images

স্পোর্টস / ফুটবল

মৃত্যুর হুমকি পেয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে নেমেছিলো যে দল

স্পোর্টস ডেস্ক

১১ জুন ২০২৬, ১০:২৮ এএম

১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানিতে আফ্রিকার প্রতিনিধি হয়ে প্রথমবার খেলতে নেমেছিল জায়ের (বর্তমান ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো)। কিন্তু তাদের অংশগ্রহণ শুধু ফুটবলের ইতিহাসে নয়, মানুষের জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ের গল্প হয়ে উঠেছিল।

জায়েরের তৎকালীন স্বৈরশাসক মোবুতো সেসে সেকো ফুটবলকে নিজের প্রচারের হাতিয়ার বানিয়েছিলেন। বিশ্বকাপে যাওয়ার জন্য খেলোয়াড়দের গাড়ি, বাড়ি ও বড় অঙ্কের টাকার লোভ দেখানো হয়। কিন্তু প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে ২-০ গোলে হারার পর খেলোয়াড়রা জানতে পারেন, সেই টাকা সরকারি কর্মকর্তারা লুটে নিয়েছেন। ক্ষোভে ফুটবলাররা পরের ম্যাচে খেলতে অস্বীকার করেন। শেষ পর্যন্ত ফিফার চাপে তারা মাঠে নামতে বাধ্য হন।

যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে সেই ম্যাচে জায়ের ৯-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়। ম্যাচের ২০ মিনিটের মধ্যেই ৩ গোল খেয়ে বসে তারা। কোচ তখন ছোটখাটো গোলকিপার দিমবি তুবিলান্দুকে (১.৬২ মিটার) নামান, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এটি তখনকার বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের একটি পরাজয় ছিল।

এই লজ্জাজনক হারের পর মোবুতোর পাঠানো মন্ত্রী ও সেনা কর্মকর্তারা খেলোয়াড়দের সরাসরি হুমকি দেন। বলা হয়, ব্রাজিলের বিপক্ষে যদি চার বা তার বেশি গোলে হারে, তাহলে দেশে ফিরলে জেল, নির্যাতন কিংবা মৃত্যু অপেক্ষা করছে। পরিবারের সদস্যদেরও ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়।

ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল ৩-০ গোলে এগিয়ে যায়। আর মাত্র একটি গোল হলেই জায়েরের খেলোয়াড়দের ভয়াবহ পরিণতি হবে। ঠিক তখন ব্রাজিলের রিভেলিনো ফ্রি-কিক নিতে প্রস্তুত। জায়েরের ডিফেন্ডার এমওয়েপু ইলুঙ্গা হঠাৎ দেয়াল থেকে ছুটে গিয়ে বলে লাথি মেরে দূরে পাঠিয়ে দেন।

সারা বিশ্ব এটাকে ‘নিয়ম না জানা’ বলে হাসাহাসি করেছিল। কিন্তু বহু বছর পর ২০১০ সালে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইলুঙ্গা সত্যটা বলেন। তিনি জানান, 'আমি ইচ্ছা করেই করেছিলাম। সময় নষ্ট করার জন্য। আমরা জানতাম, আরেকটা গোল হলেই আমাদের সবার বিপদ। যারা ভিআইপি বক্সে বসে ছিল, তারা আমাদের জীবনের ঝুঁকির কথা ভাবেনি।'

সেই জায়েরই এখন ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো নামে আবার বিশ্বকাপে ফিরেছে। ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বিশ্বকাপে ‘কে’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ পর্তুগাল, কলম্বিয়া ও উজবেকিস্তান।