স্পোর্টস ডেস্ক
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
২০০৮ সালের প্রথম আইপিএল মৌসুমে এক ঝলক দেখা গিয়েছিল পাকিস্তানি তারকাদের। শহীদ আফ্রিদি, শোয়েব আখতার, শোয়েব মালিক, সোহেল তানভীর, মোহাম্মদ হাফিজ এঁরা সবাই খেলেছিলেন বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে। বিশেষ করে সোহেল তানভীর রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে ২২ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি (পার্পল ক্যাপ) হয়েছিলেন এবং দলের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
কিন্তু তারপর গত ১৮ বছর ধরে আইপিএলে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ একেবারে নিষিদ্ধ। আইপিএলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান ললিত মোদি এ বিষয়ে কোনো রাখঢাক না রেখেই জানিয়েছেন, এর পেছনে মূল কারণ রাজনৈতিক।
সম্প্রতি ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভনের পডকাস্ট ‘দ্য ওভারল্যাপ ক্রিকেট’-এ ললিত মোদি বলেন, “আমিই ২০০৮ সালে আইপিএলে প্রথম পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু মুম্বাইয়ে ২৬ নভেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর তাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ আসে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “যদি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) স্বাধীনভাবে চলত এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না থাকত, তাহলে হয়তো আমরা কিছুটা এগোতে পারতাম এবং আইপিএলে তাদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভাবতে পারতাম।”
ললিত মোদির মতে, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। পিসিবিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এতটাই বেশি যে চেয়ারম্যান পরিবর্তন হয় নিয়মিত। বর্তমানে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি পিসিবির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন।
তিনি বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক পর্যায়ে যে উত্তেজনা রয়েছে, তা সহজে মিটবে না। বরং আরও খারাপের দিকে যাবে। খেলোয়াড়দের জন্য আমার খুব খারাপ লাগে।”
২০১৩ সালের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হয়নি। ললিত মোদি মনে করেন, নিকট ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ পিসিবিতে রাজনীতির গভীর অনুপ্রবেশ।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের পর আইপিএলে শুধু একজন পাকিস্তানি ক্রিকেটার আজহার মেহমুদ খেলেছিলেন, তাও যুক্তরাজ্যের পাসপোর্ট ব্যবহার করে।