স্পোর্টস ডেস্ক
১৬ মে ২০২৬, ০৯:২১ পিএম
পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। মিরপুর টেস্টে দাপুটে জয় তুলে নেওয়া টাইগাররা আজ মাঠে নেমেছে সিলেট টেস্টে। পাকিস্তানের বিপক্ষে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে এক পর্যায়ে ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছিল স্বাগতিকরা। তবে দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেছেন লিটন দাস। একপ্রান্ত আগলে রেখে দুর্দান্ত এক শতক হাঁকিয়েছেন তিনি। তাঁর এই সেঞ্চুরিতেই অল আউট হওয়ার আগে টাইগাররা পেয়েছে ২৭৮ রানের সংগ্রহ।
টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের ষষ্ঠ শতক হাঁকানো লিটন দিন শেষে এসেছিলেন সংবাদ সম্মেলনে। তিনি বলেন, ‘রানের চাপ সবারই থাকে। আপনি যখন ফিল্ডারদের ছড়িয়ে দেবেন, আউট হওয়ার সুযোগ কমবে। কিন্তু রান করার সুযোগ যদি দেখেন, আমার কিন্তু পেস বলে ছক্কা মেরে রান করতে হয়েছে। খুব একটা সহজ ছিল না। আউটফিল্ড অনেক স্লো। আর ভাগ্যের কথা, ক্রিকেটে তো সব সময় আপনার এক শতে এক শ হবে না। কিন্তু নির্দিষ্ট দিনে ভাগ্য সহায় হলে আরও কাজে লাগে।’
১১৬ রানে যখন ৬ উইকেট নেই দলের, লিটনের তখন ব্যাট করতে হয়েছে শেষের দিকের ব্যাটারদের নিয়ে। এমন সময় ড্রেসিং রুমে বার্তাও পাঠিয়েছিলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি যখন নেমেছি, তখন উইকেটটা একটু কঠিন ছিল। আমি জানি না যে খেলাটা এত দূরে যাবে। যখন শুরুতে যাই মনে হচ্ছিল, আমাদের টেলএন্ডের অবস্থা খুব একটা ভালো না। চিন্তা ছিল, যদি আমরা মারতে যাই, যদি আরও ৩০ রান করে অলআউটও হয়ে যাই, অন্তত কঠিন কন্ডিশনে আমাদের বোলাররা বোলিং করতে পারবে।’
ড্রেসিংরুম থেকেও লিটনের আক্রমণাত্মক খেলার পরিকল্পনার প্রতি সাড়া দেওয়া হয়েছিল। তিনিও পরিকল্পনা মতোই এগিয়ে যাচ্ছিলেন। এরপর উইকেটে থিতু হওয়ার পরই হিসাব বদলে যেতে থাকে বলে জানান লিটন।
তিনি বলেন, ‘তাদেরও ফিডব্যাক ছিল যে ঠিক আছে, আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলো। আক্রমণাত্মক খেলার পর মনে হয়েছে, উইকেটে থিতু হয়ে গেছি। মাথায় এটাও কাজ করছিল যে যদি বৃষ্টি চলে আসে, ১০ ওভার খেলতে পারলেও এটা সাহায্য করবে পঞ্চম দিনে। ওই হিসাবটাই পরে আস্তে আস্তে বদলে গেছে।’
এদিকে দলকে বিপদজনক পরিস্থিতি থেকে টেনে তোলার চ্যালেঞ্জ উপভোগ করেন জানিয়ে লিটন বলেন, ‘আমার ভূমিকাই ভিন্ন। কোনো দিন টপ অর্ডার রান করছে, আমি ব্যাট করছি ৬০-৭০ ওভারে, উইকেটে বল ঘোরা শুরু হলো। আমার খেলাই এমন, যে সময় আসবে সেটা উপভোগ করে খেলা। চ্যালেঞ্জ, তবে উপভোগের অনেক কিছুই ছিল।’