images

স্পোর্টস / ক্রিকেট

সাগরিকায় নিউজিল্যান্ডকে আটকাতে পারবে লিটনের তারুণ্যনির্ভর দল

স্পোর্টস ডেস্ক

২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম

চট্টগ্রামের সাগরিকায় আবারও ব্যাট-বলের লড়াইয়ের রোমাঞ্চ ফিরছে। দীর্ঘ বিরতির পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট দিয়ে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে ফিরছে বাংলাদেশ। এটি শুধু একটি সাধারণ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নয়, বরং ২০২৮ সালের অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির প্রথম ধাপ।

অধিনায়ক লিটন দাসের নেতৃত্বে টাইগাররা এবার একটু ভিন্ন পথে হাঁটছে। বিসিবি অভিজ্ঞ পেসারদের বিশ্রাম দিয়ে তরুণ প্রতিভাদের সুযোগ করে দিয়েছে। রিপন মন্ডল ও আব্দুল গাফফার সাকলাইনের মতো উদীয়মান বোলাররা এ সিরিজে প্রথমবারের মতো বা নতুন করে সুযোগ পেয়েছেন। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রাজনৈতিক জটিলতায় অংশ না নেওয়া বাংলাদেশ এখন পরবর্তী আসরে শক্তিশালীভাবে ফিরতে চায়।

গত দুই বছরে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং নিয়ে স্বস্তি কম। বিদেশের মাটিতে দলের গড় স্কোর মাত্র ১৩৮-এর কাছাকাছি। অথচ আধুনিক টি-টোয়েন্টি এখন ১৮০-২০০ রানের খেলা হয়ে উঠেছে। এই ধীরগতির ব্যাটিং ২০২৮ বিশ্বকাপে ভালো করার পথে বড় বাধা হতে পারে।

লিটন দাসের ব্যক্তিগত ফর্ম নিয়েও আলোচনা চলছে। একটি ভালো শুরুর পর টানা ব্যর্থতা তার ওপর চাপ তৈরি করেছে। ওপেনিংয়ে সাইফ হাসানের সঙ্গে জুটি গড়ার আশা থাকলেও তার ধারাবাহিকতা নিয়ে ক্রিকেট মহলে মতভেদ আছে।

তবে মিডল অর্ডারে তাওহিদ হৃদয় কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছেন। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তার ৮৩ রানের ঝড়ো ইনিংস দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু অন্যদের ব্যর্থতায় তা বিফলে যায়। ব্যাটিং পজিশন নিয়ে দ্বিধা থাকলেও হৃদয় স্পষ্ট বলেছেন, দলের প্রয়োজনে যেকোনো জায়গায় খেলতে তিনি প্রস্তুত।

এ বছর বাংলাদেশ অন্তত নয়টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলবে। ভারত সফর চূড়ান্ত হলে সংখ্যাটা ১২-এ পৌঁছাতে পারে। নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এসব ম্যাচই ঠিক করে দেবে, ২০২৮ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে।

নিউজিল্যান্ড সিরিজ তাই টাইগারদের জন্য প্রথম লিটমাস টেস্ট। অভিজ্ঞতার চেয়ে তারুণ্য ও সম্ভাবনার ওপর বাজি ধরেছে বাংলাদেশ। এই সাহসী সিদ্ধান্ত কতটা ফলপ্রসূ হয়, তা সময়ই বলে দেবে। তবে সাগরিকার বাতাসে যে নতুন শুরুর বার্তা ভাসছে, তা স্পষ্ট।