স্পোর্টস ডেস্ক
১০ জুন ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসর। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে বসবে বিশ্ব ফুটবলের মহাযজ্ঞ, যেখানে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে লাখো সমর্থক, পর্যটক ও সংস্কৃতিপ্রেমীর মিলনমেলা ঘটবে।বিশ্বকাপ শুধু ফুটবলের লড়াই নয়, এটি বিশ্বের বিভিন্ন জাতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক মহাসম্মিলন। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ এই মঞ্চে প্রতিটি দেশের নিজস্ব পরিচয়, ইতিহাস ও সংস্কৃতির ছাপ ফুটে ওঠে তাদের খেলার ধরন, প্রতীক এবং ডাকনামের মধ্য দিয়ে।
মাসব্যাপী এই কার্নিভালে অংশ নেওয়া দলগুলোর প্রায় প্রত্যেকটিরই রয়েছে আলাদা আলাদা ডাকনাম। কোনোটি এসেছে দেশের ইতিহাস থেকে, কোনোটি জাতীয় প্রতীক থেকে, আবার কোনোটি ফুটবলীয় ঐতিহ্য কিংবা সমর্থকদের দেওয়া পরিচিতি থেকে। এসব ডাকনামের পেছনে লুকিয়ে থাকে চমৎকার সব গল্প, যা ভক্তদের কাছে দলগুলোকে আরও বেশি আপন করে তোলে। তাই ভাষ্যকার, সাংবাদিক ও সমর্থকদের মুখেও প্রায়ই শোনা যায় এসব নাম।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল পরিচিত ‘সেলেসাও’ নামে। আর্জেন্টিনা তাদের আকাশি-সাদা জার্সির কারণে ‘লা আলবিসেলেস্তে’, ইংল্যান্ড ‘থ্রি লায়ন্স’, আর পর্তুগাল পরিচিত ‘আ সেলেসাও দাস কিনাস’ নামে। এসব নাম ফুটবলপ্রেমীদের কাছে সুপরিচিত হলেও বিশ্বকাপের অন্যান্য অনেক দলের ডাকনামের পেছনের গল্প অনেকেরই অজানা।
২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে চলুন জেনে নেওয়া যাক আসরে অংশ নেওয়া দেশগুলোর জনপ্রিয় ডাকনাম এবং সেগুলোর পেছনের আকর্ষণীয় ইতিহাস।
হোস্ট দেশ-৩টি
আমেরিকা- স্টার স্ট্রাইপস
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডাকনাম স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস। এটি তাদের জাতীয় পতাকা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সকার ফেডারেশনের ডোরাকাটা লোগোর অনুকরণে এসেছে। দলটি দ্য ইয়াঙ্কস নামেও পরিচিত।
কানাডা- দ্য রেডস
কানাডিয়ান ফুটবল দলের ডাকনাম দ্য রেডস, যা তাদের হোম কিটের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ ছাড়া দলটি তাদের দেশের পতাকায় থাকা ম্যাপেল পাতার দল নামেও পরিচিত। উল্লেখ্য, কানাডার পতাকার মধ্যে একটি ম্যাপেল পাতার চিত্র রয়েছে।
মেক্সিকো- এল ট্রাই
মেক্সিকান দলটি এল ট্রাই নামে পরিচিত। এর অর্থ ত্রিবর্ণ। এটি তাদের জাতীয় পতাকার তিনটি রঙের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
এশিয়ার– ৯টি দল
অস্ট্রেলিয়া– সকারুজ
