images

স্পোর্টস / ক্রিকেট

বাংলাদেশের তথ্য নিতে দুই দেশের প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে আইসিসি

স্পোর্টস ডেস্ক

০১ জুন ২০২৬, ০৭:২১ পিএম

বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনে চলমান অস্থিরতা ও বিসিবির নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) দুই জন প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে। এই সফর বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত আইসিসি বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি আইসিসির বোর্ড সভা শেষে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার ড. মোহাম্মদ মুসাজি (বা মুসাজি) এবং জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের চেয়ারম্যান টাভেঙ্গা মুকুহলানি বাংলাদেশ সফর করবেন। তাঁরা বিসিবির নির্বাচন প্রক্রিয়াসহ সার্বিক ক্রিকেট প্রশাসন নিয়ে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং আইসিসি বোর্ডকে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেবেন। সফরের তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তা হতে পারে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে গত কয়েক মাস ধরে অস্থিরতা চলছে। আগের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইসিসি এ পদক্ষেপ নিয়েছে। বুলবুল সরকারি হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে আইসিসির কাছে আবেদন করেছিলেন। তিনি নিজেকে এখনো বৈধ সভাপতি দাবি করে আদালত ও আইসিসির হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। এর পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক আরও জটিল হয়েছে। ফলে বাংলাদেশকে স্কটল্যান্ড দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যা দেশের ক্রিকেট ভক্তদের মনে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে আইসিসির প্রতিনিধি দলের আগমনকে অনেকে ‘তদন্তমূলক সফর’ হিসেবে দেখছেন। বিসিবির নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে গঠিত হয়েছে এবং আগামী ৭ জুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে আইসিসির সরাসরি পর্যবেক্ষণ বিরল ঘটনা। এটি নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একই সভায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে চলমান টানাপোড়েন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা এবং বিসিসিআইয়ের দেবজিৎ সাইকিয়া ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কা সফর করে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা উভয় দেশেই প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আইসিসি উদ্বিগ্ন বলে মনে হয়।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক জটিলতায় ভুগছে। ২০২৫ সালের পর থেকে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা চলছে। তামিম ইকবালকে অন্তর্বর্তী সভাপতি করা হয়েছে, যিনি খেলোয়াড় হিসেবে সুনামের সঙ্গে আইসিসিতেও কাজ করেছেন। কিন্তু নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ, অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা, খেলোয়াড়দের স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ সূচি সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ায় বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা হতাশ। অনেকে বয়কটের হুমকি দিয়েছিলেন। 

এছাড়া ঘরোয়া লিগ, যুব উন্নয়ন এবং নারী ক্রিকেটের উন্নয়নও পিছিয়ে পড়ছে। আইসিসি চায় সদস্য দেশগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করুক, কিন্তু সরকারি হস্তক্ষেপ না থাকুক। যা আইসিসির সংবিধানে স্পষ্ট। প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিসিবি কর্মকর্তা, খেলোয়াড় প্রতিনিধি, সাবেক কর্মকর্তা এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা হবে। তারা নির্বাচন কমিশনের কাজ, ভোটার তালিকা, প্রার্থী যোগ্যতা এবং সামগ্রিক গভর্ন্যান্স পর্যালোচনা করবেন।