স্পোর্টস ডেস্ক
১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৮ পিএম
মিকেল আর্তেতার জন্য কি ফুটবলের বিধাতা এক কঠিন নাটক লিখে রেখেছেন? একদিকে আর্সেনালের অসাধারণ উন্নতি, অন্যদিকে বারবার শেষ মুহূর্তে স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার বেদনা। আজ রাতে ম্যানচেস্টার সিটির ইতিহাদ স্টেডিয়ামে যখন গানার্সরা মাঠে নামবে, তখন এটি শুধু লিগ টেবিলের শীর্ষস্থানের লড়াই থাকবে না। এটি হবে আর্তেতার কোচিং জীবনের সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা এবং আর্সেনালের নতুন ইতিহাস গড়ার চূড়ান্ত মুহূর্ত।
মিকেল আর্তেতা আর্সেনালের দায়িত্ব নিয়েছেন সাড়ে ছয় বছর আগে। এই সময়ে দলকে তিনি পুরোপুরি বদলে দিয়েছেন, খেলার ধরন আক্রমণাত্মক ও সুসংগঠিত হয়েছে, তরুণ খেলোয়াড়রা উঠে এসেছে। কিন্তু ট্রফির স্বাদ? শুধু একটি এফএ কাপ (শূন্য গ্যালারিতে জেতা)। এরপর বারবার শিরোপার দৌড়ে এসে হোঁচট খেয়েছে গানার্সরা।
২০২৪ সালে সিটির মাঠ থেকে ড্র নিয়ে ফেরাটাকে অনেকে সাফল্য বলেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পেপ গার্দিওলার দলই। এবার আর সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করার সুযোগ নেই। আর্তেতার চুক্তি ২০২৭ পর্যন্ত, কিন্তু বড় ম্যাচে নার্ভাস হয়ে পড়া এবং শেষ মুহূর্তে খেই হারানো এখন তার ক্যারিয়ারের একটা বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাস বলে, চ্যাম্পিয়ন হতে হলে বড় দলগুলোর (বিগ সিক্স) বিপক্ষে গড়ে অন্তত ১৮ পয়েন্ট দরকার। আর্তেতার অধীনে পাঁচ পূর্ণ মৌসুমে কখনোই এই গণ্ডি পেরোনো হয়নি। চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমেও সিটির বিপক্ষে নামার আগে শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে আর্সেনালের পয়েন্ট মাত্র ১২-১৫ এর আশপাশে (বিভিন্ন সূত্র অনুসারে)।
গ্যারি নেভিলের ভাষায়, “চ্যাম্পিয়ন হতে হলে প্রতিপক্ষকে সজোরে আঘাত করতে হয়।” শুধু রক্ষণ সামলে ড্র করা হয়তো নিরাপদ, কিন্তু সেটা কখনোই সেরা দল বানায় না। আর্তেতা যেন ইংল্যান্ডের সাবেক কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের মতো দল ভালো খেলে, কিন্তু মোক্ষম সময়ে নার্ভাস হয়ে পড়ে।
এ মৌসুমেও সিটির কাছে কারাবাও কাপ ফাইনালে ০-২ গোলে হেরেছে আর্সেনাল (নিকো ও’রাইলির দুই গোল)। এফএ কাপে সাউদাম্পটনের মতো দলের কাছে বিদায় নেওয়া আরও বেশি বেদনাদায়ক। এসব ফলাফল আর্তেতার ডাগআউটে সাফল্যের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বারবার।
ইতিহাদে এই ম্যাচটি গত ২০ বছরের মধ্যে আর্সেনালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি। আর্তেতার সামনে শুধু ম্যানচেস্টার সিটি নয়, দাঁড়িয়ে আছে তার নিজের গড়া ধূসর ইতিহাস। জিতলে আর্সেনাল টাইটেল রেসে বড় ধাক্কা দিতে পারবে এবং আর্তেতা প্রমাণ করবেন যে বড় ম্যাচে তিনি সত্যিই সামর্থ্যবান। হার বা ড্র হলে প্রশ্ন উঠবে, আর কতবার এই একই গল্প?
প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান অবস্থায় আর্সেনাল শীর্ষে, আর ম্যানচেস্টার সিটি দ্বিতীয় স্থানে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে। তবে সিটির একটি ম্যাচ হাতে রয়েছে। জিতলে ব্যবধান কমে আসবে মাত্র ৩ পয়েন্টে এবং পরবর্তীতে শীর্ষস্থান দখলের স্বপ্নও জাগবে। কিন্তু এই কাজটা মোটেও সহজ হবে না। আর্সেনাল এ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে উঠেছে এবং সাম্প্রতিক ফর্মে কিছুটা দম নিয়েই ইতিহাদে পা রাখছে।
আর্সেনাল সমর্থকদের জন্য ইতিহাদে জয়ের ইতিহাস খুবই দুর্বল। সবশেষ ২০২৪ সালে এখানে দুই দলের ম্যাচ ড্র হয়েছিল। ইতিহাদে ১৫টি লিগ ম্যাচে ম্যান সিটি জিতেছে ৯টি। সামগ্রিক লিগে ৩১ দেখায় সিটির জয় ১৬টি, আর্সেনালের মাত্র ৬টি এবং ৯টি ড্র। গত ২০ বছরে আর্সেনালের ইতিহাদ দুর্গ ভাঙা সহজ হয়নি।
মিকেল আর্তেতা বলেছেন, ''সাফল্যের এই আকাঙ্ক্ষাই সবার জন্য ‘ভিটামিন’ হওয়া উচিত। এই জেদটাই আমাদের আরও ভালো করার প্রেরণা দেয়। ২২ বছরের আক্ষেপ গুছিয়ে নেওয়ার এটাই সেরা সময়।''
পেপ গার্দিওলা আত্মবিশ্বাসী, ''আমাদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। এক মাস আগে পয়েন্ট হারিয়ে আমরা ভেবেছিলাম হয়তো আর ফিরতে পারব না। কিন্তু এখন ঘরের মাঠে আর্সেনালের বিপক্ষে সুযোগ এসেছে।'' তিনি আরও বলেন, কারাবাও কাপ ফাইনালের দ্বিতীয়ার্ধের মতো খেললে জয় সম্ভব।
এসটি