স্পোর্টস ডেস্ক
০৫ মে ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
চার বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ডাগআউট সামলানো স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরার যাত্রা শেষ হয়েছে। গত এপ্রিলের শেষে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) নতুন কোচ খুঁজতে শুরু করেছে। শুক্রবারের মধ্যে নতুন কোচের নাম চূড়ান্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
কাবরেরা বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা প্রধান কোচ হিসেবে বিদায় নিয়েছেন। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর চার বছর চার মাসের এই অধ্যায়ে তিনি অনেক উত্থান-পতন দেখেছেন। লিঙ্কডইনে বিদায়ী বার্তায় তিনি লিখেছেন, এই সময়টা তার জন্য অবিস্মরণীয় ছিল।
তার অধীনে বাংলাদেশ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে উঠেছিল, যা সমর্থকদের মনে আশার সঞ্চার করেছিল। ২২ বছর পর ভারতকে হারানো এবং ২০১৬ সালের পর ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানো, এসব অর্জন তার কোচিংয়ের উল্লেখযোগ্য সাফল্য। তিনি দলের ভেতর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মানসিকতা গড়ে তোলার দাবি করেছেন। খেলোয়াড়দের মধ্যে ২১ জন অনূর্ধ্ব-২৩ খেলোয়াড়ের অভিষেক ঘটিয়ে ভবিষ্যতের জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘কয়েকশ দর্শকের সামনে খেলা থেকে শুরু করে কানায় কানায় পূর্ণ স্টেডিয়ামে অবিস্মরণীয় রাতগুলো কাটানো পর্যন্ত, আমরা এমন কিছু মুহূর্ত তৈরি করেছি যা বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে সর্বদা অংশ হয়ে থাকবে। একসঙ্গে মিলে আমরা একটি শক্তিশালী পরিচয় এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মানসিকতা তৈরি করেছি, যা আমাদের মহাদেশের শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে ধারাবাহিকভাবে লড়াই করার সামর্থ্য জুগিয়েছে। আমরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু মাইলফলক অর্জন করেছি, ১৪ বছর পর সাফের সেমিফাইনালে পৌঁছানো, ২২ বছরের মধ্যে প্রথমবার ভারতকে হারানো এবং ২০১৬ সালের পর ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো।’
তবে তার কৌশল ও খেলার ধরন নিয়ে সমর্থকদের অনেক সমালোচনা ছিল। শুরুর দিকের প্রশংসা পরে হতাশায় রূপ নেয়। তারপরও বাফুফে তার ওপর আস্থা রেখেছিল এবং পূর্ণ মেয়াদ শেষ করেই তাকে বিদায় দিয়েছে। তার অধীনে বাংলাদেশ ৩৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে মাত্র ১০টিতে জয় পায়। ১০টি ড্র এবং ১৯টি হারের রেকর্ড রয়েছে। দর্শকশূন্য মাঠ থেকে পূর্ণ স্টেডিয়ামের উত্তেজনাপূর্ণ রাত অনেক স্মৃতি তৈরি হয়েছে এই সময়ে।
কাবরেরা বিশ্বাস করেন, ‘ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হয়েছে। প্রত্যেক খেলোয়াড়, স্টাফ সদস্য, সমর্থক এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সকলকে জানাই ধন্যবাদ। আমি গভীর কৃতজ্ঞতা ও গর্ব নিয়ে বিদায় নিচ্ছি এবং আমি বিশ্বাস করি যে বাংলাদেশের ফুটবল সঠিক দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে এবং এর সেরা মুহূর্তগুলো আসা এখনো বাকি।’
এসটি