স্পোর্টস ডেস্ক
১৪ মে ২০২৬, ১১:২৯ এএম
বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা, বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। একসময় তার নামটাই ছিল দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড। কিন্তু আজ তিনি নিজেই আর্থিক জটিলতা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ আর ব্যবসায়িক অভিযোগের ঘূর্ণিঝড়ে পড়েছেন। সম্প্রতি এক পডকাস্টে খোলাখুলি কথা বলেছেন নিজের বাস্তবতা নিয়ে।
সাঈদ জামানের জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল ‘সিম্পলি সাঈদ’-এর পডকাস্ট ‘অফস্ক্রিন উইথ সাইদ জামান’-এ সাকিব আল হাসান তার সম্পদ, ব্যবসা ও চলমান সংকট নিয়ে স্পষ্ট কথা বলেছেন।
গুগলে সাকিবের নাম খুঁজলে একটি ওয়েবসাইটে তার সম্পদের পরিমাণ ৮০০ কোটি টাকা বলে উল্লেখ দেখা যায়। এ নিয়ে প্রশ্ন করায় সাকিব সরাসরি জবাব দেন, ‘এটা আমি দেখতে চাই আসলে যে কই আছে এই সম্পদটা। এই সম্পদটা যদি আমি পেতাম, আমার এখন সবচেয়ে বেশি উপকার হতো। কারণ আমার তো অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে আছে লাস্ট দেড়-দুই বছর অলমোস্ট।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই অ্যাকাউন্টগুলো আমার আসলে দেখার দরকার ছিল যে আসলে কই আছে এই টাকাগুলো।' যে ওয়েবসাইট এই তথ্য ছড়িয়েছে, সাকিবের ভাষায় সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তবে এমন খবর তাকে সাময়িক আশা দিলেও বাস্তবে কোনো সত্যতা নেই বলে জানান তিনি।
সাকিব স্বীকার করেছেন, যেসব ব্যবসায় তার নাম জড়িয়ে অভিযোগ উঠেছে, সেখানে তিনি নিজেই অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী। তদন্তকারী সংস্থাকে সব ধরনের তথ্য দিতে তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত। ‘আমি সবসময় বলে আসছি যে আমি তাদের তদন্তে সহায়তা করতে রাজি, যেখানে আমি ভুক্তভোগী। তদন্তকারী যারা আছেন, তাদেরকে আমি হেল্প করব। আপনাদের যে ধরনের ইনফরমেশন লাগে, আমি দিতে রাজি আছি।’
তার মতে, নাম বড় হওয়ায় সব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে তিনিই চলে আসেন। ‘যেহেতু আমার নামটাই বড়, সেহেতু সবসময় মনে হচ্ছে যেন এই কেসগুলোতে আমি শুধু আছি, আর কেউ নাই।’ এ কারণে তাকে আর্থিক ও সামাজিক দুই ধরনের চাপই সহ্য করতে হচ্ছে।' তিনি একে ‘ডাবল সাফারিং’ বলে অভিহিত করেছেন।
সাকিব জানান, ক্রিকেট নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ততার কারণে ব্যবসার খুঁটিনাটি বিষয়ে তেমন মনোযোগ দিতে পারেননি। তিনি ভবিষ্যতে অংশীদার বাছাইয়ে আরও সতর্ক থাকবেন বলেও জানিয়েছেন। মানুষের ধারণার চেয়ে তার ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা অনেক কম বলে দাবি করেন তিনি। উল্লেখযোগ্য ব্যবসার মধ্যে রয়েছে রেস্টুরেন্ট (যা অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে), স্টক এক্সচেঞ্জ সংক্রান্ত উদ্যোগ আর কাঁকড়ার খামার।
কাঁকড়ার খামার নিয়ে সাকিব বলেন, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ না থাকলে এটি চালিয়ে ঋণ পরিশোধ করা কোনো বড় সমস্যা হতো না। ‘এই বিজনেসটা রান করতে পারলেই এটা খুবই প্রফিটেবল একটা বিজনেস। যারা ওই এলাকাতে করছে, তারা অনেক ভালো করছে।’