স্পোর্টস ডেস্ক
০৭ জুন ২০২৬, ০২:৩১ পিএম
রোমাঞ্চ, তারকা আর কৌশলগত লড়াইয়ের সম্ভাবনায় ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জি’ ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়া ও ওশেনিয়ার চারটি দল বেলজিয়াম, মিশর, ইরান এবং নিউজিল্যান্ড একই গ্রুপে থাকায় এই গ্রুপকে ধরা হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অপ্রত্যাশিত ফলাফলের একটি সম্ভাব্য মঞ্চ হিসেবে।
গ্রুপের সবচেয়ে বড় ফেভারিট হিসেবে ধরা হচ্ছে ইউরোপের শক্তিশালী দল বেলজিয়ামকে। অভিজ্ঞতা আর তারকা খেলোয়াড়দের ওপর ভর করেই তারা আবারও ভালো কিছু করার লক্ষ্য নিয়েছে। তবে এই দলটির সামনে বড় চাপ হলো তাদের ‘সোনালী প্রজন্ম’-এর শেষ অধ্যায়। থিবো কুর্তোয়া, কেভিন ডি ব্রুইন ও রোমেলু লুকাকুর মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের জন্য এটি হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ মঞ্চ। তাই শিরোপা না জিতলেও অন্তত স্মরণীয় কিছু করে বিদায় নেওয়ার লক্ষ্যেই মাঠে নামবে তারা।
অন্যদিকে, আফ্রিকার প্রতিনিধি মিশর গ্রুপের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মোহাম্মদ সালাহ ও ওমর মারমুশের আক্রমণভাগ মিশরকে যেকোনো দলের জন্য বিপজ্জনক করে তুলতে পারে। বিশেষ করে সালাহর জন্য এটি হতে পারে বিশ্বমঞ্চে নিজের ছাপ রেখে যাওয়ার শেষ বড় সুযোগগুলোর একটি। তার অভিজ্ঞতা ও মারমুশের তরুণ গতি, এই জুটি মিশরকে অপ্রত্যাশিত কিছু করে ফেলার ক্ষমতা দিচ্ছে।
এশিয়ার শক্তিশালী দল ইরান আবারও তাদের সংগঠিত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ফুটবল নিয়ে প্রতিপক্ষদের জন্য কঠিন বাধা হয়ে উঠতে পারে। বড় দলের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক দৃঢ়তা ও কৌশলগত শৃঙ্খলা তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। গ্রুপে দ্বিতীয় হলে নকআউট পর্বে সম্ভাব্য বড় প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগও তাদের জন্য আলাদা উত্তেজনা তৈরি করছে।
গ্রুপের সবচেয়ে দুর্বল কাগজে-কলমে দল হিসেবে ধরা হচ্ছে নিউজিল্যান্ডকে। তবে চাপমুক্ত খেলা তাদের বিপজ্জনক করে তুলতে পারে। বড় দলগুলোর বিপক্ষে তারা যদি পরিকল্পিত খেলতে পারে, তাহলে এই গ্রুপের ফলাফলেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে গ্রুপ ‘জি’ হতে যাচ্ছে কৌশল, অভিজ্ঞতা এবং অপ্রত্যাশিত চমকের এক মিশ্রণ। বেলজিয়াম শীর্ষে থাকার অন্যতম দাবিদার হলেও মিশর দ্বিতীয় স্থানের জন্য শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। ইরানের শৃঙ্খলা এবং নিউজিল্যান্ডের লড়াকু মনোভাব এই গ্রুপকে আরও অনিশ্চিত করে তুলবে।