স্পোর্টস ডেস্ক
২৩ মে ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
মাইকেল ক্যারিক স্থায়ী প্রধান কোচ হিসেবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর ওল্ড ট্রাফোর্ডে আনন্দের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিলেন অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেস। এক ম্যাচ হাতে রেখেই প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসের এক অনন্য অ্যাসিস্টের রেকর্ড স্পর্শ করার এবং দলকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফিরিয়ে নেওয়ার পুরস্কার হিসেবে শনিবার (২৩ মে, ২০২৬) অফিশিয়ালি প্রিমিয়ার লিগের ‘প্লেয়ার অব দ্য সিজন’ বা মৌসুম সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
চলতি মৌসুমে মাঠের ফুটবলার হিসেবে অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন ৩১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ মিডফিল্ডার। সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রে তিনি ছুঁয়েছেন ২০টি অ্যাসিস্টের সেই ঐতিহাসিক ম্যাজিক ফিগার, যা এর আগে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে যৌথভাবে কেবল আর্সেনাল কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি এবং ম্যান সিটি মহাতারকা কেভিন ডি ব্রুইনা করে দেখাতে পেরেছিলেন। অ্যাসিস্টের এই পাহাড় গড়ার পাশাপাশি রেড ডেভিলদের জার্সিতে লিগে নিজে ৮টি গুরুত্বপূর্ণ গোলও করেছেন ওল্ড ট্রাফোর্ডের এই প্রাণভোমরা।
এবারের মৌসুম সেরার দৌড়ে ব্রুনো ফার্নান্দেসকে লড়তে হয়েছে এক কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে। তালিকায় তার সাথে মনোনীত ছিলেন সদ্য প্রিমিয়ার লিগের শিরোপাজয়ী আর্সেনালের তিন প্রধান তারকা- গ্যাব্রিয়েল, গোলরক্ষক ডেভিড রায়া ও ডেকলান রাইস। এছাড়াও সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিলেন ম্যান সিটির গোলমেশিন আর্লিং হালান্দ ও অ্যান্টোইন সেমেনিও, নটিংহ্যাম ফরেস্টের মরগান গিবস-হোয়াইট এবং ব্রেন্টফোর্ডের ইগর থিয়াগো। কিন্তু সবাইকে পেছনে ফেলে সেরার মুকুট ছিনিয়ে নেন ব্রুনো।
এই মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের সেরা ক্রিয়েটর বা প্লেমেকার হিসেবে ব্রুনো ফার্নান্দেস প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে সর্বোচ্চ ১৩২টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন, যা লিগের অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে অনেক বেশি। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা লিভারপুলের ডমিনিক সোবোসলাই তৈরি করতে পেরেছেন ৮৯টি সুযোগ। মাঠের এই রাজকীয় পারফরম্যান্সের কারণে চলতি মাসের শুরুতেই সাংবাদিকদের ভোটে তিনি 'এফডব্লিউএ বর্ষসেরা পুরুষ ফুটবলার' নির্বাচিত হন এবং পঞ্চমবারের মতো জিতে নেন ইউনাইটেডের ঐতিহ্যবাহী 'স্যার ম্যাট বাসবি প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার' পুরস্কার।
তবে ব্রুনোর জন্য রেকর্ড বুক নতুন করে লেখার সুযোগ এখনই শেষ হয়ে যায়নি। আগামী রবিবার মৌসুমের শেষ ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড যখন ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিওনের মাঠে খেলতে নামবে, তখন আর একটি মাত্র অ্যাসিস্ট করলেই অঁরি ও ডি ব্রুইনাকে ছাড়িয়ে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এক মৌসুমে এককভাবে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের মালিক বনে যাবেন এই পর্তুগিজ জাদুকর।