০৪ মে ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল স্টেডিয়ামের মৌলিক সুবিধা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের টয়লেট ব্যবস্থাপনা ও নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ন্যায্য পারিশ্রমিক না দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি স্পষ্ট ক্ষোভ জানিয়েছেন। সোমবার (৪ মে) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব বিষয় ফাঁস করেন তামিম।
সম্প্রতি বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ চলাকালে মিরপুর স্টেডিয়ামের গ্যালারি ও ওয়াশরুম ঘুরে দেখেন তামিম। সেখানকার বাস্তব চিত্র দেখে তিনি বিস্মিত ও মর্মাহত হয়েছেন। বিসিবিতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ক্লিনিং সার্ভিসের জন্য প্রতি কর্মীকে ৬৫০ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে তারা পাচ্ছেন মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।
‘কাল আমি বিসিবিতে গিয়েছিলাম। বিসিবিতে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম যে আমাদের যে ক্লিনিং সার্ভিস আছে, তাদের আমরা জনপ্রতি কত টাকা করে দিই। শুনে অবাকই হলাম যে ৬৫০ টাকা করে দিই। তো তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম যে ৬৫০ টাকা করে দিই তাহলে এরা ৩০০ টাকা কেন পাচ্ছে? এ ধরনের দুর্নীতির কথা আপনারা জানেন। কিন্তু আমার কাছে কষ্ট হয় যে এই নারীরা যারা ৩০০ টাকা ৪০০ টাকা প্রতিদিন উপার্জন করেন, তাদের থেকেও টাকা খেতে হবে। মানে তাদের থেকেও টাকা চুরি করতে হবে। এটা একেবারে জঘন্য।’
তামিম আরও বলেন,‘আপনারা হয়তো শুনে অবাকই হবেন যে স্টেডিয়াম যখন ২০০৭ সালে তৈরি হয়েছিল, তারপর থেকে আর বাথরুম নিয়ে কোনো সংস্কার হয়নি। এটা ঠিক না। তো আমি এ কারণে যাওয়ার সময় সেখানে দেখেছিলাম। বাথরুম পরিষ্কারের দায়িত্বে থাকা খালাাম্মা আমাকে একটা কথা বলেছিলেন, যেটা হয়তোবা অনেকেই ভিডিওতে দেখেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ভাইয়া আমরা প্রত্যেক দিন ৩০০ টাকা করে পাই। এই জিনিসটা যদি আপনি একটু দেখতেন।’
শুধু তাই নয়, এক ফিনল্যান্ডের নারী দর্শকও তামিমের কাছে ওয়াশরুমের অবস্থা নিয়ে অভিযোগ করেছেন। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি মাঠে এসে খেলা দেখতে আসা ওই দর্শক সুন্দর করে বলেছিলেন, ওয়াশরুমগুলো যেন ঠিক করা হয়। ‘এটা আমি নিজেই খুব অবাক হয়েছি। আপনি ভালো প্রশ্ন করেছেন। আমি আসলে সেদিন যখন গ্যালারিতে গিয়েছিলাম, তখন একজন ফিনল্যান্ড থেকে এক নারী সেদিন সকালেই বিমানবন্দরে এসে সোজা মাঠে খেলা দেখতে এসেছেন। তিনি আমাকে সুন্দর করে বললেন, ‘ভাইয়া যদি একটু ওয়াশরুমগুলা ঠিক করা যায়।’
তামিম এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘আমি তাদের একটা বিল জমা দিতে বলেছি এই সিরিজে। আমি বলেছি যে আপনি ৩০ নারীকে ডাকবেন আমার সামনে তাদেরকে ৫০০ টাকা করে দেবেন। ১০০-১৫০ টাকা আপনার লাভ থাকতে পারে। কারণ, যদি কোনো কোম্পানি একটা কাজ নেয় তার অনেক কিছু কিনতে হয়, তার নিজস্ব কোম্পানি চালাতে হয়, তার একটু লাভ করবেই। সেটা ঠিক আছে। কিন্তু যে প্রতিশ্রুতি আপনি এই নারীদের দিয়েছেন, আমার সামনে আপনি ডেকে সবার সামনে দেবেন। তারপর থেকে যদি আপনারা চান, তাহলে চুক্তি গ্রহণ করতে পারি। তা না হলে চুক্তি তো বাতিল করবই। একইসঙ্গে ব্ল্যাকলিস্ট করে দেব যাতে ভবিষ্যতে কোনোদিন আপনি বিসিবিতে কাজ না করতে পারেন।’
এসটি