স্পোর্টস ডেস্ক
০৪ জুন ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মহাযজ্ঞ শুরু হতে যখন আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি, ঠিক তখনই এক বিতর্কিত নির্দেশিকা জারি করল বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। স্টেডিয়ামের অফিশিয়াল আচরণবিধিতে একদম শেষ মুহূর্তে বড় পরিবর্তন এনে ফিফা জানিয়ে দিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে গ্যালারিতে কোনো দর্শক বা সমর্থক নিজেদের সাথে পুনঃব্যবহারযোগ্য পানির বোতল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।
ফিফার এই আকস্মিক ঘোষণা ভক্তদের বেশ চমকে দিয়েছে, কারণ মাত্র এক মাস আগেই সংস্থাটি জানিয়েছিল যে, দর্শকরা চাইলে স্টেডিয়ামের ভেতরে ১ লিটার পর্যন্ত ধারণক্ষমতার যেকোনো খালি, স্বচ্ছ এবং প্লাস্টিকের পুনঃব্যবহারযোগ্য বোতল সাথে রাখতে পারবেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ফিফা জানায়, গত মঙ্গলবার থেকেই নতুন সংশোধিত নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে, যা আগের সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি বাতিল করে দেয়।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ধরণের বোতল, প্লাস্টিক কাপ, জার কিংবা ক্যান নিয়ে গ্যালারিতে বসা যাবে না। ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারি থেকে উত্তেজিত দর্শকরা যাতে মাঠের খেলোয়াড়, রেফারি কিংবা অন্য সমর্থকদের লক্ষ্য করে কোনো কিছু ছুড়ে মারতে না পারেন এবং এর ফলে যাতে কেউ জখম না হন, সেই ঝুঁকি এড়াতেই এই কঠোর পদক্ষেপ।
১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর মাটিতে অনুষ্ঠেয় এই মেগা টুর্নামেন্টে তীব্র গরম একটি বড় ফ্যাক্টর হতে যাচ্ছে। অনেক ভেন্যুতেই ম্যাচ চলাকালীন তাপমাত্রা ২৬ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠানামা করবে বলে আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে স্টেডিয়ামের ভেতরে বোতল নিয়ে ঢুকতে না দিলে দর্শকরা ডিহাইড্রেশন বা জলের শূন্যতায় ভুগবেন কি না এবং স্টেডিয়ামের ভেতরে পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা থাকবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সমর্থক গোষ্ঠী তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সমর্থকদের এই উদ্বেগ দূর করতে রয়টার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ফিফা আশ্বস্ত করেছে যে, স্টেডিয়ামের ভেতরে দর্শকদের জন্য পর্যাপ্ত বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হবে। প্রতিটি আয়োজক শহরের কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে মিলে স্টেডিয়ামের চারপাশ ও ভেতরে ওয়াটার হাইড্রেশন স্টেশন, মিস্টিন ফ্যান এবং কুলিং টেন্টের (ঠান্ডা তাঁবু) ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এছাড়া স্টেডিয়ামের ভেতর ফিফা যে জলের বোতল বিক্রি করবে, তার দাম সাধারণ সময়ে ওই সব স্টেডিয়ামে হওয়া অন্যান্য টুর্নামেন্ট বা কনসার্টের দামের সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা হবে, অর্থাৎ বিশ্বকাপের উছিলায় বাড়তি দাম রাখা হবে না। খেলা চলাকালীন মাঠের বিশৃঙ্খলা এড়াতে ফিফার এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি দর্শকদের কতটা স্বস্তি দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।