images

স্পোর্টস / ফুটবল

ব্রাজিল ফুটবলের সোনালি যুগ কি আর ফিরবে? ব্যাখ্যা দিলেন রোমারিও

স্পোর্টস ডেস্ক

১১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩১ পিএম

ইউরোপের সব বড় ক্লাবে ব্রাজিলিয়ান তারকাদের ছড়াছড়ি। মাঠে তারা জাদু দেখান, গোলের বৃষ্টি নামান, ট্রফি জিতে আনেন। কিন্তু জাতীয় দলের হলুদ জার্সি গায়ে চড়ালেই যেন সেই জাদু হারিয়ে যায়। পেলে-রোনালদো-রোনালদিনহো-রিভালদোর সেই অজেয় ব্রাজিল এখন শুধুই স্মৃতি। ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ জিততে পারেনি পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। ২০২৬ বিশ্বকাপের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ব্রাজিলের সমস্যা কোথায়- দলীয় সমন্বয়ের অভাব, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি, নাকি অতিরিক্ত চাপ?

ব্রাজিলের ১৯৯৪ বিশ্বকাপ জয়ী কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড রোমারিও সম্প্রতি ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব দিয়েছেন। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে, তার দেশের ফুটবল এখন কারিগরি দিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে।

রোমারিও বলেন, “রোনালদো, রোনালদিনহো ও রিভালদোর প্রজন্মের পর থেকেই ব্রাজিলের অবস্থা কঠিন হয়ে গেছে। তারপর আমরা পুরোপুরি একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি; সে হলো নেইমার।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ব্রাজিলের তরুণ প্রতিভারা খুব ছোট বয়সেই ইউরোপে চলে যাচ্ছেন। সেখানে ছোট ছোট ক্লাবে খেলতে গিয়ে তাদের নিজস্ব ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ‘ডিএনএ’ হারিয়ে ফেলছেন। ফলে জাতীয় দলে সেই ঐতিহ্যবাহী স্টাইল আর দেখা যায় না।

জাতীয় দলের প্রতি ব্রাজিলিয়ানদের আগের মতো উৎসাহও কমে গেছে বলে মনে করেন রোমারিও। তবে তিনি পুরোপুরি হতাশ নন। তার মতে, ব্রাজিলের ইতিহাস ও অভিজ্ঞতা এখনও তাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। বিশেষ করে যদি নেইমার আবার পুরোনো ফর্মে ফিরে আসেন, তাহলে দলের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।

সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন রোমারিও। ১৯৯৪ সালে ব্যালন ডি’অর না পাওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “সেবার শুধু ইউরোপীয় খেলোয়াড়দেরকেই যোগ্য মনে করা হতো। আমি জানি না সহজেই জিততাম কি না, তবে আমি যে খুব শক্তিশালী দাবিদার ছিলাম, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।” তবে তার বার্সেলোনা সতীর্থ ক্রিস্টো স্তোইচকভের প্রতি কোনো অভিযোগ নেই। রোমারিও বলেন, “স্তোইচকভও পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য ছিলেন। আজও তিনি আমার আজীবনের বন্ধু।”