স্পোর্টস ডেস্ক
০৬ মে ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম
রাজনৈতিক উত্তেজনা আর সীমান্তের টানাপোড়েনের মধ্যেও ক্রীড়াক্ষেত্রে একটু নমনীয়তার আভাস দিল ভারত। দেশটির যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক টুর্নামেন্টে পাকিস্তানি ক্রীড়াবিদ ও দলগুলো ভারতে অংশ নিতে পারবে। তবে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বা ম্যাচের দরজা এখনও পুরোপুরি বন্ধ।
এই নীতি ভারতকে বিশ্বের বড় বড় ক্রীড়া আয়োজক হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের স্মারকে বলা হয়েছে,'আন্তর্জাতিক ও বহুজাতিক ইভেন্টের ক্ষেত্রে আমরা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার নিয়মনীতি এবং নিজেদের খেলোয়াড়দের স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিই।'
এই নীতির অংশ হিসেবে পাকিস্তানি ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তাদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাদের জন্য মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হবে, যাতে বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন আরও সাবলীল হয়।
ভারত আগামী বছরগুলোতে একাধিক মেগা ইভেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস, ২০৩৬ সালের অলিম্পিক এবং ২০৩৮ সালের এশিয়ান গেমস আয়োজনের জন্য বিড জমা দিয়েছে দেশটি। আহমেদাবাদকে সম্ভাব্য প্রধান ভেন্যু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে দ্বিপাক্ষিক ক্রীড়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান একেবারে অপরিবর্তিত। ভারতের মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে,'দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ক্রীড়া আয়োজনের ক্ষেত্রে ভারতীয় দল পাকিস্তানে খেলতে যাবে না, এবং পাকিস্তানি দলকেও ভারতে খেলতে অনুমতি দেওয়া হবে না।'
এই সিদ্ধান্তের পটভূমিতে রয়েছে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা। গত বছর সেই উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়, যা প্রায় যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছিল। ফলে ক্রিকেটসহ অন্যান্য খেলায় দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বহু বছর ধরে স্থগিত। সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ সিরিজ হয়েছিল ২০১২-১৩ মৌসুমে। এরপর থেকে দুই দল শুধু নিরপেক্ষ ভেন্যুতে মুখোমুখি হয়।
সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। যৌথ আয়োজক হওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তান তাদের ম্যাচগুলো খেলেছে শ্রীলঙ্কায়, এমনকি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচও হয়েছে নিরপেক্ষ মাঠে।
এই নীতি ভারতের ক্রীড়া কূটনীতিতে এক ধরনের বাস্তববাদী ভারসাম্য তৈরি করেছে। একদিকে রাজনৈতিক অবস্থান অটুট রেখে, অন্যদিকে বৈশ্বিক ক্রীড়া আয়োজক হিসেবে নিজেদের ছবি উজ্জ্বল করার চেষ্টা। এতে করে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কও মজবুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র:ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ইএসপিএনক্রিকইনফো