২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে হেরে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচটি আজ তাই লাল-সবুজের দলের জন্য সিরিজ বাঁচানোর লড়াই। গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয়ের ম্যাচে বোলারদের নৈপুণ্যে কিউইদের ১৯৮ রানে আলআউট করে টাইগাররা। ১৯৯ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে ধাক্কা খেলেও তানজিদ তামিম ও নাজমুল হাসান শান্তর অর্ধশতকে ৮৭ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম ওভারেই ধাক্কা। নাথান স্মিথের বলে দুটি চার মেরে উড়ন্ত শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সাইফ হাসান। কিন্তু ওভারের শেষ বলে বোল্ড হয়ে ৬ বলে ৮ রান করে ফিরতে হয় তাকে।
দুই সিরিজ পর একাদশে সুযোগ পাওয়া সৌম্য সরকার দেখেশুনে খেলার চেষ্টা করলেও থিতু হতে পারেননি। ১১ বলে ৮ রান করে উইলিয়াম ও’রুর্কের বলে ডিন ফক্সক্রফটের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
দুই উইকেট হারানোর পরও তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত হাত খুলে খেলতে শুরু করেন। বিশেষ করে তানজিদ যে আগ্রাসী মেজাজ দেখিয়েছেন, তাতে পাওয়ারপ্লের শেষে ৬৭ রান হওয়ায় বাংলাদেশকে কিছুটা স্বস্তি দেয়।
তানজিদ-নাজমুল হোসেন শান্ত জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তানজিদ ছিলেন একেবারেই আলাদা ছন্দে। শুরু থেকেই বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে খেলেছেন, স্পিন-ফাস্ট কাউকেই ছাড় দেননি। মাত্র ৫৮ বলে ৭৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ১০টি চার ও ৪টি ছক্কা। তার এই ইনিংসই মূলত বাংলাদেশের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেয়।
শান্তও খেলেছেন পরিণত ইনিংস। ঝুঁকি না নিয়ে ইনিংস ধরে রেখে সঙ্গ দিয়েছেন তানজিদকে। পরে লিটন দাস ক্রিজে এসে রান তোলার কাজ এগিয়ে নেন। এরপর লিটন আউট হলেও ধীর গতিতে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে নিজের ব্যাক্তিগত অর্ধশতক করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন শান্ত। ২ ছক্কা ও ৫ চারে ৭১ বলে ৫০ রান করেছেন।
শেষ দিকে অধিনায়ক মিরাজ ও তাওহীদ হৃদয় দেখেশুনে খেলে ৬ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। হৃদয় ৩০ রানে মিরাজ ৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। তাতে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-১ সমতায় ফেরে টাইগাররা।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। তরুণ পেসার নাহিদ রানার আগুনঝরা বোলিংয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় তারা। নিক কেলি ৮৩ রানের লড়াই করলেও অন্য প্রান্তে কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা।
এসটি