images

স্পোর্টস / ফুটবল

স্বর্ণপদকধারী সাঁতারু, এবার ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে লড়বেন স্পেনের হয়ে

০১ জুন ২০২৬, ০১:২৭ পিএম

ফুটবল বিশ্বের তারকাদের গল্পে সাধারণত থাকে একটাই স্বপ্ন, ছোটবেলা থেকেই ফুটবলকে আঁকড়ে ধরে বড় হওয়া। কিন্তু স্পেনের ফরোয়ার্ড মিকেল ওয়ারসাবালের গল্পটা একটু ভিন্ন। তিনি শুধু একজন সফল ফুটবলারই নন, বরং একজন সাবেক সাঁতারু, জুডো অনুশীলনকারী এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রিধারী ক্রীড়াবিদও। আর সেই বহুমাত্রিক যাত্রার পর এবার তিনি স্পেনের হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে নামতে প্রস্তুত। 

শৈশবে ফুটবলই ছিল না ওয়ারসাবালের একমাত্র ভালোবাসা। ছোটবেলায় তিনি নিয়মিত সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে পদকও জিতেছিলেন। শুধু সাঁতার নয়, বাবার অনুপ্রেরণায় জুডোতেও নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন। একসময় মনে করা হয়েছিল, হয়তো ফুটবলের বদলে অন্য কোনো খেলাতেই তিনি ক্যারিয়ার গড়বেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফুটবলের প্রতি টানই তাকে নিয়ে আসে সবুজ ঘাসের মাঠে। 

পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও পড়াশোনা ছাড়েননি ওয়ারসাবাল। স্পেনের বিখ্যাত ইউনিভার্সিটি অব দেউস্তো থেকে ব্যবসা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ফুটবলের ব্যস্ত সূচির মাঝেও ক্লাস, পরীক্ষা এবং অ্যাসাইনমেন্ট সামলে ডিগ্রি সম্পন্ন করা ছিল তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ওয়ারসাবালের মতে, পড়াশোনা তাকে ফুটবলের চাপ থেকে মানসিকভাবে মুক্ত থাকতে সাহায্য করেছে। 

স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল সোসিয়েদাদের হয়ে পুরো পেশাদার ক্যারিয়ার কাটিয়েছেন ওয়ারসাবাল। ক্লাবটির একাডেমি থেকে উঠে এসে তিনি ধীরে ধীরে দলের অধিনায়ক এবং সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়ে পরিণত হন। ৪০০-এর বেশি ম্যাচ খেলে ১৩০-এরও বেশি গোল করেছেন তিনি। ক্লাবের হয়ে একাধিক শিরোপা জয়ের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ফাইনালগুলোতে গোল করে নিজেকে বড় ম্যাচের খেলোয়াড় হিসেবেও প্রমাণ করেছেন।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে ওয়ারসাবালের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত আসে উয়েফা ইউরো ২০২৪-এ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে তার করা গোলেই স্পেন ইউরোপের সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করে। সেই গোল তাকে স্পেনের নতুন প্রজন্মের অন্যতম নায়ক বানিয়ে দেয়। 

তবে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। হাঁটুর গুরুতর চোটের কারণে তিনি ২০২২ বিশ্বকাপ মিস করেছিলেন। দীর্ঘ পুনর্বাসন শেষে আবারও জাতীয় দলে ফিরেছেন এবং আগের চেয়ে আরও পরিণত ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে-এর আস্থাভাজনদের একজন এখন ওয়ারসাবাল। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিক গোল ও অ্যাসিস্ট করে তিনি বিশ্বকাপ দলে নিজের জায়গা নিশ্চিত করেছেন। ২৯ বছর বয়সে এটি হতে যাচ্ছে তার প্রথম বিশ্বকাপ, যা তার ক্যারিয়ারের আরেকটি বড় মাইলফলক। 

আধুনিক ফুটবলে অনেক তারকাই মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনায় আসেন। কিন্তু মিকেল ওয়ারসাবাল আলাদা হয়েছেন তার বহুমুখী পরিচয়ের কারণে। সাঁতারে পদক জয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন, কঠিন ইনজুরি কাটিয়ে প্রত্যাবর্তন এবং দেশের হয়ে বড় ট্রফি জয়ের গল্প, সব মিলিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন সাফল্য শুধু প্রতিভার নয়, অধ্যবসায় ও শৃঙ্খলারও নাম।

এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে স্পেনের জার্সিতে যখন তিনি মাঠে নামবেন, তখন তার গল্প শুধু একজন ফুটবলারের গল্প থাকবে না; সেটি হবে স্বপ্ন, শিক্ষা, সংগ্রাম ও প্রত্যাবর্তনের এক অনন্য উদাহরণ।