images

স্পোর্টস / ফুটবল

রেকর্ড ও রূপান্তরের বিশ্বকাপ আসর, জেনে নিন ১৬ স্টেডিয়ামের আদ্যোপান্ত

স্পোর্টস ডেস্ক

১১ জুন ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে আজ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ২৩তম আসর। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। তিন দেশের ১৬টি বিশ্বমানের স্টেডিয়াম এই মহোৎসবকে সফল করতে প্রস্তুত। বোস্টন থেকে ভ্যাঙ্কুভার এবং মেক্সিকো সিটি থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত বিস্তৃত এই ভেন্যুগুলোয় বিশ্বের সেরা ফুটবল তারকারা লড়াই করবেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুটের জন্য।

এই আসরটি শুধু দলের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণেই নয়, বরং তিন দেশের যৌথ আয়োজন, বৈচিত্র্যময় স্টেডিয়াম ও অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধার জন্যও ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নিচে রয়েছে ১৬টি ভেন্যুর বিস্তারিত বর্ণনা:

1

১. আটলান্টা স্টেডিয়াম (জর্জিয়া, যুক্তরাষ্ট্র)  
৭৫,০০০ দর্শক ধারণক্ষমতার এই অত্যাধুনিক স্টেডিয়ামটি ২০১৭ সালে নির্মিত। স্পনসরশিপের কারণে মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম নামে পরিচিত। এতে রয়েছে রিট্র্যাক্টেবল ছাদ, ৩৬০-ডিগ্রি হ্যালো ভিডিও ডিসপ্লে এবং বিশ্বমানের সুবিধা। এখানে গ্রুপ পর্বের ৫টি, নকআউটের ৩টিসহ মোট ৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে একটি সেমিফাইনাল রয়েছে। ফেবারিট দল স্পেন এখানে দুটি গ্রুপ ম্যাচ খেলবে। এই ভেন্যু তার আধুনিক স্থাপত্য ও দর্শক-অভিজ্ঞতার জন্য প্রশংসিত।

2_boston

২. বোস্টন স্টেডিয়াম (ম্যাসাচুসেটস, যুক্তরাষ্ট্র)  
বোস্টন শহর থেকে ২২ মাইল দূরে অবস্থিত সমর্থকপ্রিয় জিলেট স্টেডিয়াম-এর বর্তমান ধারণক্ষমতা ৬৫,০০০। ২০০২ সালে নির্মিত এই ভেন্যুতে গ্রুপ পর্বের ৫টি ও নকআউটের ২টিসহ মোট ৭টি ম্যাচ গড়াবে। বিশ্বকাপের আগে ব্যাপক সংস্কার করা হয়েছে, যার ফলে এখন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ২২,০০০ বর্গফুটের আউটডোর হাই-ডেফিনিশন ভিডিও বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলের উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ এখানকার ম্যাচগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

3_dalas_stadium

৩. ডালাস স্টেডিয়াম (টেক্সাস, যুক্তরাষ্ট্র)  
৯৪,০০০ ধারণক্ষমতার এটি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় ভেন্যু। ২০০৯ সালে নির্মিত ও জেরি ওয়ার্ল্ড নামে খ্যাত এই স্টেডিয়ামে সর্বোচ্চ ৯টি ম্যাচ (৫টি গ্রুপ পর্ব ও ৪টি নকআউট) অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার দুটি ম্যাচ এবং একটি সেমিফাইনাল এখানে হবে। ভেতরে রয়েছে ২৫,০০০ বর্গফুটের অতিকায় ভিডিও ডিসপ্লে, যা দর্শকদের অভিজ্ঞতাকে অনন্য করে তোলে।

4_hiu_stadium

৪. হিউস্টন স্টেডিয়াম (টেক্সাস, যুক্তরাষ্ট্র)  
২০০২ সালে নির্মিত ৭২,০০০ ধারণক্ষমতার এই মাঠ এনএফএল দল হিউস্টন টেক্সান্সের হোম গ্রাউন্ড। আমেরিকার প্রথম রিট্র্যাক্টেবল ছাদযুক্ত ভেন্যু হিসেবে পরিচিত। ‘বুল পেন’ সেকশন কট্টর সমর্থকদের জন্য বিখ্যাত। এখানে রাউন্ড অব ১৬-এর একটিসহ মোট ৭টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

5_kanasa_stadium

৫. কানসাস সিটি স্টেডিয়াম (মিজৌরি, যুক্তরাষ্ট্র)  
১৯৭২ সালের ঐতিহাসিক এই স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা ৭৩,০০০। ‘অ্যারোহেড ফিল্ড’ নামে পরিচিত ভেন্যুটি ২০১৪ সালে ১৪২.২ ডেসিবেল শব্দমাত্রা রেকর্ড করে গিনেস বুকে স্থান করে নিয়েছে—বিশ্বের সবচেয়ে জোরালো আউটডোর স্পোর্টস ভেন্যু। এখানে ১টি সেমিফাইনালসহ মোট ৬টি ম্যাচ হবে, যেখানে আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মতো দল খেলবে।

6_los_angle_stadium

৬. লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম (ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র)  
২০২০ সালে নির্মিত ৭০,০০০ ধারণক্ষমতার সোফি স্টেডিয়াম ১৬টি ভেন্যুর মধ্যে সবচেয়ে নতুন ও আধুনিক। ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের উদ্বোধনী ভেন্যুও এটি। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র এখানে তাদের তিনটি গ্রুপ ম্যাচের দুটি খেলবে। কোয়ার্টার ফাইনালসহ মোট ৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

