images

স্পোর্টস / ক্রিকেট

বাংলাদেশের কাছে হেরে নেতৃত্ব ছাড়ছেন পাকিস্তান অধিনায়ক!

স্পোর্টস ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ০২:২২ পিএম

মিরপুরের পর এবার সিলেট- পাক বধের মহাকাব্য সম্পূর্ণ করল বাংলাদেশ। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক হোয়াইটওয়াশ নিশ্চিত করেছে টিম টাইগার্স। আর ঘরের মাঠে বাংলাদেশের কাছে এমন নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক সিরিজ হারের পর পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়কের পদ থেকে শান মাসুদের পদত্যাগ এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।

২০২৩ সালে বাবর আজম পদত্যাগ করার পর পাকিস্তানের টেস্ট দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল শান মাসুদের কাঁধে। তবে শুরু থেকেই তাঁর অধিনায়কত্ব ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ হেরে যাত্রা শুরু করা মাসুদ পিসিবির চরম অস্থিরতার মাঝে ১৬টি টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে মাত্র ৪টি ম্যাচে জয়ের মুখ দেখলেও ১২টি ম্যাচেই হারের স্বাদ তেতো করেছে তাঁর ক্যারিয়ার। মাত্র ২৫ শতাংশ জয়ের হার নিয়ে ৩৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের অধিনায়কত্বের অধ্যায় এখন খাদের কিনারায়।

আজ বুধবার ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে শান মাসুদ নিজের পদত্যাগের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে এক আবেগঘন বক্তব্য রাখেন। অধিনায়কত্বের চেয়ার আঁকড়ে ধরার কোনো মানসিকতা তার নেই জানিয়ে মাসুদ বলেন, "আমার উদ্দেশ্য একদম পরিষ্কার। আমি যদি টেস্ট ক্রিকেটে কোনো ভূমিকা নিয়ে থাকি, তবে তা ছিল টেস্ট ক্রিকেটের উন্নতির জন্য। এমন কিছু বিষয় আছে যা বোর্ডের সাথে আলোচনা ও বিতর্ক করা প্রয়োজন, এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সবসময় বোর্ডের হাতেই থাকে। আমার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সবসময়ই ছিল এই দলের উন্নতির পথ খুঁজে বের করা। আপনাকে সবসময় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে এবং একই সাথে সুযোগকেও লুফে নিতে হবে।"

নেতৃত্বের দায়িত্বের বাইরেও পাকিস্তান ক্রিকেটের প্রতি তার নিবেদনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে মাসুদ বলেন, দলের মধ্যে তিনি যে পদেই থাকুন না কেন, তার খেলার ধরণ ও মানসিকতা অপরিবর্তিত থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করা সবসময়ই তাঁর কাছে অত্যন্ত গর্ব ও কর্তব্যের বিষয়।

তিনি বলেন, "যেকোনো ভূমিকায় থাকলেই আমার প্রচেষ্টা একই রকম থাকবে। এটা জরুরি নয় যে আমাকে কেবল অধিনায়কের চেয়ারে বসেই কথা বলতে হবে, একজন খেলোয়াড় হিসেবেও আমি একই ভূমিকা রাখতে পারি। আমরা জানি না জীবন আমাদের কোথায় নিয়ে যায়। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, এটাই সবসময় আমার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। আমি অত্যন্ত গর্বের সাথে এই জার্সি গায়ে জড়িয়েছি এবং এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাকি সবকিছু একপাশে সরিয়ে রেখে কাজ করেছি।"

সিলেটের উইকেটে দুই ইনিংসেই পাকিস্তানের ব্যাটারদের দায়িত্বজ্ঞানহীন পারফরম্যান্স এবং একের পর এক ভুল নিয়ে আক্ষেপ করেন এই অধিনায়ক। তিনি বলেন, "টেস্ট ক্রিকেট হলো ধৈর্যের খেলা, এখানে সামান্যতম ভুলেরও কোনো ক্ষমা নেই। পাঁচ দিনের ম্যাচে আপনি ছোট একটা ভুল করলেই তার চড়া মাসুল দিতে হবে সম্পূর্ণ দলকে। আমাদের এখন বড় পরিবর্তনের চেয়ে নিজেদের ভুলগুলো চিনে তা কমানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে।"