images

স্পোর্টস / ক্রিকেট

বাংলাদেশের পাকিস্তান বধের ২৭ বছর

৩১ মে ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম

১৯৯৯ সালের ৩১ মে। ইংল্যান্ডের নর্দাম্পটন। তখনকার বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল নবাগত বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম আসরেই সবুজ-লাল জার্সিতে টাইগাররা পাকিস্তানকে হারিয়ে লিখে রেখেছিল ইতিহাসের এক সোনালি অধ্যায়।

ক্রিকেটের বিখ্যাত উইজডেন লিখেছিল, 'বাংলাদেশের মানুষের এই উচ্ছ্বাস কোনো কিছু দিয়ে থামানো যাবে না। এটি ছিল তাদের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা দিন। সম্ভবত স্বাধীনতার পর এমন কোনো ঘটনা আর গোটা দেশকে এভাবে আনন্দে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেনি।'

১৯৭১ সালে যাদের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল বাংলাদেশ, সেই পাকিস্তানকে বিশ্বকাপের মাঠে হারিয়ে টাইগাররা ক্রিকেটে নতুন যুগের সূচনা করেছিল। এই জয়কে আজও বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে মনে রাখা হয়।

pak_bd_worldcup1999_northamp

সেবার পাকিস্তান ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট। ওয়াসিম আকরামের নেতৃত্বে দলে ছিলেন সাঈদ আনোয়ার, শহিদ আফ্রিদি, ইনজামাম-উল-হক, সেলিম মালিক, ওয়াকার ইউনিস, শোয়েব আখতারের মতো তারকারা। অন্যদিকে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল তখনও নতুন। আগের ম্যাচগুলোতে ভালো করতে না পারলেও নর্দাম্পটনে তারা অসাধারণ লড়াই করল।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ২২৩ রান তোলে। শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ ৩৯, আকরাম খান ৪২ এবং খালেদ মাহমুদ সুজন ২৭ রান করেন। অতিরিক্ত রানও এসেছিল ৪০টি।

জবাবে পাকিস্তান শুরু থেকেই চাপে পড়ে। ৪২ রানের মধ্যে আফ্রিদি, ইজাজ, আনোয়ার, ইনজামাম ও সেলিম মালিকের উইকেট হারিয়ে দিশেহারা হয়ে যায় তারা। খালেদ মাহমুদ সুজন একাই ৩ উইকেট নেন (১০-২-৩১-৩)। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ১৬১ রানে অলআউট হয়। বাংলাদেশ জয় পায় ৬২ রানে। ম্যাচসেরা হন সুজন।

masud_sujon_1999_world_cup_bd_pak

ম্যাচ শেষে ওয়াসিম আকরাম বলেছিলেন, 'ছোট ভাইয়েরা আমাদের হারিয়েছে, এটা ভালো লাগছে।' আর অধিনায়ক বুলবুল বলেন, 'আমরা ইতিহাস গড়েছি। এই জয় টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পথকে সহজ করবে।'

সত্যিই তাই হয়েছিল। পরের বছর ২০০০ সালে বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা লাভ করে। সেই জয়ের পর থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন যাত্রা, যার সুফল আজ সাকিব-তামিম-মুশফিকদের সময়ে আমরা দেখছি।