স্পোর্টস ডেস্ক
০৭ জুন ২০২৬, ১০:২৪ এএম
মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে তৈরি হয়েছে কূটনৈতিক টানাপোড়েন। ইরানের দাবি, জাতীয় দলের ফুটবলাররা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেলেও দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও কারিগরি স্টাফদের বড় একটি অংশকে ভিসা দেওয়া হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছে তেহরান।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সব খেলোয়াড় এবং সহায়ক স্টাফদের ভিসা দেওয়া হয়েছে। তবে তারা একই সঙ্গে উল্লেখ করেন, ভিসা প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে কেউ যেন ভুয়া পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই বক্তব্যের পরই প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান। তুরস্কে অবস্থিত দেশটির দূতাবাস এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, খেলাধুলার মতো আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা, নির্বাহী সদস্য এবং কারিগরি পরামর্শকদের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেশনের সভাপতি, সহ-সভাপতি এবং মিডিয়া পরিচালকসহ অন্তত ১৫ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি।
এদিকে ইরান জাতীয় দল তুরস্কে তাদের প্রস্তুতি ক্যাম্প শেষ করে ইতোমধ্যে মেক্সিকোর উদ্দেশে যাত্রা করেছে। বিশ্বকাপ চলাকালে মেক্সিকোতেই দলটির বেস ক্যাম্প থাকবে। দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে দলটির মেক্সিকো পৌঁছানোর কথা রয়েছে। মেক্সিকোয় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, যেসব ভিসা অনুমোদন করা হয়েছে সেগুলোর শর্ত অনুযায়ী ইরানি ফুটবলাররা ম্যাচের দিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করবেন এবং খেলা শেষে একই দিন ফিরে যাবেন।
এক বিবৃতিতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘বাস্তবতা আড়াল করার চেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেছে। তাদের অভিযোগ, ‘ইরানের ফুটবল দলের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত ও বৈষম্যমূলক আচরণকে আপনারা এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।’
ঘটনাটির তদন্তে ফিফার হস্তক্ষেপও চেয়েছে তেহরান। দেশটির কর্মকর্তারা বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
এসটি