images

স্পোর্টস / ফুটবল

শিরোপা জয়ের আশা ক্ষীণ, রিয়ালে সুতোয় ঝুলছে আরবেলোয়ার ভাগ্য

স্পোর্টস ডেস্ক

১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম

বায়ার্ন মিউনিখের কাছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে বিদায় নেওয়ার পর রিয়াল মাদ্রিদ শিবিরে এখন শোকের ছায়া। রাগের মাথায় দেওয়া প্রতিক্রিয়াগুলো যখন স্তিমিত হয়ে আসছে, তখন রিয়ালের খেলোয়াড়দের সামনে এক কঠোর বাস্তবতা ফুটে উঠছে।

এই মৌসুমে শিরোপা জেতার আশা তাদের এমনিতেই খুব ক্ষীণ ছিল। কিন্তু মিউনিখে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার সেই মুহূর্তের শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং এরপর বায়ার্নের দুই গোল রিয়ালকে এক প্রকার অলৌকিক কিছুর অপেক্ষায় ফেলে দিয়েছে। হাতে আছে মাত্র সাতটি ম্যাচ। এখন বার্সেলোনার চেয়ে ৯ পয়েন্টে পিছিয়ে থাকা রিয়াল যদি অবিশ্বাস্য কিছু করতে না পারে, তবে এই শতাব্দীতে পঞ্চমবারের মতো ট্রফিশূন্য মৌসুম পার করতে হবে তাদের।

ইতিহাসে রেকর্ড ১৫ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ৩৬ বার লা লিগা জেতা রিয়াল মাদ্রিদ ব্যর্থতায় অভ্যস্ত নয়। এই শতাব্দীতে তারা মাত্র চারবার বড় কোনো শিরোপা ছাড়া মৌসুম শেষ করেছে। এমনকি যখন তারা বড় কোনো লিগ বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতেনি, তখনও তাদের হাতে উয়েফা সুপার কাপ বা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপের মতো কোনো না কোনো ট্রফি থাকত।

কিন্তু এই মৌসুমটি ছিল আগাগোড়াই অগোছালো। জাভি আলোনসো কোচ হিসেবে মৌসুম শুরু করলেও জানুয়ারিতে স্প্যানিশ সুপার কাপে হারের পর পদত্যাগ করেন। এরপর সাবেক সতীর্থ আলভারো আরবেলোয়া দায়িত্ব নিলেও শুরুতেই দ্বিতীয় বিভাগের দল আলবসেতের কাছে হেরে কোপা ডেল রে থেকে বিদায় নেয় রিয়াল। বায়ার্ন ম্যাচের আগে জুড বেলিংহাম বলেছিলেন, এই ম্যাচটি তাদের জন্য 'হয় সব, নয় কিছুই না'। শেষ পর্যন্ত রিয়ালের হাতে 'কিছুই' থাকল না।

একটা সময় ছিল যখন জিনেদিন জিদান বা কার্লো আনচেলত্তির অধীনে রিয়াল মাদ্রিদ মানেই ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হার না মানা এক শক্তি। প্রতিকূলতা যাই হোক, শেষ হাসি তারা হাসতই। কিন্তু আলোনসোকে দিয়ে যে নতুন যুগের শুরু করতে চেয়েছিল ক্লাবটি, তা টিকল মাত্র সাত মাস। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ থেকে স্থায়ী হওয়া আরবেলোয়ার ভবিষ্যৎ এখন সুতোয় ঝুলছে।

ম্যাচ শেষে আরবেলোয়া অকপটে নিজের দায় স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, "এই হারের জন্য আমিই দায়ী এবং এর পরিণাম যা হবে তা মেনে নিতে আমি প্রস্তুত। আমরা অত্যন্ত মর্মাহত এবং ক্ষুব্ধ। লা লিগা লড়াই এখন অনেক কঠিন, তবে শেষ দিন পর্যন্ত আমাদের লড়ে যেতে হবে। কারণ আমাদের এই লোগো বা ব্যাজের সম্মান রক্ষা করতে হবে।"

রিয়াল মাদ্রিদে ট্রফিশূন্য মৌসুম মানেই কোচের বিদায় ঘণ্টা- ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনি বা জিদানের ক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটেছিল। আরবেলোয়াও তা জানেন। তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, "ক্লাব যে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে আমি তা সম্মান করব। আমি হাড়মজ্জায় একজন রিয়াল মাদ্রিদ ভক্ত। নিজের চেয়েও এই ক্লাব, খেলোয়াড় আর সমর্থকদের আমি বেশি ভালোবাসি। আমার লক্ষ্য নিজেকে বড় কোচ প্রমাণ করা ছিল না, বরং খেলোয়াড় আর ক্লাবকে সাহায্য করা। শেষ দিন পর্যন্ত আমি সেটাই করে যাব।"