১৩ মে ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎসবের দামামা বাজতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। উত্তর আমেরিকার তিন দেশের মাটিতে এবারের বিশ্বকাপ হতে চলেছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও অভিনব আসর। একই সঙ্গে তিন দেশের আয়োজন, ৪৮টি দল, ১০৪টি ম্যাচ এবং তিনবারের আয়োজক মেক্সিকোর অনন্য কীর্তি। সব মিলিয়ে এবারের আসরটি হবে একেবারে অন্যরকম।
মেক্সিকো সিটির আইকনিক স্তাদিও আজতেকা (এখন মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম) আবারও বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। ১১ জুন ২০২৬, স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকা মাঠে নামবে। এটি হবে একই স্টেডিয়ামে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ। কোনো ভেন্যুর জন্য এটি এক অনন্য রেকর্ড। ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালে এখানেই বিশ্বকাপের ফাইনাল হয়েছিল, যেখানে ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়।
এবারের ২৩তম ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেবে ৪৮টি দল (২০২২-এ ছিল ৩২)। মোট ম্যাচ হবে ১০৪টি। তিন দেশের ১৬টি শহরে ১৬টি স্টেডিয়ামে খেলা অনুষ্ঠিত হবে। আসর চলবে ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত, মোট ৩৯ দিন।
তিন আয়োজক দেশ (যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা) সরাসরি চূড়ান্ত পর্বে খেলবে। বাকি দলগুলোর মধ্যে ইউরোপ থেকে ১৬, আফ্রিকা থেকে ৯, এশিয়া থেকে ৮ এবং অন্যান্য অঞ্চল থেকে নির্ধারিত সংখ্যক দল অংশ নেবে।
বাছাইপর্বও ছিল বিশাল। ফিফার ২০৬টি সদস্য দেশ (বাংলাদেশসহ) ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৯০০ ম্যাচ খেলে যোগ্যতা অর্জন করেছে। এবার প্রথমবারের মতো বাছাইপর্ব শেষ হওয়ার আগেই গ্রুপ ড্র সম্পন্ন হয়েছে।
ফিফা ও আয়োজক দেশগুলো এই আসরের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। স্টেডিয়ামের টিকিট, টেলিভিশন স্বত্ব, পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড; সবকিছু মিলিয়ে এটি হবে সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সাফল্যের একটি আসর। দর্শকদের জন্য টিকিটের দামও আকাশছোঁয়া।
মেক্সিকো এবার তৃতীয়বার বিশ্বকাপ আয়োজন করছে, যা কোনো দেশের জন্য রেকর্ড। আজতেকায় উদ্বোধনী ম্যাচের পর পুরো বিশ্ব ফুটবলের জাদু দেখতে চোখ রাখবে এই ত্রি-আয়োজকের দিকে।
এসটি