images

স্পোর্টস

ধোনি ফ্যাক্টর জিতিয়েছে থালাপতি বিজয়কে!

স্পোর্টস ডেস্ক

০৫ মে ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

রাজনীতি আর ক্রিকেটের সীমারেখা যেন ক্রমশ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে তামিলনাড়ুতে। অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের নতুন দল তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগাম (টিভিকে) এবারের নির্বাচনে প্রথমবার মাঠে নেমেই বড় চমক দেখিয়েছে। আর এই উত্থানের পেছনে অনেকে দেখছেন ‘ধোনি ফ্যাক্টর’-এর ছায়া।

চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) সমর্থকদের কাছে ‘হুইসেল পোড়ু’ স্লোগান নতুন কিছু নয়। ঠিক সেই পরিচিত হুইসেলকেই নির্বাচনী প্রতীক বানিয়েছে বিজয়ের দল। প্রচার সভায়, মিছিলে গ্যালারির মতো উচ্ছ্বাস, সমর্থকদের আচরণ সবকিছুতেই ক্রিকেটের আবেগ মিশে গেছে। যারা মাঠে মাহেন্দ্র সিং ধোনিকে (থালা) সমর্থন করতেন, তারাই এখন ভোটকেন্দ্রে বিজয়কে সমর্থন করছেন। এটাকে তারা ‘স্বাভাবিক বদল’ হিসেবেই দেখছেন।

বিজয় নিজেও এই যোগসূত্র স্পষ্ট করে নির্বাচনী প্রচরণার সময় বলেছেন, ‘ক্রিকেটে যে হুইসেল বাজায়, সেটা তামিলনাড়ু সিএসকে। আর এবারের নির্বাচনে যে হুইসেল বাজাবে, সেটা আমাদের দল টিভিকে।’ এই বার্তা ভোটারদের মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছে।

প্রচারের শুরু থেকেই ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর ধোনির নাম টেনে একটা আলাদা আবহ তৈরি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার লক্ষ্য তামিলনাড়ুর সবচেয়ে জনপ্রিয় বিহারি হওয়া। তার জন্য ধোনির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে। আমি আপনাদের নেতার অধীনে টিভিকেকে জেতাব।’ এই তুলনা একদিকে প্রত্যাশা বাড়িয়েছে, অন্যদিকে ধোনি-ভক্তদেরও আকৃষ্ট করেছে।

নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে এই কৌশলের ছাপ। টিভিকে পেয়েছে ১০০ বেশি আসনে জয়ী। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, শেষ পর্যায়ের প্রচার ও ফল ঘোষণার গতি ধোনির ম্যাচ শেষ করার ধাঁচের সঙ্গে মিলে যায়। কিন্তু গল্পটা এখানেই শেষ নয়।

১০৮ আসনে থেমেছে বিজয়ের দল। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের ঘাটতি রয়েছে। ফলে জয়ের সঙ্গে এসেছে ধোনি-স্টাইলের চ্যালেঞ্জও। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় এখন জোট গড়ার কঠিন খেলা শুরু হয়েছে। তাতে পরিস্থিতি এখন ‘সুপার ওভার’-এর মতো। জোটের আলোচনা চলছে, রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণ করবে পরবর্তী পদক্ষেপ। ক্রিকেটের উপমা প্রচারে কাজে লাগলেও, শেষ সিদ্ধান্ত নেবে সংখ্যার হিসাব। এই ‘হ্যাংড’ পরিস্থিতি কীভাবে সামলাবেন বিজয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।