স্পোর্টস ডেস্ক
১১ জুন ২০২৬, ১০:১৮ এএম
বিশ্বকাপ শুধু শিরোপা জয়ের লড়াই নয়, এটি নতুন তারকার জন্ম দেওয়ারও মঞ্চ। প্রতি আসরেই এমন কিছু তরুণ ফুটবলার উঠে আসেন, যাদের অসাধারণ নৈপুণ্য, সাহসী ফুটবল এবং দুর্দান্ত পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করে নেয়। একসময় পেলের বিস্ময়কর উত্থান, দিয়াগো ম্যারাডোনার জাদুকরী ফুটবল, কিলিয়ান এমবাপের ঝলক কিংবা লিওনেল মেসির বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠার গল্প বিশ্বকাপকেই আরও মহিমান্বিত করেছে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপও তার ব্যতিক্রম হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরং নতুন প্রজন্মের বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান ফুটবলার ইতোমধ্যেই নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়ে রেখেছেন। তাদের মধ্যে এমন কয়েকজন রয়েছেন, যারা আগামী বিশ্বকাপে নিজেদের দেশের সাফল্যের অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারেন।
নিকো পাজ — আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ মাঝমাঠ সেনাপতি
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ফুটবল ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তার তেমন কোনো কারণ নেই। কারণ দেশটি নিয়মিতভাবেই নতুন প্রতিভা উপহার দিয়ে চলেছে। সেই ধারাবাহিকতায় সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি নিকো পাজ। তরুণ এই মাঝমাঠের খেলোয়াড়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা। বল পায়ে তার আত্মবিশ্বাস, নিখুঁত পাস এবং আক্রমণ তৈরির দক্ষতা ইতোমধ্যেই ফুটবল বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে। মাঝমাঠ থেকে খেলার ছন্দ নির্ধারণ করার পাশাপাশি দূরপাল্লার শটেও তিনি কার্যকর।
২০২৬ বিশ্বকাপে যদি তিনি নিয়মিত খেলার সুযোগ পান, তাহলে আর্জেন্টিনার মাঝমাঠে নতুন নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে উঠতে পারেন। সৃজনশীলতা এবং পরিণত ফুটবলবোধের কারণে অনেকেই তাকে আর্জেন্টিনার আগামী দিনের অন্যতম বড় তারকা হিসেবে বিবেচনা করছেন।
দেজিরে দুয়ে— ফ্রান্সের নতুন বিস্ময়
ফরাসি ফুটবল প্রতিভা তৈরির কারখানা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন আলোচিত নাম দেজিরে দুয়ে। অল্প বয়সেই তার গতি, ড্রিবলিং এবং আক্রমণভাগে সৃষ্টিশীলতা ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে। দুয়ে এমন একজন খেলোয়াড়, যিনি একা একটি ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন। উইং থেকে ভেতরে ঢুকে আক্রমণ তৈরি করা, প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে ফেলা এবং গোল করার সুযোগ সৃষ্টি করা; সবকিছুতেই তিনি সমান দক্ষ।
ফ্রান্সের তারকাখচিত দলে জায়গা পাওয়া সহজ নয়। কিন্তু নিজের প্রতিভা দিয়ে তিনি ইতোমধ্যেই নির্বাচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে সুযোগ পেলে তিনি হতে পারেন ফ্রান্সের অন্যতম বড় চমক।
নিকো ও’রিলি— ইংল্যান্ডের নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি
ইংল্যান্ডের ফুটবল এখন এক স্বর্ণযুগ পার করছে। অভিজ্ঞ তারকাদের পাশাপাশি উঠে আসছে একঝাঁক তরুণ প্রতিভা। সেই তালিকায় দ্রুত পরিচিত হয়ে উঠছেন নিকো ও’রিলি।
মাঝমাঠ এবং আক্রমণভাগ দুই জায়গাতেই সমান দক্ষ এই তরুণ ফুটবলার। তার খেলার ধরনে রয়েছে আধুনিক ফুটবলের সব উপাদান। বল নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, আক্রমণে অংশগ্রহণ এবং গোল করার ক্ষমতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ইংল্যান্ড দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠতে পারেন তিনি। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে তরুণদের আত্মপ্রকাশের ইতিহাস নতুন নয়। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপে নিকো ও’রিলি বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
এন্ড্রিক— ব্রাজিলের নতুন গোলমেশিন
বিশ্ব ফুটবলে তরুণ প্রতিভা নিয়ে যত আলোচনা হয়, তার বড় একটি অংশ জুড়ে থাকে ব্রাজিল। আর বর্তমান সময়ে ব্রাজিলের সবচেয়ে আলোচিত তরুণ ফুটবলার নিঃসন্দেহে এন্ড্রিক। অসাধারণ গতি, শক্তিশালী শট এবং গোল করার সহজাত ক্ষমতার কারণে ইতোমধ্যেই তাকে ভবিষ্যতের সুপারস্টার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। খুব অল্প বয়সেই তিনি প্রমাণ করেছেন যে বড় মঞ্চের চাপ সামলানোর মানসিক শক্তি তার রয়েছে।
ব্রাজিলের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়া মতো তারকাদের সঙ্গে এন্ড্রিকের সমন্বয় প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ংকর হতে পারে। ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে পারে তার বিশ্বমঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সেরা সুযোগ। অনেকের বিশ্বাস, ব্রাজিল যদি শিরোপার লড়াইয়ে অনেক দূর যায়, তাহলে তার পেছনে এন্ড্রিকের অবদান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
পেদ্রি— স্পেনের স্বপ্নের কারিগর
যদিও পেদ্রি এখন আর পুরোপুরি নতুন মুখ নন, তবুও তার বয়স এবং সম্ভাবনা বিবেচনায় তাকে এখনও তরুণ প্রজন্মের অন্যতম সেরা ফুটবলার বলা যায়। স্পেনের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা হিসেবে তিনি ইতোমধ্যেই নিজের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। পেদ্রির খেলার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো তার অসাধারণ ফুটবল বুদ্ধিমত্তা। কখন পাস দিতে হবে, কখন আক্রমণে উঠতে হবে এবং কখন খেলার গতি কমিয়ে আনতে হবে। এসব বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অসাধারণ।
স্পেনের আক্রমণভাগের সাফল্যের পেছনে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ বিশ্বকাপে যদি স্পেন শিরোপার লড়াইয়ে এগিয়ে যায়, তাহলে পেদ্রি নিঃসন্দেহে সেই অভিযানের অন্যতম প্রধান নায়ক হবেন।