images

স্পোর্টস

মেসির কারণে হেরেছে মমতার তৃণমূল!

স্পোর্টস ডেস্ক

০৫ মে ২০২৬, ১১:৫৭ এএম

কলকাতার টলিগঞ্জ টলিউডের হৃদয়কেন্দ্র এবার রাজনৈতিক রঙ বদলেছে। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এই আসনটি দখল করে রাখা তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন ক্রীড়া মন্ত্রী আরূপ বিশ্বাসকে হারিয়ে দিয়ে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী, প্রবীণ বাংলা অভিনেত্রী পাপিয়া আধিকারী। এই জয় শুধু একটি আসনের নয়, টলিগঞ্জের রাজনৈতিক সমীকরণে এক বড় ধাক্কা।

২০০৬ সাল থেকে টানা চারবার এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে আসছিলেন আরূপ বিশ্বাস। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সেই ধারা ভেঙে গেল। পাপিয়া আধিকারী পেয়েছেন ৮৮,৪০৭ ভোট, আর আরূপ বিশ্বাস পেয়েছেন ৮২,৩৯৪ ভোট। ব্যবধান প্রায় ৬,০০০-এর বেশি। এটি টলিগঞ্জে তৃণমূলের দীর্ঘ আধিপত্যের অবসান ঘটাল।

এই পরাজয়ের পেছনে এক বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে গত বছরের ডিসেম্বরের সেই ঘটনা। আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির ‘গোট ট্যুর অব ইন্ডিয়া’ উপলক্ষে কলকাতায় আসার আয়োজন পুরোপুরি ভেস্তে যায়। সল্ট লেক স্টেডিয়ামে ভক্তরা প্রিমিয়াম টিকিট কেটেও মেসিকে ঠিকমতো দেখতে পাননি। মাত্র ১০ মিনিটের মতো উপস্থিতি, রাজনীতিক ও নিরাপত্তার ঘেরাটোপ এসব নিয়ে ক্ষোভ ফেটে পড়ে। ভক্তরা বোতল ছোড়েন, স্টেডিয়ামের সম্পত্তি ভাঙচুর হয়।

ফুটবলপ্রিয় শহর কলকাতায় এই ঘটনা বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। মমতা ব্যানার্জীকে ক্ষমা চাইতে হয়, তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং আয়োজককে আটক করা হয়। আরূপ বিশ্বাস তখন ক্রীড়া মন্ত্রী ছিলেন। সমালোচনার মুখে তিনি পদত্যাগ করেন। বিজেপি এই ইস্যুকে ক্যাম্পেইনে ব্যবহার করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রচার চালায়। অনেকে বলছেন, ফুটবল ভক্তদের ক্ষোভই টলিগঞ্জে ভোটে প্রভাব ফেলেছে।

এ প্রসঙ্গ টেনে মমতার দল তৃণমূল হারার পর ভারতের ধারাভাষ্যকার সুবব্রত মুখার্জি নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বাঙালি ফুটবলপ্রেমী মানুষের কাছে এই দিনটা শুধু লজ্জার ছিল না, ছিল অনেক কষ্টের… কষ্টের টাকা খরচ করে সেদিন একমাত্র এই লোকটা (তৃণমূল নেতা) লিওনেল মেসির কোমর জড়িয়ে যে নোংরামি করেছিল… তা আজ ইতিহাস…’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘সেই লোকগুলো আজ কিছুটা হলেও নিশ্চয়ই শান্তি পেয়েছে… হয়তো সেই মানুষটিও আজ শান্তি পেয়েছে, যাকে ‘বলির পাঁঠা’ করার প্ল্যান হয়ে গিয়েছিল… সব আক্রোশ তার দিকে ঘুরিয়ে তাকে আরেকটা ‘সুদীপ্ত সেন’ বানানোর চেষ্টা হয়েছিল… সেই মানুষটি আমার ফ্রেন্ড লিস্টে থাকলেও তাকে ট্যাগ করলাম না স্বাভাবিক কারণে… আশা রাখি এই পোস্ট তার কাছেও পৌঁছাবে। আপনারা কেউ সেদিন কি সল্টলেকে উপস্থিত ছিলেন? জানাবেন সেদিনের অভিজ্ঞতা।’

এদিকে অরূপ বিশ্বাসের হার নিয়ে নেটপাড়ায় অনেকেই কটাক্ষ করছেন। মেসির সেই ঘটনা টেনে কেউ বলছেন, ‘মেসিকে দেখতে দেননি, তাই মানুষ এবার তাকে বিধানসভায় ঢুকতে দিল না।’ অনেকে আবার মজা করে লিখছেন, ‘মেসির পাস থেকেই গোল দিয়ে জিতল বিজেপি।’

পাপিয়া আধিকারী এবারই প্রথম সক্রিয় রাজনীতিতে নাম লেখান। টলিউডের পরিচিত মুখ হিসেবে তাঁর জয় টলিগঞ্জের মতো সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিজেপির জন্য বড় অগ্রগতি। এই জয় শুধু একজন অভিনেত্রীর সাফল্য নয়, ভারতে বাংলার শহুরে রাজনীতিতে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এছাড়া স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে যে, দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র আধিপত্য, সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির নিয়ন্ত্রণসহ নানা অভিযোগ এবার ভোটারদের মনে প্রভাব ফেলেছে।

এসটি