স্পোর্টস ডেস্ক
১১ জুন ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
যশোরের চৌগাছায় ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনায় আবারও উঠে এসেছে এক পরিচিত নাম- ‘ব্রাজিল বাড়ি’। আট বছর আগে ব্রাজিলের পতাকার রঙে নিজের বাড়ি রাঙিয়ে আলোচনায় আসা ব্রাজিলভক্ত জামির হোসেন এখনও একই আবেগে বেঁচে আছেন। সময়ের সঙ্গে বাড়ির রং কিছুটা ফিকে হয়েছে, কিন্তু ব্রাজিলের প্রতি তার ভালোবাসার রং একটুও মলিন হয়নি।
চৌগাছা-কোটচাঁদপুর সড়কের ইছাপুর বটতলায় দাঁড়িয়ে থাকা তিনতলা বাড়িটি এখন শুধু একটি বাড়ি নয়, বরং স্থানীয়দের কাছে একটি পরিচিত পরিচয়। চৌগাছা শহরের যে কাউকে ‘ব্রাজিল বাড়ি’ কোথায় জিজ্ঞেস করলেই অনায়াসে পথ দেখিয়ে দিতে পারবেন।
চৌগাছা পৌরসভার পাঁচনমনা গ্রামের বাসিন্দা জামির হোসেন ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের আগে নিজের দোতলা বাড়িটি ব্রাজিলের জাতীয় পতাকার সবুজ, হলুদ ও নীল রঙে রাঙিয়ে দেন। সেই সময় থেকেই বাড়িটির নাম হয়ে যায় ‘ব্রাজিল বাড়ি’। বর্তমানে বাড়িটি তিনতলায় উন্নীত হয়েছে। তবে বাহ্যিক পরিচয়ে এখনও বহন করছে ব্রাজিলের রঙিন আবহ।
বাড়িটির নিচতলায় রয়েছে ওয়েভ ফাউন্ডেশনের একটি কার্যালয়। উপরের তলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন জামির হোসেন। চৌগাছা শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ‘ফেমাস অটো’ নামে মোটরসাইকেলের শোরুম এবং টিভি-ফ্রিজের ব্যবসাও পরিচালনা করেন তিনি।

জামির হোসেন বলেন, “আমি ফুটবল ভালোবাসি। আর ফুটবলে আমার প্রিয় দল ব্রাজিল। সেই ভালোবাসা থেকেই ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের আগে বাড়িটিকে ব্রাজিলের পতাকার রঙে সাজিয়েছিলাম। এখনও সেই রং রয়েছে। মানুষ এখন আমার বাড়িটিকে ‘ব্রাজিল বাড়ি’ হিসেবেই চেনে।”
বিশ্বকাপ এলেই এই বাড়ি ঘিরে বাড়তে থাকে কৌতূহল। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে ছবি তোলেন, বাড়িটি ঘুরে দেখেন। অনেকের কাছে এটি হয়ে উঠেছে ফুটবলপ্রেমের এক প্রতীক।
আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এবারও নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন জামির ও তার সহযাত্রীরা। তিনি জানান, ব্রাজিলের সমর্থনে দুই থেকে তিনশ’ মোটরসাইকেল নিয়ে একটি বিশাল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি চলছে।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “২০১৮ সালে প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ করে বাড়িটি রঙ করেছি। এছাড়া প্রায় ২০ হাজার টাকার ব্রাজিলের জার্সি কিনেছিলাম। কিন্তু সেবার ব্রাজিল প্রত্যাশামতো ভালো করতে পারেনি। সেই সময়ের প্রায় ৭৫টি জার্সি এখনও আমার কাছে আছে। এবার সেগুলো নিয়েই শোভাযাত্রা করব।”
তবে একজন প্রকৃত ফুটবলপ্রেমীর মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দলকেও সম্মান করেন জামির। তিনি বলেন, “ফুটবলে জয়-পরাজয় থাকবেই। আমি চাই সুন্দর ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল হোক। শুধু ব্রাজিল নয়, আর্জেন্টিনাও ভালো খেলুক। ক্রিকেটে যেমন ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনা থাকে, ফুটবলে তেমন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে। তবে সেটি কখনও সংঘাতে নয়, আনন্দ-উৎসবে পরিণত হোক।”
গ্রামবাংলায় বিশ্বকাপ এলেই বাড়ির ছাদে পতাকা ওড়ে, পাড়া-মহল্লায় শুরু হয় সমর্থকদের তর্ক-বিতর্ক। কিন্তু সেই উন্মাদনাকে স্থায়ী রূপ দিয়েছেন জামির হোসেন। আট বছর ধরে ‘ব্রাজিল বাড়ি’ শুধু একটি বাড়ির নাম নয়, এটি চৌগাছার ফুটবল সংস্কৃতির একটি অংশ হয়ে উঠেছে।
বিশ্বকাপের অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে আবারও নতুন করে সেজে উঠছে চৌগাছার এই আলোচিত বাড়ি। আর তার সঙ্গে নতুন স্বপ্ন বুনছেন ব্রাজিলভক্ত জামির হোসেন—হয়তো এবার প্রিয় দলের হাতে উঠবে কাঙ্ক্ষিত শিরোপা, আর ‘ব্রাজিল বাড়ি’ হয়ে উঠবে আনন্দ-উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু।