images

স্পোর্টস / ফুটবল

ইসরায়েলের তোপের মুখে ইয়ামাল, পাশে দাঁড়ালেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী

স্পোর্টস ডেস্ক

১৫ মে ২০২৬, ১২:২৪ পিএম

ফুটবল মাঠের জয় আর রাজনীতির উত্তাপ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার লিগ জয়ের উৎসবে। ১৮ বছর বয়সী বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামাল যখন শিরোপা জয়ের আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে হাতে তুলে নিলেন ফিলিস্তিনের পতাকা, তখন সেই আনন্দ ছাপিয়ে শুরু হলো এক আন্তর্জাতিক বাকযুদ্ধ। একদিকে ইসরায়েলি মন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা, অন্যদিকে নিজের দেশের প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ সমর্থন- সব মিলিয়ে ইয়ামাল এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বার্সেলোনার লিগ শিরোপা জয়ের পর গত সোমবার শহরজুড়ে এক রাজকীয় শোভাযাত্রা বের করা হয়। প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ সমর্থকের সেই ভিড়ে একটি খোলা ছাদের বাসে চেপে সতীর্থদের সাথে জয়োল্লাস করছিলেন ইয়ামাল। ঠিক তখনই তাঁর হাতে দেখা যায় বিশাল এক ফিলিস্তিনি পতাকা। মুসলিম এই তরুণ ফুটবলার কেবল মাঠেই ক্ষান্ত হননি, নিজের কয়েক কোটি অনুসারীর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলেও সেই পতাকা হাতে ছবি পোস্ট করেছেন।

ইয়ামালের এই কাজকে মোটেও সহজভাবে নেয়নি ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ অত্যন্ত কড়া ভাষায় এর সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, যখন ইসরায়েলি সেনারা হামাসের মতো সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়ছে, তখন ইয়ামাল এমন কাজ করে আসলে ঘৃণা ছড়িয়ে দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন। কাটজের মতে, যুদ্ধের এই ভয়াবহ সময়ে ফিলিস্তিনি পতাকা ওড়ানো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জনমত উসকে দেওয়ার একটি কৌশল।

"লামিন ইয়ামাল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন, যখন আমাদের সৈন্যরা হামাস নামক একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে; এমন একটি সংগঠন যারা ৭ অক্টোবর (২০২৩) ইহুদি শিশু, নারী এবং বৃদ্ধদের গণহত্যা, ধর্ষণ এবং পুড়িয়ে মেরেছে," গত বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যম 'এক্স'-এ এক বার্তায় এ কথা লিখেছেন মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ।

ইয়ামালের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি মন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেননি স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, একটি দেশের পতাকা ওড়ানোর মধ্যে ঘৃণা খোঁজাটা নেহাতই সংকীর্ণতা। সানচেজ বলেন, ইয়ামাল যা করেছেন তা হলো ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ, যা স্পেনের সাধারণ জনগণেরও মনের কথা। তিনি গর্বের সাথেই নিজের দেশের এই তরুণ ফুটবলারের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

Screenshot_2026-05-15_122014

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এক্সে লিখেছেন, "যারা একটি রাষ্ট্রের পতাকা ওড়ানোর বিষয়টিকে 'ঘৃণা উসকে দেওয়া' বলে মনে করেন, তারা হয় তাদের বুদ্ধি হারিয়েছেন অথবা নিজেদের কলঙ্ক দ্বারা অন্ধ হয়ে গেছেন। লামিন কেবল ফিলিস্তিনের প্রতি সেই সংহতি প্রকাশ করেছেন যা লক্ষ লক্ষ স্প্যানিশ নাগরিক অনুভব করেন। এটি তাঁর জন্য গর্বিত হওয়ার আরও একটি কারণ।"

গাজায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এখন কেবল রাজনৈতিক টেবিলে সীমাবদ্ধ নেই, তা ছড়িয়ে পড়েছে মাঠের খেলাতেও। ফুটবল থেকে শুরু করে সাইক্লিং বা বাস্কেটবল— সবখানেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সুর চড়ছে। এমনকি এ বছর ইউরোভিশন গান প্রতিযোগিতাও বয়কট করেছে স্পেনসহ কয়েকটি দেশ। ইয়ামালের এই প্রতীকী প্রতিবাদ সেই বৃহত্তর আন্দোলনেরই একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

000_B2RE4PW

আগামী মাসে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে স্পেনের জাতীয় দলের প্রধান ভরসা হয়ে মাঠে নামবেন ইয়ামাল। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই এই তরুণ তুর্কি প্রমাণ করে দিলেন যে, তিনি কেবল ফুটবল মাঠেই নয়, নিজের আদর্শ আর সংহতির প্রশ্নেও যথেষ্ট সাহসী। লামিন ইয়ামাল এখন কেবল একজন ফুটবলার নন, বরং স্প্যানিশদের কাছে এক অনন্য অনুপ্রেরণার নাম।