images

স্পোর্টস / অন্যান্য

ডোপিংয়ের দায়ে দুই বছর নিষিদ্ধ মাবিয়া আক্তার

ক্রীড়া প্রতিবেদক

১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

বাংলাদেশের ভারোত্তোলনে এক উজ্জ্বল নাম মাবিয়া আক্তার সীমান্তের ক্যারিয়ারে নেমে এসেছে বড় ধাক্কা। দুই বারের এসএ গেমস স্বর্ণপদকজয়ী এই অ্যাথলিট ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে দুই বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সব প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ হয়েছেন। সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যান্টি-ডোপিং অর্গানাইজেশন (সারাদো) ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সির (ওয়াদা) নিয়ম অনুসারে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে মাবিয়াকে এই নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়। গত বছর সৌদি আরবের রিয়াদে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের আগে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সেই নমুনায় নিষিদ্ধ পদার্থ ‘ডাইইউরেটিক্স’ (ওয়াটার পিলস) পাওয়া যায়। এই ধরনের ওষুধ শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের করে দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে। ওজনভিত্তিক খেলা ভারোত্তোলনে এটি বিশেষভাবে সংবেদনশীল, কারণ এটি অন্য নিষিদ্ধ উপাদান লুকিয়ে রাখার ‘মাস্কিং এজেন্ট’ হিসেবেও কাজ করতে পারে।

নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশের পর মাবিয়া গভীর হতাশা ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুসারেই ওষুধ খেয়েছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা আগেই জানিয়েছিলেন। তার কাছে সব প্রেসক্রিপশন এখনও সংরক্ষিত আছে। মাবিয়া বলেন, “এতদিন ধরে সব সেমিনারে আমাদের বলা হয়েছে—নাপা বা যেকোনো ওষুধ খেলে প্রেসক্রিপশন দেখাতে হবে। আমি ঠিক তাই করেছি। সবাই জানতো আমি কী মেডিকেশন নিচ্ছি। কিন্তু এখন শাস্তি হয়ে গেলে সব দোষ তো আমারই হয়ে যাবে।”

প্রেসক্রিপশন না দেখানোর অভিযোগ তিনি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। মাবিয়া জানান, “শফিক সাহেব বলছেন আমি প্রেসক্রিপশন দেখাইনি। কিন্তু আমি তাকে দেখিয়েছি।”

২৬ বছর বয়সী এই ভারোত্তোলক মাদারীপুরের মেয়ে। চরম দারিদ্র্য ও প্রতিকূল পরিবেশ থেকে উঠে এসে তিনি ২০১৬ সালে এসএ গেমসে (৬৩ কেজি বিভাগে) স্বর্ণ জিতে দেশকে গৌরবান্বিত করেন। ২০১৯ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসেও টানা দ্বিতীয়বার স্বর্ণপদক জয় করে বিরল কীর্তি গড়েন।

আন্তর্জাতিক অ্যান্টি-ডোপিং নিয়ম অনুসারে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। মাবিয়া জানিয়েছেন, ১৪ দিনের মধ্যে আপিল করবেন। আপিল প্রক্রিয়া সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত না হলেও তিনি বলেন, “আমি সব খোঁজ নিচ্ছি। প্রয়োজনে মার্সি (ক্ষমা) চেয়েও আপিল করতে পারি।”