স্পোর্টস ডেস্ক
২৫ মে ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই উন্মাদনা, গোলের উৎসব আর কোটি কোটি দর্শকের রোমাঞ্চ। কিন্তু এই জমজমাট উৎসবের পর্দার আড়ালে চলে এক অদৃশ্য বাণিজ্যিক যুদ্ধ। যেখানে ফিফা নামের এক সংস্থা কোনো ইট-পাথর না লাগিয়েই হাজার হাজার কোটি টাকা মুনাফা করে, আর আয়োজক দেশকে বহন করতে হয় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আর্থিক বোঝা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
বিশ্বকাপ আয়োজনে দেশগুলোকে যে পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হয়, তা অনেকের কল্পনারও বাইরে। রাশিয়া ২০১৮ সালে খরচ করেছিল ১৪ বিলিয়ন ডলার। আর কাতার একাই খরচ করেছে প্রায় ২২০ বিলিয়ন ডলার। নতুন শহর, আধুনিক মেট্রো সিস্টেম আর মরুভূমির বুকে গড়ে তোলা আটটি দৃষ্টিনন্দন স্টেডিয়াম। সবকিছু মিলিয়ে এই বিপুল ব্যয়। শুধু স্টেডিয়াম তৈরিতেই গেছে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার।
কাতারের এই বিশাল বিনিয়োগের পেছনে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ছাড়াও ছিল বড় একটি কৌশল। এটি তাদের ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০-এর অংশ গ্যাসনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আধুনিক ও বৈচিত্র্যময় দেশ গড়ে তোলা। কিন্তু বাস্তবে অর্থনৈতিক লাভ খুব সামান্যই হয়েছে। এক মিলিয়নের মতো পর্যটক এলেও অনেকে প্রতিবেশী দেশে থেকে ম্যাচ দেখেছেন। ফলে পর্যটন ও সম্প্রচার মিলিয়ে আয় হয়েছে মাত্র ১.৫ বিলিয়ন ডলারের আশেপাশে।
এই আয়োজনের মূল চালিকাশক্তি ছিল ভূ-রাজনীতি ও সফট পাওয়ার। ছোট দেশ হিসেবে কাতার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান মজবুত করতে চেয়েছে। ২০১৭ সালের বয়কটের পর বিশ্বকাপ হয়ে উঠেছিল তাদের জন্য বিশ্বমঞ্চে ফিরে আসার সবচেয়ে বড় সুযোগ।
অথচ অতীত অভিজ্ঞতা বলে, বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামগুলো পরে প্রায়ই বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকায় দেখা গেছে স্টেডিয়াম বন্ধ করে দেওয়া বা বাস স্ট্যান্ডে পরিণত করার ঘটনা। রক্ষণাবেক্ষণের খরচ আয়ের চেয়ে বেশি হয়ে যায়।
অন্যদিকে ফিফা চার বছরের চক্রে ২০১৯-২০২২ সালে আয় করেছে ৭.৫ বিলিয়ন ডলার। কাতার বিশ্বকাপ থেকেই এসেছে ৬.৩ বিলিয়ন। টিভি স্বত্ব, স্পনসরশিপ, লাইসেন্সিং সব মিলিয়ে মুনাফার পাহাড় গড়েছে তারা। সুইজারল্যান্ডে নন-প্রফিট হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে কর দেয় না, আর রিজার্ভ ফান্ড এখন ৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।