'সকারুজ' শব্দটির এনেছেন সিডনি-ভিত্তিক সাংবাদিক টনি হর্স্টেড। টনি মূলত অস্ট্রেলিয়ার আইকনিক ক্যাঙ্গারুদের হাইলাইট করতে চেয়েছিলেন। সকার এবং ক্যাঙ্গারু শব্দগুলিকে সকার-রু হিসাবে একটি আলাদা শব্দে ব্যবহার করা হয়েছে এখানে
ইরাক-মেসোপটেমিয়ার সিংহ
প্রাচীন সভ্যতার দেশ মেসোপটেমিয়া (টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল) এবং এর সমৃদ্ধ ইতিহাস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে দলটির নাম রাখা হয় 'মেসোপটেমিয়ার সিংহ'।
ইরান- টিম মেল্লি
ফার্সি ভাষায় টিম মেল্লি এর অর্থ 'জাতীয় দল’। এছাড়া ইরান ফুটবল দলের আরও কয়েকটি ডাকনাম রয়েছে যেমন শিরান ই ইরান যার অর্থ 'ইরানি সিংহ’, শিরদেলান যার অর্থ 'সিংহের হৃদয়’ ও 'পারস্যের রাজপুত্র’ ইত্যাদি।
জাপান- সামুরাই ব্লু
জাপানি দলটিকে তাদের ঐতিহাসিক সামুরাই পটভূমি সামুরাই ব্লুতে সারা বিশ্বে পরিচিতি দিয়েছে।
জর্ডান-আল নাশামা
জর্ডানিয়ান সংস্করণে 'নাশামা' শব্দটি বীরত্ব, সম্মান ও আভিজাত্যের প্রতীক। জর্ডান ফুটবল দল তাদের মাঠে এবং মাঠের বাইরে লড়াইয়ের মনোভাব এবং সাহসিকতার কারণে এই নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।
দক্ষিণ কোরিয়া- তাইগেউক ওয়ারিয়র্স
ভক্তরা প্রায়ই দক্ষিণ কোরিয়া দলটিকে দ্য রেডস নামে ডাকে, যা দলটির প্রধান জার্সির রঙ। তবে তারা 'তাইগেউক ওয়ারিয়র্স’ এবং এশিয়ার সিংহ নামেও পরিচিত। তাইগেউক দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা থেকে পাওয়া প্রতীক।
কাতার– দ্য মেরুন
দলের জার্সির রঙের সঙ্গে মিল রেখে কাতারের ডাকনাম দ্য মেরুন।
সৌদি আরব- আল আখদার
সৌদি আরবের কয়েকটি ডাকনাম রয়েছে। সবচেয়ে জনপ্রিয় হল আল-আখদার, যার অর্থ 'দ্য গ্রিনস’। দলটি সুকুর আল-আখদার নামেও পরিচিত যার অর্থ দাঁড়ায় 'দ্য গ্রিন ফ্যালকনস’। তৃতীয় ডাকনাম- আস-সুকুর আল-আরাবিয়্যাহ বা অ্যারাবিয়ান ফ্যালকনস।
উজবেকিস্তান-হোমা পাখি এবং সাদা নেকড়ে
উজবেকিস্তানের পৌরাণিক ও জাতীয় পাখি হলো 'হোমা'। এটি সুখ, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের প্রতীক এবং দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রতীকেও চিত্রিত আছে। তাদের জাতীয় সংস্কৃতির সাথে মিল রেখেই ফুটবল দলকে এই নামে ডাকা হয়। এছাড়া সাদা নেকড়ে হলো তাদের ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ডাকনাম। উজবেকিস্তানের ঐতিহ্যে নেকড়ে সাহস, শক্তি এবং ঐক্যের প্রতীক। দলের খেলোয়াড়দের লড়াকু মানসিকতা ও মাঠের আগ্রাসী পারফরম্যান্সের কারণে বিশ্ব ফুটবলে তাদেরকে এই পরিচয়ে অভিহিত করা হয়।
আফ্রিকার – ১০টি দল
আলজেরিয়া-লেস ফেনেকস বা 'মরুর শিয়াল'
