স্পোর্টস ডেস্ক
০৬ জুন ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই শুধু মাঠের খেলা নয়, মাঠের বাইরের অদ্ভুত সব গল্পও জায়গা করে নেয় শিরোনামে। কখনো অক্টোপাস, কখনো জ্যোতিষী, আবার কখনো ভক্তদের কল্পনা; ফুটবলকে ঘিরে এই উন্মাদনা যেন আলাদা এক উৎসব। বিশ্বকাপের ইতিহাসে অনেক স্মরণীয় মুহূর্ত আছে, তবে মাঠের বাইরের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল ‘পল দ্য অক্টোপাস’।
২০১০ সালে জার্মানির একটি অ্যাকুরিয়ামে থাকা এই অক্টোপাস বিভিন্ন ম্যাচের ফলাফল আগাম অনুমান করে কোটি ফুটবলভক্তের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে সেই পুরোনো রঙিন উন্মাদনাই আবার ফিরে এসেছে মেক্সিকোতে, তবে এবার কেন্দ্রবিন্দুতে সমুদ্রের প্রাণী নয়। চিড়িয়াখানার হাতি, গরিলা আর বন্য প্রাণীরা।

মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা চিড়িয়াখানায় বিশ্বকাপকে ঘিরে আয়োজন করা হয়েছে এক ব্যতিক্রমী ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ কার্যক্রম। আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। সেই ম্যাচের সম্ভাব্য ফল জানতে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ প্রাণীদের মাধ্যমে প্রতীকীভাবে আয়োজন করে এক মজার পরীক্ষা।
একটি কৃত্রিম ফুটবল মাঠ তৈরি করা হয়, যেখানে দুই পাশে রাখা হয় মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার পতাকা। পতাকার নিচে ছড়িয়ে দেওয়া হয় ঘাস। এরপর সেখানে ছাড়া হয় দুটি হাতি। কিছুক্ষণ দোলাচলে ঘুরে বেড়ানোর পর হাতিগুলো মেক্সিকোর পতাকার দিকেই এগিয়ে গিয়ে ঘাস খেতে শুরু করে। এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় উচ্ছ্বাস। অনেকেই ধরে নেন, ‘হাতির রায়’ মেক্সিকোর পক্ষেই গেছে।

চিড়িয়াখানার কিপার ইভান রেইনোস জানান, এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য শুধু বিনোদন নয়, বরং প্রাণীদের জন্য মানসিক উদ্দীপনা তৈরি করা। তাঁর ভাষায়, প্রাণীদের জন্য এমন কার্যক্রম একটি ধরনের ‘এনরিচমেন্ট’, যা তাদের ইন্দ্রিয় ও আচরণগত সক্রিয়তা বাড়াতে সাহায্য করে।
এখানেই শেষ নয়, ভবিষ্যদ্বাণীর তালিকায় যুক্ত হয় আরও কিছু প্রাণী। ‘চেনচি’ ও ‘ফাউস্তিনা’ নামের দুটি গরিলার সামনে স্পেন ও উরুগুয়ের জার্সি-আকৃতির পিনিয়াটা ঝুলিয়ে দেওয়া হলে একটি গরিলা উরুগুয়ের দিকে ঝুঁকে সেটি বেছে নেয়। একইভাবে ‘মুলুক’ নামের একটি পুমা চেক প্রজাতন্ত্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে থেকে দক্ষিণ কোরিয়াকে নির্বাচন করে। আবার ছয়টি জিরাফের একটি দল কলম্বিয়ার বদলে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের পক্ষে ‘রায়’ দেয়।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের মতে, এসব আয়োজন প্রাণীদের জন্য যেমন আনন্দদায়ক, তেমনি দর্শকদের জন্যও এক ভিন্নধর্মী বিনোদন। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই অদ্ভুত ‘প্রেডিকশন গেম’ ফুটবল উন্মাদনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বহু গুণ।