images

স্পোর্টস / ফুটবল

টানা দুই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিতে ওঠে আর্সেনালের ইতিহাস

স্পোর্টস ডেস্ক

১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০০ এএম

আর্সেনালের জন্য রাতটা ছিল চরম স্নায়ুচাপের। বুধবার স্পোর্টিং লিসবনের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে গোলশূন্য ড্র করলেও, প্রথম লেগের ১-০ ব্যবধানের জয় পুঁজি করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মিকেল আর্তেতার দল। তবে এমিরেটস স্টেডিয়ামে গানারদের পারফরম্যান্স ছিল একেবারেই সাদামাটা, বলা যায় ভাগ্যের জোরেই তারা উতরে গেছে।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আর্সেনাল এখন মুখোমুখি হবে আতলেতিকো মাদ্রিদের। মঙ্গলবার বার্সেলোনাকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে নাম লিখিয়েছে স্প্যানিশ এই ক্লাবটি। গত অক্টোবরে গ্রুপ পর্বে এই আতলেতিকোকেই ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল আর্সেনাল, কিন্তু ২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো ফাইনালে যেতে হলে তাদের বর্তমান খেলার ধরনে ব্যাপক উন্নতি করতে হবে।

ইতিহাসে এই প্রথম টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে উঠল আর্সেনাল। তবে শেষ পাঁচ ম্যাচের তিনটিতেই হার এবং মাত্র একটিতে জয়—সব মিলিয়ে মাঠের খেলায় দলটিকে বেশ ছন্দহীন দেখাচ্ছে। গত মঙ্গলবার আর্তেতা তার খেলোয়াড়দের "নির্ভীক" হয়ে খেলার আহ্বান জানিয়েছিলেন, কিন্তু মাঠে তার প্রতিফলন ছিল সামান্যই। বুকায়ো সাকা এবং মার্টিন ওডেগার্ডের অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগ ছিল ধীরগতির।

প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে আর্সেনালের দুর্বলতাগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। লিগ কাপের ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হার এবং এফএ কাপে নিচের সারির দল সাউদাম্পটনের কাছে হেরে বিদায় নেওয়াটা ছিল বেশ হতাশাজনক। তার ওপর গত শনিবার বোর্নমাউথের কাছে ২-১ গোলে হেরে যাওয়ায় দলের মানসিক শক্তি নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গেছে।

বর্তমানে লিগ টেবিলে সিটির চেয়ে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে থাকলেও আর্সেনাল স্বস্তিতে নেই। কারণ সিটির হাতে একটি ম্যাচ বেশি আছে এবং আগামী রবিবারই দুই দলের মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ লড়াই। গত তিন মৌসুমে রানার্সআপ হওয়া আর্সেনাল এবারও হোঁচট খাওয়ার শঙ্কায় সমর্থকদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ম্যাচের শুরুটা আর্সেনাল আক্রমণাত্মক করলেও ধীরে ধীরে রক্ষণভাগে তারা খেই হারিয়ে ফেলে। সাবেক স্পোর্টিং স্ট্রাইকার ভিক্টর গিয়োকেরেস আর্সেনালের জার্সিতে গোলমুখে নিজের ব্যর্থতা বজায় রেখেছেন। অন্যদিকে স্পোর্টিংয়ের ত্রিনকাও এবং জেনি কাটামো বেশ কয়েকবার আর্সেনাল রক্ষণে ত্রাস সৃষ্টি করেন, এমনকি কাটামোর একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে না এলে ম্যাচের গল্পটা অন্যরকম হতে পারত।

দ্বিতীয়ার্ধে আর্তেতা কাই হাভার্টজকে মাঠে নামিয়ে খেলায় গতি ফেরানোর চেষ্টা করেন। শেষ দিকে পেনাল্টির জন্য স্পোর্টিং জোরালো দাবি জানালেও রেফারি তাতে সাড়া দেননি। শেষ পর্যন্ত কোনোমতে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে গানাররা, যা কোচ আর্তেতাকে এক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ করে দিয়েছে।