আলজেরিয়ার ভৌগোলিক অবস্থানের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে রয়েছে সাহারা মরুভূমি। এই অঞ্চলের সবচেয়ে পরিচিত ও অভিযোজিত প্রাণী হলো মরুর শিয়াল। বিশ্ব ফুটবলে আলজেরিয়ার খেলোয়াড়দের ক্ষিপ্র গতির দৌড় এবং আক্রমণাত্মক খেলার স্টাইলের জন্য ভক্ত ও গণমাধ্যম তাদের ভালোবেসে এই নামে ডাকে।
কেপ ভার্দে-ব্লু শার্কস
পর্তুগিজ ভাষায় Tubarões Azuis-এর অর্থ "নীল হাঙর"। আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপরাষ্ট্রের জলসীমায় ব্লু শার্ক বা নীল হাঙরের আধিক্য রয়েছে। দলটির আক্রমণাত্মক ও ক্ষিপ্র ফুটবল খেলার স্টাইলের কারণে এই ডাকনামটি গ্রহণ করা হয়েছে।
কঙ্গো ডিআর-দ্য লেপার্ডস
কঙ্গোর সংস্কৃতিতে চিতাবাঘকে সাহস ও শক্তির প্রতীক মনে করা হয় এবং এটি তাদের জাতীয় প্রতীকেও রয়েছে। মূলত ১৯৭০-এর দশকে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মবুতু সেসে সেকো জাতীয়তাবাদের অংশ হিসেবে ফুটবল দলটির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে 'লেপার্ডস' বা চিতাবাঘ রাখেন।
আইভরি কোস্ট-হাতি
দলটির 'হাতি' নামকরণের পেছনে দেশটির ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জড়িত। একসময় আইভরি কোস্টে প্রচুর হাতি ছিল এবং হাতির দাঁতের (Ivory) বিশাল ব্যবসার কারণে অঞ্চলটি এই নামে পরিচিতি পায়। এই ঐতিহ্য ও শক্তির প্রতীক হিসেবেই ফুটবল দলের এই নামকরণ করা হয়।
মিশর-দ্য ফারাও
মিশরের প্রাচীন রাজাদের 'ফারাও' বলা হতো, যারা তাদের অসীম ক্ষমতা ও ঐতিহ্যের প্রতীক ছিলেন। প্রাচীন এই রাজাদের গৌরব, শক্তি ও বিজয়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে ১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সাংবাদিকতায় মিশরের ফুটবল দলকে প্রথম 'ফারাও' নামে উল্লেখ করা শুরু হয়। পরবর্তীতে এই নাম ও পরিচিতি বিশ্বজুড়ে স্থায়ী হয়ে যায়।
ঘানা- ব্ল্যাক স্টারস
ঘানা ফুটবল দল পরিচিত ব্ল্যাক স্টারস নামে। ঘানার পতাকার কেন্দ্রে কালো তারার কারণে তাদের এ নামে ডাকা হয়।
মরক্কো- দ্য অ্যাটলাস লায়ন্স
ছয়বার বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী মরক্কোকে তাদের জাতীয় পশু বারবারি সিংহের নামানুসারে দ্য অ্যাটলাস লায়ন নামে ডাকা হয়। উল্লেখ্য, বারবারি সিংহকেও অ্যাটলাস সিংহ বলা হত। প্রাণীটি এখন বিলুপ্ত হলেও এক সময় মরক্কোতে পাওয়া যেত।
সেনেগাল- তেরঙ্গার সিংহ
তেরানাগা শব্দ দ্বারা সেনেগালিজ সংস্কৃতিতে উৎকৃষ্ট আতিথেয়তা বোঝায়। এ কারণে সাদিও মানের দলটি তেরঙ্গা লায়ন্স নামে পরিচিত।
দক্ষিণ আফ্রিকা-বাফানা বাফানা
দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় পুরুষ ফুটবল দলের অফিশিয়াল ডাকনাম হলো 'বাফানা বাফানা' (Bafana Bafana), যার জুলু ভাষার আক্ষরিক অর্থ 'ছেলেপেলেরা'। ১৯৯২ সালে বর্ণবাদ যুগের অবসান ঘটিয়ে দলটি যখন আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরে, তখন তরুণ খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে সমর্থক ও সাংবাদিকরা ভালোবেসে এই নামটি দিয়েছিলেন।
তিউনিসিয়া- কার্থেজের ঈগল
কার্থেজ তিউনিসিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ জনগোষ্ঠী এবং এটি একটি প্রাচীন সভ্যতারও অংশ ছিল। আর তিউনিসিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের লোগোতে ঈগলের ছবি দেখতে পাওয়া যায়। সে কারণে দলটি 'কার্থেজের ঈগল' নামে পরিচিত।
উত্তর আমেরিকা– ৬টি দল (হোস্ট ৩টি)
কুরাসাও-ব্লু ওয়েভস
কুরাসাও দ্বীপরাষ্ট্রটি নীল জলরাশির ক্যারিবিয়ান সাগরে অবস্থিত এবং তাদের জাতীয় পতাকার মূল রঙও নীল। মাঠে খেলোয়াড়দের নীল জার্সি এবং সাগরের ঢেউয়ের মতো গতিময় খেলার ছন্দের মিল থেকেই মূলত "ব্লু ওয়েভস" নামটি এসেছে।
হাইতি-লে গ্রেনাডিয়ার্স
হাইতির বিপ্লবী যুদ্ধের সময় সাহসিকতার জন্য হাইতিয়ান সৈন্যদের ফরাসি সামরিক বাহিনীর বিশেষ পদাতিক দলের নামানুসারে 'গ্রেনাডিয়ার' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। ফুটবল মাঠে খেলোয়াড়দের সেই একই রকম সাহসী ও লড়াকু মনোভাব ফুটিয়ে তুলতে পরবর্তীতে এই ঐতিহাসিক নামটি দলের ডাকনাম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।
পানামা-লস কানালেরোস
পানামা ফুটবল দলের প্রধান ডাকনাম হলো 'লস ক্যানালেরোস' (Los Canaleros), যার বাংলা অর্থ 'খাল অঞ্চলের মানুষ'। দেশটির অর্থনীতি ও ভৌগোলিক পরিচয়ের সবচেয়ে বড় প্রতীক বিশ্বখ্যাত পানামা খালের নামানুসারে দলটিকে ভালোবেসে এই নামে ডাকা হয়।
দক্ষিণ আমেরিকার– ৬টি দল
আর্জেন্টিনা- লা আলবিসেলেস্তে
আর্জেন্টিনার জার্সির ডোরা কাটা দাগ এবং পতাকার রং আকাশি নীল এবং সাদা। তাই তারা লা আলবিসেলেস্তে নামে পরিচিত।
ব্রাজিল- সেলেসাও
পর্তুগিজ ভাষায় সেলেসাও অর্থ নির্বাচিত খেলোয়াড়। ব্রাজিলিয়ানরা প্রতিটি ফুটবল দলকে ডাকে 'সেলেসাও' নামে। তবে জাতীয় দলটি স্বতন্ত্র এবং 'দ্য সেলেসাও' নামে পরিচিত।
কলম্বিয়া-লস কাফেতেরোস
কলম্বিয়া বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কফি উৎপাদনকারী দেশ হওয়ায় দেশটির এই বিখ্যাত কফি সংস্কৃতিকে সম্মান জানাতে ফুটবল দলকে ‘লস কাফেতেরোস’ (কফি উৎপাদক) ডাকা হয়। এছাড়া দেশটির জাতীয় পতাকার তিনটি রঙ (হলুদ, নীল ও লাল) এবং জার্সির মিল থেকে দলটির অপর নাম এসেছে ‘ত্রিকোলোর’ (ত্রিবর্ণরঞ্জিত)।
ইকুয়েডর-লা ট্রাইকলার
