনায়ক। তিনি বলেন, “ফেভারিট হওয়াটা বিপজ্জনক নয় যদি আপনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। কারণ দিনশেষে কেবল জয়টাই গুরুত্বপূর্ণ। আমি ফ্রান্সের অনেক প্রতিভাবান দল দেখেছি, যারা শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিততে পারেনি।”
২০১৮ ও ২০২২ সালের পর এটি কিলিয়ার এমবাপের ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ হলেও, অধিনায়ক হিসেবে এটিই তার প্রথম বিশ্বমঞ্চ। দিদিয়ের দেশমের অধীনে দলে নিজের ভূমিকা কীভাবে বদলে গেছে, তা নিয়ে এই ফরোয়ার্ড বলেন, “শুরুতে আমি ছিলাম দলের তরুণ প্রতিভা, কেকের ওপর চেরি ফলের মতো। এরপর আমি হয়ে উঠলাম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়, সেই তারকা যাকে কেন্দ্র করে সবাই পরিকল্পনা সাজায়। তখন মানুষ আমার যত্ন নিত। আর এখন, ২০২৬ সালে এসে আমিই সেই ব্যক্তি, যাকে দলের সবার যত্ন নিতে হবে, সবাইকে আগলে রাখতে হবে।”