7_miami_stadium

৭. মিয়ামি স্টেডিয়াম (ফ্লোরিডা, যুক্তরাষ্ট্র)  
ফুটবলপ্রেমীদের কাছে হার্ড রক স্টেডিয়াম নামে পরিচিত, ১৯৮৭ সালে নির্মিত এই ভেন্যুর ধারণক্ষমতা ৬৫,০০০। বড় স্পোর্টস ইভেন্ট ও ফর্মুলা ওয়ান রেসের জন্য বিখ্যাত। এখানে কোয়ার্টার ফাইনাল ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচসহ মোট ৭টি ম্যাচ হবে। ব্রাজিল ও পর্তুগাল গ্রুপ পর্বে খেলবে।

neewwor_new_jersy_stadium

৮. নিউ ইয়র্ক/নিউ জার্সি স্টেডিয়াম (নিউ জার্সি, যুক্তরাষ্ট্র)  
ইস্ট রাদারফোর্ডের মেটলাইফ স্টেডিয়াম (ধারণক্ষমতা ৮২,৫০০) হবে টুর্নামেন্টের প্রধান আকর্ষণ। ২০১০ সালে নির্মিত এই মাঠে ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল ম্যাচ। ফাইনালসহ মোট ৮টি ম্যাচ আয়োজিত হবে, যেখানে ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রাজিলের ম্যাচ রয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় মিডিয়া মার্কেটে অবস্থিত এই ভেন্যু বিশ্বকাপকে অনন্য মাত্রা দেবে।

filadia_stadium

৯. ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়াম (পেনসিলভানিয়া, যুক্তরাষ্ট্র)  
লিঙ্কন ফাইনান্সিয়াল ফিল্ড নামে পরিচিত, ২০০৩ সালে নির্মিত ৬৯,০০০ ধারণক্ষমতার এই মাঠে ৬টি ম্যাচ (৫ গ্রুপ + ১ নকআউট) আয়োজিত হবে। গত বছর ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপেও সফলভাবে ম্যাচ আয়োজন করেছে।

sun_dranso_stadium

১০. সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়াম (ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র)  
লেভিস স্টেডিয়াম (৭১,০০০ আসন), সান ফ্রান্সিসকো থেকে ৪০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। এখানে ৬টি ম্যাচ (৫ গ্রুপ + ১ রাউন্ড অব ৩২) অনুষ্ঠিত হবে। আধুনিক নকশা ও প্রযুক্তির জন্য প্রশংসিত।

siatel_sta

১১. সিয়াটল স্টেডিয়াম (ওয়াশিংটন, যুক্তরাষ্ট্র)  
ঘোড়ার খুরের আকৃতির লুমেন ফিল্ড (৬৯,০০০ ধারণক্ষমতা)। খোলা উত্তর প্রান্ত থেকে সিয়াটলের স্কাইলাইন দেখা যায়। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র বনাম অস্ট্রেলিয়াসহ ৬টি ম্যাচ হবে।

torento_stadium

১২. টরন্টো স্টেডিয়াম (অন্টারিও, কানাডা)  
৪৫,০০০ ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়াম কানাডার প্রথম বিশ্বকাপ ভেন্যু। ২০০৭ সালের অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের জন্য নির্মিত, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ স্টাইলের ছাদ রয়েছে। স্বাগতিক কানাডার ম্যাচসহ ৬টি ম্যাচ।

bc_pls_stadium

১৩. বিসি প্লেস ভ্যাঙ্কুভার (ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, কানাডা)  
১৯৮৩ সালে নির্মিত ৫৪,০০০ আসনের আইকনিক স্টেডিয়াম। ২০১৫ নারী বিশ্বকাপের ফাইনাল এখানে হয়েছিল। কানাডার দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচসহ ৬টি ম্যাচ (১ নকআউট + ৫ গ্রুপ)।

mesxcio_s

১৪. মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম (মেক্সিকো সিটি, মেক্সিকো)  
পুনর্নির্মিত ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা (৮৩,০০০ ধারণক্ষমতা)। বিশ্বের প্রথম ভেন্যু যা তিনটি ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। পেলে ও ম্যারাডোনার স্মৃতি বিজড়িত এই মাঠে ১১ জুন মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে উদ্বোধন হবে।

esta_stadium

১৫. এস্তাদিও গুয়াদালাহারা (জালিস্কো, মেক্সিকো)  
এস্তাদিও আকরন (৪৮,০০০ ধারণক্ষমতা)। উঁচু জমির ওপর গোলাকার কলোসিয়াম-ধাঁচের দৃষ্টিনন্দন নকশা। শুধু গ্রুপ পর্বের ৪টি ম্যাচ।

ensta_mexcio

১৬. এস্তাদিও মন্টেরে (নুয়েভো লিওন, মেক্সিকো)  
২০১৫ সালে নির্মিত ৫৩,৫০০ আসনের আধুনিক ভেন্যু। স্পোর্টসের পাশাপাশি কনসার্টের জন্য বিখ্যাত। গ্রুপ পর্বের ৩টি ও রাউন্ড অব ৩২-এর ১টিসহ মোট ৪টি ম্যাচ।