লা ট্রাইকলার বা লা ত্রি ডাকনামটি মূলত এসেছে ইকুয়েডরের জাতীয় পতাকার তিনটি রঙ থেকে।
প্যারাগুয়ে-লা আলবিরোজা
প্যারাগুয়ের জাতীয় পতাকার রঙ অনুকরণে দলের জার্সিতে লাল ও সাদা ডোরাকাটা নকশা ব্যবহার করায় স্প্যানিশ ভাষায় তাদের "লা আলবিরোজা" (সাদা-লাল) বলা হয়। এছাড়া দেশের প্রধান আদিবাসী গোষ্ঠী ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে দলটিকে তাদের নামানুসারে "লস গুয়ারানিজ" বলা হয়ে থাকে।
উরুগুয়ে- লা সেলেস্তে
উরুগুয়ের ডাকনাম লা সেলেস্তে যার অর্থ স্কাই ব্লু, এটি তাদের জার্সির রংকে স্মরণ করে।
ওশেনিয়ার – ১টি দল
নিউজিল্যান্ড-অল হোয়াইটস
নিউজিল্যান্ডের পুরুষ ফুটবল দল আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে ঐতিহ্যগতভাবে সম্পূর্ণ সাদা রঙের হোম জার্সি ও শর্টস পরে মাঠে নামে। তাদের এই সম্পূর্ণ সাদা পোশাকের বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করেই দলটির নাম দেওয়া হয়েছে 'অল হোয়াইটস'
ইউরোপের – ১৬টি দল
অস্ট্রিয়া-ডাস টিম
ডাস টিম জার্মান শব্দ, যার সহজ অর্থ 'দ্য টিম' বা 'দল'। এই নামটি দিয়ে বোঝানো হয় যে তারা শুধু ব্যক্তিগত তারকাদের ওপর নির্ভর না করে, ঐক্যবদ্ধভাবে একটি 'দল' হিসেবে খেলে।
বেলজিয়াম-রেড ডেভিলস
১৯০৬ সালে বেলজিয়াম দল টানা কয়েকটি ম্যাচে দুর্দান্ত জয় পাওয়ার পর তাদের গতিময় খেলা এবং লাল জার্সির কারণে এই ডাকনামের উৎপত্তি হয়। দলটির এমন অদম্য পারফরম্যান্স দেখে এক ক্রীড়া সাংবাদিক তাদের প্রথম 'লিটল রেড ডেভিলস' বা ছোট লাল শয়তান হিসেবে উল্লেখ করেন, যা পরবর্তীতে 'রেড ডেভিলস' নামে স্থায়ী রূপ নেয়।
বসনিয়া-দ্য ড্রাগনস
বসনিয়ার ফুটবল দলটির ডাকনাম "দ্য ড্রাগনস" এসেছে মূলত দেশটির লোকসাহিত্য ও রূপকথা থেকে, যেখানে ড্রাগনকে শক্তি ও সাহসের প্রতীক মনে করা হয়। পরবর্তীতে দেশটির গণমাধ্যম ও সমর্থকেরা দলের খেলোয়াড়দের আগ্রাসী লড়াইয়ের মানসিকতা দেখে এই নামটি চূড়ান্তভাবে জনপ্রিয় করে তোলে।
ক্রোয়েশিয়া- ককাস্তি
লুকা মডরিচ এ্যান্ড কোং কোকাস্তি ডাকনামে পরিচিত। দেশটি জাতীয় পতাকার প্যাটার্নের কারণেই এমন ডাকনামে পরিচিত।
চেক রিপাবলিক-না রোদনি তিম বা রেপ্রে
চেক প্রজাতন্ত্র জাতীয় ফুটবল দলের মূল পরিচিতি 'না রোদনি তিম' বা 'রেপ্রে'এসেছে মূলত চেক ভাষায় জাতীয় দল ও প্রতিনিধি শব্দের সংক্ষিপ্ত রূপ থেকে। এছাড়া তাদের জাতীয় প্রতীকে থাকা দ্বি-মুখী লেজবিশিষ্ট রূপালী সিংহের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলটিকে কখনো কখনো 'চেক লায়ন্স' বা 'চেক সিংহ' বলেও ডাকা হয়।
ইংল্যান্ড- থ্রি লায়নস
ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের লোগোতে তিনটি সিংহের প্রতীক রয়েছে, যে কারণে ইংলিশ দলটি থ্রি লায়নস নামে পরিচিত।
ফ্রান্স- লেস ব্লুজ
ফরাসি দলটি তাদের জার্সির নীল রঙের কারণে লেস ব্লুস নামে পরিচিত।
জার্মানি- ন্যাশনালেফ
জার্মান জাতীয় ফুটবল দলকে বলা হয় ন্যাশনালেফ, যার অর্থ জাতীয় একাদশ। তারা ডিএফবি ইলেভেন নামেও পরিচিত। এছাড়া চার বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ডাই ম্যানশ্যাফ্ট নামেও ডাকা হয়।
নেদারল্যান্ডস – অরঞ্জে
নেদারল্যান্ডস দলটি তাদের কিটের রঙ এবং দেশটির ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেএনভিবি এর লোগোর সঙ্গে মিল রেখে অরঞ্জে নামে পরিচিত।
নরওয়ে-ড্রিলোস বা লোভেনে
নরওয়ে ফুটবল দলের প্রধান ডাকনাম ড্রিলোস এসেছে তাদের সফল কোচ এগিল ড্রিলো ওলসেনের নাম থেকে। অন্য ডাকনাম "লোভেনে" (সিংহ) এসেছে দেশের জাতীয় প্রতীক এবং রাজকীয় কোট অব আর্মসের সিংহ থেকে।
পর্তুগাল- ওস নেভেগাডোরস
পর্তুগালের বিখ্যাত নাবিকদের একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। তারা নতুন দেশের সন্ধানে সাগর পাড়ি দিয়েছিলেন। তাই জাতীয় দলটি ওস নেভেগাডোরস নামে পরিচিত, যার অর্থ নেভিগেটরস।
স্কটল্যান্ড-দ্য টার্টান আর্মি
স্কটল্যান্ডের সমর্থকরা স্টেডিয়ামে তাদের ঐতিহ্যবাহী চেক নকশার পোশাক ‘টার্টান’ পরে যাওয়ার কারণে তাদের ফুটবল ভক্তদের ‘টার্টান আর্মি’ বলা শুরু হয়। ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপের সময় একটি জনপ্রিয় গানের মাধ্যমে এই নামটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্কটিশ ফুটবল ও তার সমর্থকদের প্রধান পরিচয় হিসেবে স্থায়ী রূপ পায়।
স্পেন- লা রোজা
স্প্যানিশ জাতীয় দল লা রোজা নামে পরিচিত যার অর্থ দ্য রেড ওয়ান। তারা লা ফুরিয়া রোজা নামেও পরিচিত যার অর্থ লাল ফিউরি বা ক্রোধ।
সুইডেন-ব্ল্যাগাল্ট
সুইডিশ ভাষায় Blå অর্থ নীল এবং Gult অর্থ হলুদ। এই দুটি শব্দ একত্রিত হয়ে Blågult গঠন করেছে, যা তাদের দলের অফিসিয়াল ডাকনাম হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
সুইজারল্যান্ড– রসসোক্রসিয়াতি
সুইস ফুটবল দল রসসোক্রসিয়াতি নামে পরিচিত যার অর্থ রেড ক্রস। তারা নাতি নামেও পরিচিত, যার অর্থ সুইসের জাতীয় দল।
তুরস্ক-দ্য ক্রিসেন্ট-স্টারস
উসমানীয় সাম্রাজ্যের সময় থেকেই চাঁদ ও তারা তুরস্কের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রধান অংশ। জাতীয় ফুটবল দল যখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলতে নামে, তখন তাদের জার্সিতে এই প্রতীকটি থাকে। সেখান থেকেই ভক্ত ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো তাদের এই নামে ডেকে থাকে।