images

স্পোর্টস / ক্রিকেট

পাঁচ ম্যাচে উইকেটহীন বুমরাহ, নেপথ্যে কী?

স্পোর্টস ডেস্ক

১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪০ পিএম

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে গতকালের ম্যাচে নিজের স্পেল শেষ করার পর হতাশায় মাটিতে লাথি মারতে দেখা গেল জাসপ্রিত বুমরাহকে। এই ক্ষোভ ছিল মূলত নিজের ওপরই, কারণ আরও একটি ম্যাচে পুরো কোটা বোলিং করেও কোনো উইকেটের দেখা পাননি তিনি।

আইপিএলের ইতিহাসে এটিই বুমরাহর সবচেয়ে দীর্ঘ উইকেটবিহীন সময়। এবারের আসরে এখন পর্যন্ত ৫ ম্যাচে বল করেও তিনি কোনো উইকেট নিতে পারেননি। তার এই ফর্মহীনতার প্রভাব মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ভাগ্যের ওপরও পড়েছে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে জয় দিয়ে আসর শুরু করলেও, এরপর দিল্লি ক্যাপিটালস, রাজস্থান রয়্যালস এবং আরসিবির কাছে হেরে পয়েন্ট টেবিলের আট নম্বরে নেমে গেছে তারা।

কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম সেরা এই বোলারের সাথে আসলে কী হচ্ছে? কেন তিনি একটি উইকেটের দেখা পেলেন না? উত্তরটি সম্ভবত লুকিয়ে আছে ২০২৬ আইপিএল মৌসুমে হার্দিক পান্ডিয়ার অধীনে তার ব্যবহারের ধরণ এবং ব্যাটারদের কৌশলের মধ্যে।

বুমরাহর স্পেলে ধারাবাহিকতার অভাব দেখছেন অনেকেই। বুমরাহর এই উইকেট খরা সরাসরিভাবে তার বোলিংয়ের সময় এবং ভূমিকার সাথে সম্পর্কিত। হার্দিক পান্ডিয়া গত চার ম্যাচে বুমরাহকে একেক সময় একেকভাবে ব্যবহার করেছেন।

এবারের আসরে বুমরাহর ওভারগুলো ছিল এমন:
বনাম কেকেআর: ৫, ১২, ১৮, ২০
বনাম ডিসি: ২, ৬, ১৩, ১৬
বনাম আরআর: ২, ৭, ১০
বনাম আরসিবি: ৪, ৬, ১৭, ১৯

দেখা যাচ্ছে, তার স্পেলের মধ্যে কোনো ধারাবাহিকতা নেই। তাকে মূলত রক্ষণাত্মক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যার কাজ হলো ইয়র্কার ও বৈচিত্র্য দিয়ে রানের গতি কমিয়ে রাখা। ফলে ব্যাটাররা তাকে দেখে-শুনে খেলছেন এবং কোনো ঝুঁকি নিচ্ছেন না।

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বোলিং কোচ লাসিথ মালিঙ্গা আরসিবি ম্যাচের সময় সম্প্রচারকারী চ্যানেলে বলেন যে, ইদানীং বোলাররা অতিরিক্ত বৈচিত্র্য ব্যবহার করছেন এবং ইয়র্কার কমিয়ে দিয়েছেন। মালিঙ্গার মতে, উইকেট নিতে হলে স্টক বলে ভরসা রাখা জরুরি এবং ওভারে সর্বোচ্চ এক বা দুটি বৈচিত্র্যময় ডেলিভারি করা উচিত। অতিরিক্ত বৈচিত্র্য অনেক সময় ব্যাটারদের জন্য কাজ সহজ করে দেয়।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সূর্যকুমার যাদব যেভাবে বুমরাহকে ব্যবহার করেছিলেন, হার্দিকের কৌশলের সাথে তার স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। সূর্যকুমার বুমরাহর জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রাখতেন, কখনো পাওয়ারপ্লে-তে দুই ওভার, কখনো বা মিডল অর্ডারের চাপে মাঝপথে বোলিং। কিন্তু বর্তমানে মুম্বাই দলে সেই স্বচ্ছ পরিকল্পনার অভাব দেখা যাচ্ছে।

তবে ভারতের সাবেক স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন মনে করেন, উইকেট না পাওয়াটা সবসময় বড় সমস্যা নয়। তার মতে, টি-টোয়েন্টিতে রানের গতি নিয়ন্ত্রণ করা উইকেট নেওয়ার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। অশ্বিন বলেন, ওয়াংখেড়ের মতো মাঠে ইয়র্কার দিয়ে রান আটকে রাখাটাই বড় কাজ। তবে তিনি হার্দিক পান্ডিয়ার কিছু ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন, বিশেষ করে রজত পাতিদারের মতো স্পিন-হিটারের সামনে মায়াঙ্ক মারকান্দেকে বোলিংয়ে আনার সিদ্ধান্তটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।

টানা তিন হারের পর মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এখন পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে ধুঁকছে। বুমরাহকে যদি আবারও তার বিধ্বংসী রূপে ফিরতে হয়, তবে অধিনায়ক হার্দিককে তার বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।