images

স্পোর্টস / ক্রিকেট

পাকিস্তানের হারে হতাশ ওয়াসিম আকরাম প্রশংসায় ভাসালেন বাংলাদেশকে

স্পোর্টস ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম

বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের টানা দুটি টেস্ট হারের পর খোলামেলা ও অকপট মূল্যায়ন করেছেন পাকিস্তানের পেস কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম। সফরকারীদের এমন পারফরম্যান্সে তিনি যেমন হতাশা প্রকাশ করেছেন, তেমনই লাল বলের ক্রিকেটে স্বাগতিকদের অভাবনীয় ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন। আজ শেষ দিনের সকালে পাকিস্তানের শেষ ৩টি উইকেট তুলে নিয়ে জয় নিশ্চিত করার মাধ্যমে সিরিজ নিজেদের পকেটে পুরে নেয় বাংলাদেশ।

এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয় নিশ্চিত হলো। এর আগে ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে দুই টেস্টের সিরিজে পাকিস্তানকে হারানোর পর, এই ফরম্যাটে তাদের বিরুদ্ধে সাফল্যের মুকুটে আরও একটি নতুন পালক যুক্ত করল লাল-সবুজের দল।

সিরিজের ওপর আলোকপাত করে আকরাম সব বিভাগেই বাংলাদেশের উন্নতির প্রশংসা করেন, বিশেষ করে নিজেদের ঘরের মাঠের কন্ডিশন বা পরিস্থিতি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে তাঁদের পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গি এবং খেলোয়াড় তৈরির প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেন। এর মাঝে তিনি বিশেষভাবে তরুণ ফাস্ট বোলিং প্রতিভাদের উত্থানের কথা উল্লেখ করেন, যা তার মতে পাকিস্তানকে পুরোপুরি ব্যাকফুটে ঠেলে দিতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।

ওয়াসিম আকরাম বলেন, "বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানকে দ্বিতীয়বারের মতো এভাবে হেরে যেতে দেখাটা সত্যিই ভীষণ হতাশাজনক। তবে বিজয়ী দলকে পুরো কৃতিত্ব এবং পূর্ণ নম্বর দিতেই হবে, কারণ তাঁরা একদম নিখুঁত ও পরিপূর্ণ ক্রিকেট খেলেছে।"

Screenshot_2026-05-20_143637

আকরাম বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতির এক বড় পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন, "বাংলাদেশ আগে সাধারণত নিচু বাউন্স, ধীরগতির এবং অতিরিক্ত স্পিন-বান্ধব উইকেট তৈরি করত; কিন্তু এখন তাঁরা চমৎকার টেস্ট পিচ বানাচ্ছে। যা তাঁদের দ্রুত উঠে আসা তরুণ পেসারদের সাহায্য করছে এবং এই পেসাররাই গতিতে হারিয়ে দিয়েছে পাকিস্তানকে। বাংলাদেশ এখন এই ফরম্যাটে বিশ্বের যেকোনো সেরা দলের সাথে লড়াই করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। আর নাহিদ রানা কী অসাধারণ এক প্রতিভা! ওর বোলিং দেখাটা সত্যিই চোখ জুড়ানো এক অভিজ্ঞতা। অভিনন্দন বাংলাদেশ।"

৪৩৭ রানের এক বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তাইজুল ইসলামের চমৎকার স্পিন জাদুর মুখে পড়ে ৯৭.২ ওভারে ৩৫৮ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান। পাকিস্তানের পক্ষে একমাত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, যিনি ১৬৬ বলে ১০টি চারের সাহায্যে ৯৪ রানের এক বীরত্বপূর্ণ ও লড়াই করা ইনিংস খেলেন। এছাড়া শেষের দিকে সাজিদ খান ৩৬ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ২৮ রান করে ম্যাচ বাঁচানোর এক শেষ চেষ্টা করেছিলেন।

বাংলাদেশের পক্ষে তাইজুল ইসলাম ৩৪.২ ওভারে ১২০ রান খরচ করে একাই ৬টি উইকেট শিকার করে দুর্দান্ত এক পারফরম্যান্স উপহার দেন। এছাড়া নাহিদ রানা নেন ২টি উইকেট এবং শরিফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ প্রত্যেকে ১টি করে উইকেট নিয়ে দলের এই নিয়ন্ত্রিত ও ধারাবাহিক বোলিং আক্রমণে অবদান রাখেন।