স্পোর্টস ডেস্ক
১৬ মে ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম
সিলেট টেস্টের প্রথম দিনে আজ পাকিস্তানি বোলারদের দাপুটে বোলিংয়ে সুবিধা করে ওঠতে পারেননি বাংলাদেশি ব্যাটাররা। ৩ উইকেটে ১০১ রান নিয়ে মধ্যাহবিরতিতে যাওয়া টাইগাররা দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে। নাজমুল শান্ত, মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী মিরাজ সাজগজঘরে ফিরলে অপরপ্রান্তে যেন সঙ্গীহীন হয়ে পড়েন লিটন দাস। তবে বিপর্যয়ের মাঝেও টেইলএন্ডার ব্যাটারদের সঙ্গে নিয়ে সামলে নিয়েছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ৬০ রানের জুটি গড়া লিটন এরপর তাসকিন আহমেদের সঙ্গে ৩৮ এবং শরিফুল ইসলামের সঙ্গেও দুর্দান্ত এক জুটি গড়েছেন। বিপর্যয়ের মুখে দলের হাল ধরার পাশাপাশি টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরির দেখাও পেয়েছেন তিনি।
লাঞ্চের পর ব্যাট করতে নেমে স্কোরবোর্ডে ১৫ রান তুলতেই ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। লাঞ্চের আগে ৩ উইকেটে ১০১ রান তুলে বাংলাদেশ যখন ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখছিল, বিরতি থেকে ফিরেই সেই স্বপ্নে জল ঢেলে দেন পাকিস্তানি পেসাররা। থিতু হয়ে যাওয়া অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ২৯ রান করে মোহাম্মদ আব্বাসের অফ স্টাম্পের বাইরের এক বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বসেন।
শান্তর বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। কিন্তু খুররম শাহজাদের ভেতরে ঢুকে আসা এক ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তিনি। আম্পায়ার্স কলের মারপ্যাঁচে রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি মুশফিকের (২৩)। দলের এমন কঠিন পরিস্থিতিতে ক্রিজে এসে থিতু হতে পারেননি অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজও। খুররমের করা এক বাউন্সারে হুক করতে গিয়ে ডিপ ফাইন লেগে হাসান আলীর হাতে ক্যাচ দেন তিনি। শান্ত আর মুশফিকের ৪৭ রানের জুটিটা যখন ইনিংস মেরামতের কাজ করছিল, ঠিক তখনই মাত্র ১৫ রানের ভেতর ৩ উইকেট হারিয়ে এক প্রকার দিশেহারা হয়ে পড়ে টাইগাররা।
এরপর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, প্রথম দিন শেষ হওয়ার আগেই অল আউট হবে বাংলাদেশ দল। কিন্তু তাইজুলকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন লিটন। এ দুজন মিলে গড়েন ৬০ রানের জুটি। এ জুটিতেই ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। এরপর ৪০ বলে ১৬ রান করে তাইজুল ফিরলে ক্রিজে লিটনের সঙ্গী হন তাসকিন। টাইগার স্পিডস্টারও আজ লিটনকে ভালোই সঙ্গ দিয়েছেন।
লিটন-তাসকিন জুটিতে স্কোরবোর্ডে ওঠে ৩৮ রান। ১৩ বলে ৭ রান করে তাসকিন আউট হলেও শরিফুলকে নিয়ে লড়াই জারি রাখেন লিটন। এই লড়াইয়ের পথেই নিজের শতক তুলে নিয়েছেন লিটন। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি। লিটন-শরিফুল জুটিতে স্কোরবোর্ডে ওখনো পর্যন্ত ওঠেছে ৪৫ রান।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুজনেই অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২৫৯ রান।